সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার ক্ষত ও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি নৃত্যে মুখরিত জাবালিয়া; বুকভরা বেদনা চেপে নতুন জীবন শুরু করলেন ১৫০ বর-কনে

উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপের বুকে ১৫০ ফিলিস্তিনি যুগল তরুণ-তরুণীর গণবিয়ে



উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপের বুকে ১৫০ ফিলিস্তিনি যুগল তরুণ-তরুণীর গণবিয়ে

উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ধসে পড়া একটি কমিউনিটি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের ওপর আয়োজিত হলো এক অভূতপূর্ব গণবিয়ে। বেসরকারি দাতব্য সংস্থা "গউথ" (Gouth)-এর উদ্যোগে "উত্তরের আনন্দ: ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বপ্ন" শ্লোগানে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আসা ১৫০ জন বর ও কনে এই গণবিয়েতে অংশ নেন। বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসন, বোমাবর্ষণ এবং প্রিয়জন হারানোর তীব্র বেদনার মাঝেই শত শত ফিলিস্তিনি এই উৎসবে শামিল হয়ে প্রমাণ করেছেন যে, সমস্ত বর্বরতা উপেক্ষা করেও তারা জীবনকে ভালোবাসেন এবং নিজেদের মাতৃভূমিতেই টিকে থাকতে চান।

ইসরাইলের নির্মম ও বর্বরতম ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী এক গণহত্যার ক্ষত এখনো দগদগে ফিলিস্তিনের উত্তর গাজা জুড়ে। চারিদিকে শুধু ভাঙা কংক্রিট, ধূলিসাৎ হওয়া ঘরবাড়ি আর প্রিয়জন হারানোর হাহাকার। কিন্তু সেই মহাশ্মশানের বুকেই গত রোববার রাতে বেজে উঠল আনন্দের সুর। দীর্ঘ আড়াই বছর পর উত্তর গাজার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলো ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী উলুধ্বনি (জাগারিদ) এবং লোকনৃত্য ‘দাবকা’। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অবস্থানস্থল থেকে মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি আংশিক সংস্কারকৃত ধ্বংসপ্রাপ্ত কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো ১৫০ জোড়া বর-কনের এক বিশাল গণবিয়ে।

বেসরকারি ফিলিস্তিনি দাতব্য সংস্থা "গউথ" (Gouth)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়—"আফরাহ আল-শামাল.. আহলাম মিন আল-রুকাম" (উত্তরের আনন্দ.. ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বপ্ন)। নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা গাজার তরুণ সমাজকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মনে আশার আলো পুনরুজ্জীবিত করতেই এই সাহসী উদ্যোগ।

শোককে শক্তিতে রূপান্তর

এই গণবিয়েতে অংশ নেওয়া অন্যতম বর ইয়াহিয়া আবু আল-কিমসান। এই যুদ্ধে তিনি তার অতি আপনজনদের হারিয়েছেন, হারিয়েছেন নিজের বৃহৎ বংশের অন্তত ২০০ জন আত্মীয়কে। বুকভরা এই তীব্র বেদনা নিয়েও ইয়াহিয়া বিয়ের পোশাকে মৃদু হাসছিলেন। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "উত্তর গাজায় এত বোমাবর্ষণ এবং ধ্বংসযজ্ঞের পরও, বাবা-মা, ভাইবোন ও বন্ধুদের হারানোর তীব্র শোক বুকে চেপেও আমরা আজ এখানে এসেছি। আমরা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই—গাজা জীবনকে ভালোবাসে এবং নিজেরা সেই জীবন সৃষ্টি করে।"

দৃঢ় কণ্ঠে ইয়াহিয়া আরও বলেন, "আজকের এই আনন্দের আয়োজন আসলে একটি অঙ্গীকারনামা। এটি বিশ্বের বুকে আমাদের টিকে থাকার দলিল। আমরা আমাদের পবিত্র মাটিতেই থিতু থাকব এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই নতুন আশার বীজ বপন করব। যে যুদ্ধের কারণে প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ কেবল কান্না, আমরা চেয়েছি সেই ঘরগুলোতে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও হাসির আলো ফোটাতে।"

আমরা ফিলিস্তিনের মাটিতেই মর্যাদার সাথে মরবো, তবু মাটি ছাড়ব না

জাবালিয়া ক্যাম্পের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং গোত্রপ্রধান মুখতার নিমর আল-মাকুসি এই বিয়েতে উপস্থিত থেকে বর-কনেদের আশীর্বাদ করেন। তিনি আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আয়োজন প্রমাণ করে যে, ইহুদিবাদীদের চালানো এত বড় গণহত্যার পরও ফিলিস্তিনিরা ফুরিয়ে যায়নি। এই উৎসব আমাদের টিকে থাকার সংগ্রামকে আরও বেগবান করে। আমরা দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়েও হাসতে জানি। আমরা এই পবিত্র ফিলিস্তিনের মাটিতেই আমৃত্যু পাহারাদারের (মুরাবিতুন) মতো টিকে থাকব।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব যুদ্ধ এবং স্থানচ্যুতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শত শত ফিলিস্তিনির ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে কিছুটা হলেও মলম লাগাতে পারবে।

বরদের একজন মা, উম্মে মুয়াজ আবু শাদি বলেন, "আজ আমার আনন্দের কোনো সীমা নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই অঞ্চলে কোনো সামাজিক উৎসব বা আনন্দের ছিটেফোঁটাও ছিল না। এই গণবিয়ে আমাদের সেই আনন্দকে ফিরিয়ে দিয়েছে যা আমরা বহু বছর আগে হারিয়ে ফেলেছিলাম। গাজার মানুষেরও তো স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে!"

সংস্থার মানবিক উদ্যোগ ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক তামের আবু ওলবা জানান, উত্তর গাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং অবরুদ্ধ এলাকা, যেখানে মানুষ বছরের পর বছর ধরে অনাহার, বোমাবর্ষণ ও উচ্ছেদের শিকার হয়েছে, সেখান থেকেই এই ১৫০ জোড়া বর-কনেকে নির্বাচন করা হয়েছে। দাতব্য সংস্থা "গউথ"-এর পক্ষ থেকে নবদম্পতিদের নতুন সংসার শুরু করার জন্য আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়েছে, যাতে বর্তমান চরম অর্থনৈতিক সংকটের বাজারে তারা কিছুটা স্বস্তি পান।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বর্ণবাদী ইসরাইল সেই চুক্তির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত পথগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যার ফলে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ, ওষুধ এবং পুনর্বাসনের সামগ্রী পৌঁছাতে পারছে না। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজা থেকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরাতেই আরও কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের এই সাহসী সন্তানরা জাতিসংঘের রিপোর্টের অপেক্ষা করেননি। গত রোববার সন্ধ্যায় যখন চারিদিকে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উড়ছিল, রঙিন আলোয় সেজেছিল ভাঙা দেয়ালগুলো, তখন পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা বিশালাকার ধ্বংসস্তূপগুলোই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছিল—পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি ফিলিস্তিনিদের বুক থেকে স্বাধীনতার স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার আকুতিকে মুছে দিতে পারবে না।

গাজার এই বীর মায়েরা এবং যুবকেরা প্রমাণ করেছেন, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে মার্কিন সমর্থনে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বরতায় যেখানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, সেখানে প্রতিটি ফিলিস্তিনি নাগরিক একেকজন জীবন্ত প্রতিরোধ যোদ্ধা।

বিষয় : গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


উত্তর গাজায় ধ্বংসস্তূপের বুকে ১৫০ ফিলিস্তিনি যুগল তরুণ-তরুণীর গণবিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

উত্তর গাজা উপত্যকার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ধসে পড়া একটি কমিউনিটি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের ওপর আয়োজিত হলো এক অভূতপূর্ব গণবিয়ে। বেসরকারি দাতব্য সংস্থা "গউথ" (Gouth)-এর উদ্যোগে "উত্তরের আনন্দ: ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বপ্ন" শ্লোগানে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আসা ১৫০ জন বর ও কনে এই গণবিয়েতে অংশ নেন। বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি আগ্রাসন, বোমাবর্ষণ এবং প্রিয়জন হারানোর তীব্র বেদনার মাঝেই শত শত ফিলিস্তিনি এই উৎসবে শামিল হয়ে প্রমাণ করেছেন যে, সমস্ত বর্বরতা উপেক্ষা করেও তারা জীবনকে ভালোবাসেন এবং নিজেদের মাতৃভূমিতেই টিকে থাকতে চান।

ইসরাইলের নির্মম ও বর্বরতম ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী এক গণহত্যার ক্ষত এখনো দগদগে ফিলিস্তিনের উত্তর গাজা জুড়ে। চারিদিকে শুধু ভাঙা কংক্রিট, ধূলিসাৎ হওয়া ঘরবাড়ি আর প্রিয়জন হারানোর হাহাকার। কিন্তু সেই মহাশ্মশানের বুকেই গত রোববার রাতে বেজে উঠল আনন্দের সুর। দীর্ঘ আড়াই বছর পর উত্তর গাজার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলো ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী উলুধ্বনি (জাগারিদ) এবং লোকনৃত্য ‘দাবকা’। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অবস্থানস্থল থেকে মাত্র কয়েক শ’ মিটার দূরে, জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি আংশিক সংস্কারকৃত ধ্বংসপ্রাপ্ত কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো ১৫০ জোড়া বর-কনের এক বিশাল গণবিয়ে।

বেসরকারি ফিলিস্তিনি দাতব্য সংস্থা "গউথ" (Gouth)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়—"আফরাহ আল-শামাল.. আহলাম মিন আল-রুকাম" (উত্তরের আনন্দ.. ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বপ্ন)। নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা গাজার তরুণ সমাজকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মনে আশার আলো পুনরুজ্জীবিত করতেই এই সাহসী উদ্যোগ।

শোককে শক্তিতে রূপান্তর

এই গণবিয়েতে অংশ নেওয়া অন্যতম বর ইয়াহিয়া আবু আল-কিমসান। এই যুদ্ধে তিনি তার অতি আপনজনদের হারিয়েছেন, হারিয়েছেন নিজের বৃহৎ বংশের অন্তত ২০০ জন আত্মীয়কে। বুকভরা এই তীব্র বেদনা নিয়েও ইয়াহিয়া বিয়ের পোশাকে মৃদু হাসছিলেন। আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "উত্তর গাজায় এত বোমাবর্ষণ এবং ধ্বংসযজ্ঞের পরও, বাবা-মা, ভাইবোন ও বন্ধুদের হারানোর তীব্র শোক বুকে চেপেও আমরা আজ এখানে এসেছি। আমরা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই—গাজা জীবনকে ভালোবাসে এবং নিজেরা সেই জীবন সৃষ্টি করে।"

দৃঢ় কণ্ঠে ইয়াহিয়া আরও বলেন, "আজকের এই আনন্দের আয়োজন আসলে একটি অঙ্গীকারনামা। এটি বিশ্বের বুকে আমাদের টিকে থাকার দলিল। আমরা আমাদের পবিত্র মাটিতেই থিতু থাকব এবং ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই নতুন আশার বীজ বপন করব। যে যুদ্ধের কারণে প্রতিটি ঘরে ঘরে আজ কেবল কান্না, আমরা চেয়েছি সেই ঘরগুলোতে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও হাসির আলো ফোটাতে।"

আমরা ফিলিস্তিনের মাটিতেই মর্যাদার সাথে মরবো, তবু মাটি ছাড়ব না

জাবালিয়া ক্যাম্পের অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং গোত্রপ্রধান মুখতার নিমর আল-মাকুসি এই বিয়েতে উপস্থিত থেকে বর-কনেদের আশীর্বাদ করেন। তিনি আবেগপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আয়োজন প্রমাণ করে যে, ইহুদিবাদীদের চালানো এত বড় গণহত্যার পরও ফিলিস্তিনিরা ফুরিয়ে যায়নি। এই উৎসব আমাদের টিকে থাকার সংগ্রামকে আরও বেগবান করে। আমরা দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়েও হাসতে জানি। আমরা এই পবিত্র ফিলিস্তিনের মাটিতেই আমৃত্যু পাহারাদারের (মুরাবিতুন) মতো টিকে থাকব।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উৎসব যুদ্ধ এবং স্থানচ্যুতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া শত শত ফিলিস্তিনির ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে কিছুটা হলেও মলম লাগাতে পারবে।

বরদের একজন মা, উম্মে মুয়াজ আবু শাদি বলেন, "আজ আমার আনন্দের কোনো সীমা নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই অঞ্চলে কোনো সামাজিক উৎসব বা আনন্দের ছিটেফোঁটাও ছিল না। এই গণবিয়ে আমাদের সেই আনন্দকে ফিরিয়ে দিয়েছে যা আমরা বহু বছর আগে হারিয়ে ফেলেছিলাম। গাজার মানুষেরও তো স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে!"

সংস্থার মানবিক উদ্যোগ ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতি

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক তামের আবু ওলবা জানান, উত্তর গাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং অবরুদ্ধ এলাকা, যেখানে মানুষ বছরের পর বছর ধরে অনাহার, বোমাবর্ষণ ও উচ্ছেদের শিকার হয়েছে, সেখান থেকেই এই ১৫০ জোড়া বর-কনেকে নির্বাচন করা হয়েছে। দাতব্য সংস্থা "গউথ"-এর পক্ষ থেকে নবদম্পতিদের নতুন সংসার শুরু করার জন্য আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়েছে, যাতে বর্তমান চরম অর্থনৈতিক সংকটের বাজারে তারা কিছুটা স্বস্তি পান।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বর্ণবাদী ইসরাইল সেই চুক্তির তোয়াক্কা না করে সীমান্ত পথগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যার ফলে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ, ওষুধ এবং পুনর্বাসনের সামগ্রী পৌঁছাতে পারছে না। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজা থেকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরাতেই আরও কয়েক বছর সময় লেগে যাবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের এই সাহসী সন্তানরা জাতিসংঘের রিপোর্টের অপেক্ষা করেননি। গত রোববার সন্ধ্যায় যখন চারিদিকে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উড়ছিল, রঙিন আলোয় সেজেছিল ভাঙা দেয়ালগুলো, তখন পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা বিশালাকার ধ্বংসস্তূপগুলোই যেন সাক্ষ্য দিচ্ছিল—পৃথিবীর কোনো পরাশক্তি ফিলিস্তিনিদের বুক থেকে স্বাধীনতার স্বপ্ন আর বেঁচে থাকার আকুতিকে মুছে দিতে পারবে না।

গাজার এই বীর মায়েরা এবং যুবকেরা প্রমাণ করেছেন, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে মার্কিন সমর্থনে শুরু হওয়া ইসরাইলি বর্বরতায় যেখানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, সেখানে প্রতিটি ফিলিস্তিনি নাগরিক একেকজন জীবন্ত প্রতিরোধ যোদ্ধা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ