সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিমদের দেশদ্রোহী সাজাতে শিশুকে দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ালো উত্তরপ্রদেশের দুই হিন্দুত্ববাদী

মুসলিমদের ফাঁসাতে মহররমের মিছিলে শিশুকে দিয়ে পাকিস্তান স্লোগান, ২ হিন্দুত্ববাদী গ্রেফতার



মুসলিমদের ফাঁসাতে মহররমের মিছিলে শিশুকে দিয়ে পাকিস্তান স্লোগান, ২ হিন্দুত্ববাদী গ্রেফতার

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় পবিত্র মহররমের মিছিলে এক শিশুকে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে দুই হিন্দুত্ববাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২১ জুন হাফিজগঞ্জ থানার খাইখেদা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মূলত স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশদ্রোহী হিসেবে ফাঁসানো এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তে এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে দুই হিন্দু যুবককে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়কেtargeted হয়রানি ও দেশদ্রোহিতার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর এক ভয়াবহ চক্রান্ত নস্যাৎ করেছে স্থানীয় পুলিশ। বেরেলি জেলার হাফিজগঞ্জ থানার অন্তর্গত খাইখেদা গ্রামে পবিত্র মহররমের মিছিলে এক অবুঝ শিশুকে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানোর অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের নাম যোগেন্দ্র পাল ওরফে জামান সিং এবং ভুবনেশ কুমার ওরফে তেজপাল সিং। তারা দুজনেই স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার লোক বলে জানা গেছে।

যেভাবে সামনে এলো চক্রান্ত

গত ২১ জুন খাইখেদা গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের মহররমের ঐতিহ্যবাহী মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই মিছিলে এক শিশুকে কৌশলে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানো হয়। পরবর্তীতে চক্রান্তকারীরা সেই স্লোগানের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল করে দাবি করা হয় যে, "মহররমের মিছিলে মুসলিমরা দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।" এই পোস্টের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মুসলিমদের আইনি ও সামাজিকভাবে বিপদে ফেলা এবং এলাকায় দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করা।

সম্প্রীতির গ্রামে ক্ষোভ ও স্বস্তি

খাইখেদা গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছেন। এই ঘটনার পর গ্রামের সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের পর স্বস্তি প্রকাশ করেন।

গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা কওমি টাইমসকে বলেন, "আমাদের এই গ্রামটি অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ। আমার জন্ম এখানে, আমার পূর্বপুরুষরাও এখানে বড় হয়েছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ সবসময় মিলেমিশে থাকে। কিন্তু দুই-তিনজন মানুষ নোংরা রাজনীতি করছে এবং এবার তারা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শান্তি নষ্ট করার জন্য তারা একটা ছোট বাচ্চাকে ব্যবহার করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়াল। আমরা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের ধরেছে।"

অভিযুক্তরা অভ্যাসগত অপরাধী

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেফতারকৃত যোগেন্দ্র পাল একজন অভ্যাসগত অপরাধী। সে স্থানীয় ইমামবাড়ার কাছেই বসবাস করে এবং এর আগেও বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছে। বিগত বছরগুলোতে সে একাধিকবার পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যে মুসলিমরা মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

অন্য এক বাসিন্দা জানান, "সে নিজেই এই স্লোগান দেওয়ানোর পেছনে ছিল এবং এখন আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল। এর আগে অন্য এক মুসলিম উৎসবের সময় সে ছোট ছোট শিশুদের হাতে জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ পতাকা দিয়ে মিছিলের ভেতর পাঠিয়ে দিয়েছিল যাতে ঝামেলা বাধে। তখন পুলিশ সেই শিশুদের আটক করলে আমরাই মানবিকতার খাতিরে থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে এনেছিলাম, যাতে বাচ্চাদের জীবন নষ্ট না হয়। অথচ সেই উদারতার বিনিময়ে আজ তারা আমাদের ওপর এই চরম আঘাত হানল।"

আইনি পদক্ষেপ

নবাবগঞ্জের সার্কেল অফিসার (সিও) নীলেশ মিশ্র এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি নিয়ে পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে যে, এই দুই ব্যক্তি অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে শিশুটিকে ওই স্লোগান দিতে বাধ্য করেছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


মুসলিমদের ফাঁসাতে মহররমের মিছিলে শিশুকে দিয়ে পাকিস্তান স্লোগান, ২ হিন্দুত্ববাদী গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় পবিত্র মহররমের মিছিলে এক শিশুকে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে দুই হিন্দুত্ববাদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২১ জুন হাফিজগঞ্জ থানার খাইখেদা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মূলত স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশদ্রোহী হিসেবে ফাঁসানো এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তে এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে দুই হিন্দু যুবককে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়কেtargeted হয়রানি ও দেশদ্রোহিতার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর এক ভয়াবহ চক্রান্ত নস্যাৎ করেছে স্থানীয় পুলিশ। বেরেলি জেলার হাফিজগঞ্জ থানার অন্তর্গত খাইখেদা গ্রামে পবিত্র মহররমের মিছিলে এক অবুঝ শিশুকে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানোর অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের নাম যোগেন্দ্র পাল ওরফে জামান সিং এবং ভুবনেশ কুমার ওরফে তেজপাল সিং। তারা দুজনেই স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার লোক বলে জানা গেছে।

যেভাবে সামনে এলো চক্রান্ত

গত ২১ জুন খাইখেদা গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের মহররমের ঐতিহ্যবাহী মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই মিছিলে এক শিশুকে কৌশলে উসকানি দিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়ানো হয়। পরবর্তীতে চক্রান্তকারীরা সেই স্লোগানের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল করে দাবি করা হয় যে, "মহররমের মিছিলে মুসলিমরা দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।" এই পোস্টের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মুসলিমদের আইনি ও সামাজিকভাবে বিপদে ফেলা এবং এলাকায় দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করা।

সম্প্রীতির গ্রামে ক্ষোভ ও স্বস্তি

খাইখেদা গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছেন। এই ঘটনার পর গ্রামের সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের পর স্বস্তি প্রকাশ করেন।

গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা কওমি টাইমসকে বলেন, "আমাদের এই গ্রামটি অত্যন্ত চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ। আমার জন্ম এখানে, আমার পূর্বপুরুষরাও এখানে বড় হয়েছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ সবসময় মিলেমিশে থাকে। কিন্তু দুই-তিনজন মানুষ নোংরা রাজনীতি করছে এবং এবার তারা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শান্তি নষ্ট করার জন্য তারা একটা ছোট বাচ্চাকে ব্যবহার করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়াল। আমরা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা কোনো পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের ধরেছে।"

অভিযুক্তরা অভ্যাসগত অপরাধী

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেফতারকৃত যোগেন্দ্র পাল একজন অভ্যাসগত অপরাধী। সে স্থানীয় ইমামবাড়ার কাছেই বসবাস করে এবং এর আগেও বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করেছে। বিগত বছরগুলোতে সে একাধিকবার পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যে মুসলিমরা মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

অন্য এক বাসিন্দা জানান, "সে নিজেই এই স্লোগান দেওয়ানোর পেছনে ছিল এবং এখন আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছিল। এর আগে অন্য এক মুসলিম উৎসবের সময় সে ছোট ছোট শিশুদের হাতে জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ পতাকা দিয়ে মিছিলের ভেতর পাঠিয়ে দিয়েছিল যাতে ঝামেলা বাধে। তখন পুলিশ সেই শিশুদের আটক করলে আমরাই মানবিকতার খাতিরে থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে এনেছিলাম, যাতে বাচ্চাদের জীবন নষ্ট না হয়। অথচ সেই উদারতার বিনিময়ে আজ তারা আমাদের ওপর এই চরম আঘাত হানল।"

আইনি পদক্ষেপ

নবাবগঞ্জের সার্কেল অফিসার (সিও) নীলেশ মিশ্র এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি নিয়ে পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে যে, এই দুই ব্যক্তি অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে শিশুটিকে ওই স্লোগান দিতে বাধ্য করেছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ