যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে টানা তৃতীয় বছরের মতো নবজাতক পুত্রসন্তানদের নামের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘মুহাম্মদ’ (Muhammad)। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি মুসলিম পরিবারের গভীর সংযোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পরিসংখ্যানকে।
পশ্চিমা সংস্কৃতির কেন্দ্রে মুসলিম ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রকাশ দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) কর্তৃক বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৫ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে এবং বিগত টানা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিম নবজাতকদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হিসেবে ‘মুহাম্মদ’ তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে মোট ৫ হাজার ৯৫৭ জন নবজাতক ছেলের নাম রাখা হয়েছে ‘মুহাম্মদ’। এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, মুসলিম পরিবারগুলো তাদের নতুন প্রজন্মের প্রথম পরিচয় হিসেবে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র নামকে অত্যন্ত গর্বের সাথে বেছে নিচ্ছেন।
ওএনএস (ONS) তাদের তালিকায় জানায়, মুসলিম প্রধান এই নামের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘নোহ’ (Noah) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘লিও’ (Leo)।
অন্যদিকে, নবজাতক কন্যা সন্তানদের নামের ক্ষেত্রে ‘অলিভিয়া’ (Olivia) ২ হাজার ৩৮৬ জন শিশুর নামকরণের মাধ্যমে টানা দশম বছরের মতো তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। মেয়েদের নামের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ‘লিলি’ (Lily) এবং ‘আমেলিয়া’ (Amelia)।
ইউরোপের দেশগুলোতে যেখানে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণার চেষ্টা চালানো হয়, সেখানে এই পরিসংখ্যান মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য এবং মূল্যবোধ ধরে রাখতে সচেষ্ট। একই সাথে এটি বহুমাত্রিক সমাজে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যাগত এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক অনস্বীকার্য দলিল।
বিষয় : যুক্তরাজ্য

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে টানা তৃতীয় বছরের মতো নবজাতক পুত্রসন্তানদের নামের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘মুহাম্মদ’ (Muhammad)। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি মুসলিম পরিবারের গভীর সংযোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পরিসংখ্যানকে।
পশ্চিমা সংস্কৃতির কেন্দ্রে মুসলিম ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রকাশ দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS) কর্তৃক বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৫ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে এবং বিগত টানা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিম নবজাতকদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম হিসেবে ‘মুহাম্মদ’ তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে মোট ৫ হাজার ৯৫৭ জন নবজাতক ছেলের নাম রাখা হয়েছে ‘মুহাম্মদ’। এটি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। পরিসংখ্যানটি প্রমাণ করে যে, মুসলিম পরিবারগুলো তাদের নতুন প্রজন্মের প্রথম পরিচয় হিসেবে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র নামকে অত্যন্ত গর্বের সাথে বেছে নিচ্ছেন।
ওএনএস (ONS) তাদের তালিকায় জানায়, মুসলিম প্রধান এই নামের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘নোহ’ (Noah) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ‘লিও’ (Leo)।
অন্যদিকে, নবজাতক কন্যা সন্তানদের নামের ক্ষেত্রে ‘অলিভিয়া’ (Olivia) ২ হাজার ৩৮৬ জন শিশুর নামকরণের মাধ্যমে টানা দশম বছরের মতো তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। মেয়েদের নামের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ‘লিলি’ (Lily) এবং ‘আমেলিয়া’ (Amelia)।
ইউরোপের দেশগুলোতে যেখানে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণার চেষ্টা চালানো হয়, সেখানে এই পরিসংখ্যান মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য এবং মূল্যবোধ ধরে রাখতে সচেষ্ট। একই সাথে এটি বহুমাত্রিক সমাজে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যাগত এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক অনস্বীকার্য দলিল।

আপনার মতামত লিখুন