শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পূর্ব তুর্কিস্তানে (সিনজিয়াং) মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চিনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শোষণের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ; মোট নিষিদ্ধ সংস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৮৭-তে

উইগুর মুসলিমদের ‘দাস শ্রমে’ তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ: আরও ৪৩টি চীনা কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা



উইগুর মুসলিমদের ‘দাস শ্রমে’ তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ: আরও ৪৩টি চীনা কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

পূর্ব তুর্কিস্তানের (সিনজিয়াং) উইগুর মুসলিমসহ অন্যান্য তুর্কিক ও মুসলিম সংখ্যালঘুদের বাধ্যতামূলক ‘দাস শ্রমে’ জোরপূর্বক নিয়োজিত করার অভিযোগে চীনের আরও ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 'উইগুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট' (UFLPA)-এর অধীনে গঠিত মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে, এসব চীনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক মহলে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় একক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জিনজিয়াং বা ঐতিহাসিক পূর্ব তুর্কিস্তানে উইগুর ও তুর্কিক ভাষার মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বেইজিং প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও দাস-শ্রমের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (DHS) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উইগুর মুসলিমদের মাধ্যমে জোরপূর্বক কাজ করানোর অভিযোগে জিনজিয়াং অঞ্চলে সক্রিয় আরও ৪৩টি নতুন চীনা কোম্পানিকে তাদের তৈরি পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। একই সাথে আগে থেকেই তালিকায় থাকা আরও ২টি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

এই ৪৩টি নতুন নাম যুক্ত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের UFLPA তালিকার মোট নিষিদ্ধ চীনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ১৮৭-তে পৌঁছেছে। এটি পূর্ববর্তী তালিকার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এবারই প্রথম কোনো একক পদক্ষেপে এত বিপুল সংখ্যক চীনা সংস্থাকে একযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিন জোর দিয়ে বলেন, "আমেরিকান শ্রমিকরা কোনোভাবেই দাস শ্রম বা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে বিদেশি অসৎ প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতারিত বা বঞ্চিত হতে পারে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তৈরি পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"

উইগুর মুসলিমদের ওপর চীনের নির্যাতন:

গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে আসছে যে, চীন সরকার জিনজিয়াং অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ উইগুর ও অন্যান্য মুসলিমদের বিশাল সামরিক কায়দার বন্দিশিবিরে (Re-education Camps) আটকে রেখে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় "জোরপূর্বক শ্রমে" বাধ্য করছে। এসব বন্দিশিবির ও কারখানায় মুসলিমদের ধর্মীয় চর্চায় বাধা দেওয়া ছাড়াও চরম নির্যাতন ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি মুছে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবে ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেস "উইগুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট" (UFLPA) পাস করে। এই আইনের মূল কথা হলো—জিনজিয়াং অঞ্চলে উৎপাদিত সমস্ত পণ্যই "জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি" বলে গণ্য হবে, যতক্ষণ না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে শতভাগ প্রমাণ করতে পারে যে সেখানে কোনো দাস শ্রম ব্যবহার করা হয়নি।

আমেরিকান তথ্য অনুযায়ী, এই আইন বাস্তবায়নের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫টি প্রধান চীনা সরবরাহকারী সংস্থাকে সরাসরি এই দাস শ্রমে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে স্থায়ী বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থী নীতি ও মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার হরণের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : মানবাধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীন উইগুর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


উইগুর মুসলিমদের ‘দাস শ্রমে’ তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ: আরও ৪৩টি চীনা কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পূর্ব তুর্কিস্তানের (সিনজিয়াং) উইগুর মুসলিমসহ অন্যান্য তুর্কিক ও মুসলিম সংখ্যালঘুদের বাধ্যতামূলক ‘দাস শ্রমে’ জোরপূর্বক নিয়োজিত করার অভিযোগে চীনের আরও ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 'উইগুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট' (UFLPA)-এর অধীনে গঠিত মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) জানিয়েছে, এসব চীনা প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক মহলে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় একক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জিনজিয়াং বা ঐতিহাসিক পূর্ব তুর্কিস্তানে উইগুর ও তুর্কিক ভাষার মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বেইজিং প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও দাস-শ্রমের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (DHS) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উইগুর মুসলিমদের মাধ্যমে জোরপূর্বক কাজ করানোর অভিযোগে জিনজিয়াং অঞ্চলে সক্রিয় আরও ৪৩টি নতুন চীনা কোম্পানিকে তাদের তৈরি পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। একই সাথে আগে থেকেই তালিকায় থাকা আরও ২টি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

এই ৪৩টি নতুন নাম যুক্ত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের UFLPA তালিকার মোট নিষিদ্ধ চীনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ১৮৭-তে পৌঁছেছে। এটি পূর্ববর্তী তালিকার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এবারই প্রথম কোনো একক পদক্ষেপে এত বিপুল সংখ্যক চীনা সংস্থাকে একযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিন জোর দিয়ে বলেন, "আমেরিকান শ্রমিকরা কোনোভাবেই দাস শ্রম বা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে বিদেশি অসৎ প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতারিত বা বঞ্চিত হতে পারে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তৈরি পণ্য মার্কিন বাজারে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"

উইগুর মুসলিমদের ওপর চীনের নির্যাতন:

গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে আসছে যে, চীন সরকার জিনজিয়াং অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ উইগুর ও অন্যান্য মুসলিমদের বিশাল সামরিক কায়দার বন্দিশিবিরে (Re-education Camps) আটকে রেখে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় "জোরপূর্বক শ্রমে" বাধ্য করছে। এসব বন্দিশিবির ও কারখানায় মুসলিমদের ধর্মীয় চর্চায় বাধা দেওয়া ছাড়াও চরম নির্যাতন ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি মুছে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবে ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেস "উইগুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট" (UFLPA) পাস করে। এই আইনের মূল কথা হলো—জিনজিয়াং অঞ্চলে উৎপাদিত সমস্ত পণ্যই "জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি" বলে গণ্য হবে, যতক্ষণ না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে শতভাগ প্রমাণ করতে পারে যে সেখানে কোনো দাস শ্রম ব্যবহার করা হয়নি।

আমেরিকান তথ্য অনুযায়ী, এই আইন বাস্তবায়নের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫টি প্রধান চীনা সরবরাহকারী সংস্থাকে সরাসরি এই দাস শ্রমে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে স্থায়ী বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থী নীতি ও মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার হরণের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ