মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ISPU)-এর গবেষণা পরিচালক সাহের সেলোড আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দেশের সব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিমরাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সাহের সেলোড উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল রাজনৈতিক মতাদর্শই বর্তমানে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। জরিপ অনুযায়ী, বিগত এক বছরে দেশটির প্রায় ৬৩ শতাংশ মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন, যা অন্যান্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে অনেক বেশি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থী রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে ইসলামফোবিক ভাষার প্রয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেট অ্যাসেম্বলি ও কংগ্রেসে একের পর এক মুসলিমবিরোধী বিল উত্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের প্রতিনিধি কিথ সেলফ-এর নেতৃত্বে মার্কিন আইনসভায় "শরিয়ামুক্ত আমেরিকা গোষ্ঠী" (America Without Sharia Group) নামে একটি ইসলামবিরোধী জোট গঠিত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসম্যান চিপ রয় বিদেশি মুসলিম আলেম ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে 'ইমাম অ্যাক্ট' (IMAM Act) এবং 'মামদানি অ্যাক্ট' (Mamdani Act) নামক দুটি বিতর্কিত বিল উত্থাপন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গবেষণাতেও এই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় মুসলিমদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনঠাসা করার উদ্দেশ্যে ২৩০টিরও বেশি বিল ও প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও মুসলিমদের ক্ষেত্রে চরম দ্বিমুখী নীতি ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ISPU)-এর গবেষণা পরিচালক সাহের সেলোড আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দেশের সব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে মুসলিমরাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সাহের সেলোড উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীল রাজনৈতিক মতাদর্শই বর্তমানে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। জরিপ অনুযায়ী, বিগত এক বছরে দেশটির প্রায় ৬৩ শতাংশ মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন, যা অন্যান্য যেকোনো সম্প্রদায়ের চেয়ে অনেক বেশি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থী রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে ইসলামফোবিক ভাষার প্রয়োগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্টেট অ্যাসেম্বলি ও কংগ্রেসে একের পর এক মুসলিমবিরোধী বিল উত্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের প্রতিনিধি কিথ সেলফ-এর নেতৃত্বে মার্কিন আইনসভায় "শরিয়ামুক্ত আমেরিকা গোষ্ঠী" (America Without Sharia Group) নামে একটি ইসলামবিরোধী জোট গঠিত হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া, মার্কিন কংগ্রেসম্যান চিপ রয় বিদেশি মুসলিম আলেম ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে 'ইমাম অ্যাক্ট' (IMAM Act) এবং 'মামদানি অ্যাক্ট' (Mamdani Act) নামক দুটি বিতর্কিত বিল উত্থাপন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গবেষণাতেও এই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় মুসলিমদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা এবং তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনঠাসা করার উদ্দেশ্যে ২৩০টিরও বেশি বিল ও প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও মুসলিমদের ক্ষেত্রে চরম দ্বিমুখী নীতি ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন