ইসরায়েলের অবিরাম সামরিক অভিযান ও বছরের পর বছর ধরে চলা অবরুদ্ধ ব্যবস্থার কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কেমোথেরাপি, আধুনিক ওষুধ এবং ম্যামোগ্রাফির মতো মৌলিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতির কারণে প্রতিদিন বহু নারীর ক্যানসার অপ্রতিরোধ্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ইসরায়েলি অবরোধের ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। এর সবচেয়ে নির্মম শিকার হচ্ছেন দূরারোগ্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীরা। সময়মতো চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের অভাবে সুস্থতার সুযোগ থেকে বঞ্ছিত হয়ে হাজার হাজার নারী এখন মৃত্যুর মুখোমুখি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় প্রায় ১০,০০০ ক্যানসার রোগী রয়েছেন, যেখানে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় দুই হাজারের বেশি রোগী যুক্ত হন। নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ও মারাত্মক ব্যাধি হলো স্তন ক্যানসার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় প্রবেশে বাধা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিমান হামলার কারণে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি থমকে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্তকরণের প্রধান যন্ত্র ম্যামোগ্রাফি মেশিনগুলো যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ সংকটে অচল হয়ে পড়েছে।
গাজার প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. হালা আল-বুহাইসি পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমানে অধিকাংশ নারী যখন হাসপাতালে আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, ততক্ষণে তাদের ক্যানসার অনেক বেশি ছড়িয়ে বা জটিল উন্নত পর্যায়ে চলে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের কারণে তাদের জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।"
গাজার রোগীদের দুর্ভোগ কেবল প্রাথমিক পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসার রাসায়নিক ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এর সাথে যোগ হয়েছে হাসপাতালগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, গাজার ক্যানসার রোগীরা ন্যূনতম মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ করে গাজায় ক্যানসারের ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও বিশেষজ্ঞ সেবা পৌঁছাতে না পারলে এই স্বাস্থ্য সংকট এক ভয়াবহ মানবীয় বিপর্যয়ে রূপ নেবে।
বিষয় : ইসরায়েল গাজা যুদ্ধ চিকিৎসা

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
ইসরায়েলের অবিরাম সামরিক অভিযান ও বছরের পর বছর ধরে চলা অবরুদ্ধ ব্যবস্থার কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কেমোথেরাপি, আধুনিক ওষুধ এবং ম্যামোগ্রাফির মতো মৌলিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতির কারণে প্রতিদিন বহু নারীর ক্যানসার অপ্রতিরোধ্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ইসরায়েলি অবরোধের ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাত সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। এর সবচেয়ে নির্মম শিকার হচ্ছেন দূরারোগ্য স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীরা। সময়মতো চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের অভাবে সুস্থতার সুযোগ থেকে বঞ্ছিত হয়ে হাজার হাজার নারী এখন মৃত্যুর মুখোমুখি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় প্রায় ১০,০০০ ক্যানসার রোগী রয়েছেন, যেখানে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় দুই হাজারের বেশি রোগী যুক্ত হন। নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ও মারাত্মক ব্যাধি হলো স্তন ক্যানসার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় প্রবেশে বাধা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিমান হামলার কারণে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি থমকে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার শনাক্তকরণের প্রধান যন্ত্র ম্যামোগ্রাফি মেশিনগুলো যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ সংকটে অচল হয়ে পড়েছে।
গাজার প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. হালা আল-বুহাইসি পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমানে অধিকাংশ নারী যখন হাসপাতালে আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, ততক্ষণে তাদের ক্যানসার অনেক বেশি ছড়িয়ে বা জটিল উন্নত পর্যায়ে চলে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের কারণে তাদের জরুরি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।"
গাজার রোগীদের দুর্ভোগ কেবল প্রাথমিক পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসার রাসায়নিক ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এর সাথে যোগ হয়েছে হাসপাতালগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভাব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, গাজার ক্যানসার রোগীরা ন্যূনতম মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক চিকিৎসা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ করে গাজায় ক্যানসারের ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও বিশেষজ্ঞ সেবা পৌঁছাতে না পারলে এই স্বাস্থ্য সংকট এক ভয়াবহ মানবীয় বিপর্যয়ে রূপ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন