শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

উদ্বোধনের পর বিপুল দর্শনার্থী প্রবাহ | রামাদানের পূর্বে নতুন কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট মিরজিওয়েভ

সমরকন্দে পুনরায় উন্মুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী ইমাম বুখারী কমপ্লেক্স



সমরকন্দে পুনরায় উন্মুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী ইমাম বুখারী কমপ্লেক্স

উদ্বোধনের পাঁচ মাস পর মধ্য এশিয়ার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী (র.)-এর নতুন মাজার ও বিশাল কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক পুনর্নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে (পবিত্র রামাদান ও ঈদুল ফিতরের পূর্বে) উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মিরজিওয়েভ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। আধুনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পের অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬৫ হাজার দর্শনার্থী গ্রহণের সক্ষমতা রাখে।

বিস্তৃত আধুনিকায়ন ও অভূতপূর্ব ধারণক্ষমতা

উজবেকিস্তানের সমরকন্দ শহরের কাছে নির্মিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি ৪৫ হেক্টর জমির ওপর বিস্তৃত। এর কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হলো হাদীস শাস্ত্রের মহান ইমাম, ইমাম আল-বুখারী (র.)-এর রওজা মোবারক। কমপ্লেক্সে একটি বড় কেন্দ্রীয় মসজিদ, প্রশাসনিক ভবন এবং ১৫৪টি কারুকার্যময় স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত বৃহৎ আইওয়ান (প্রবেশদ্বার ও বারান্দা) রয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সে ৭৫ মিটার উঁচু চারটি দৃষ্টিনন্দন মিনার এবং ১৪টি তূরকুজ (ফিরোজা) রঙের গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে।

পূর্বে এই কমপ্লেক্সে দিনে সর্বোচ্চ ১২ হাজার দর্শনার্থী অবস্থান করতে পারতেন। তবে নতুন স্থাপত্য নকশার মাধ্যমে তা প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদে একসাথে ১০ হাজার মুসল্লি সালাত আদায় করতে পারেন, আর খোলা প্রাঙ্গণসহ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ একসাথে নামায আদায় করার সুবিধা লাভ করবেন।

ইসলামী শিক্ষা ও ইতিহাস সমৃদ্ধ ৯টি গ্যালারির জাদুঘর

পুনর্নির্মিত এই প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে, যা ৯টি পৃথক বিভাগে বিভক্ত। জাদুঘরটিতে ইমাম বুখারী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী, হাদীস সংকলনের ঐতিহাসিক ভ্রমণ, রসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কা ও মদীনার জীবনের তথ্যাদি এবং কুরআনে বর্ণিত পয়গম্বরগণের ওপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষিত আছে।

আন্তর্জাতিক কারুশিল্প ও বিশ্বমানের অবকাঠামো

স্থাপত্যশৈলীর সুনিপুণ কাজের জন্য বেশ কয়েকটি দেশের মূল্যবান পাথর ও কারিগরদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মার্বেল ও গ্রানাইটসহ মোট ১৮ ধরণের প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে। বহিরাংশের পাথর তুরস্ক, গ্রিস, ইতালি ও চীন থেকে সরবরাহ করা হলেও রওজা শরীফের ভেতরের সূক্ষ্ম খোদাই কাজ করেছেন ভারতের অভিজ্ঞ কারিগররা। এছাড়াও কমপ্লেক্স সংলগ্ন ১৫ হেক্টর জুড়ে একটি আধুনিক পর্যটন এলাকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৪ তারকা ও ৩ তারকা মানের হোটেল, ১৭৬ টি বেড সমন্বিত ২২টি ফ্যামিলি গেস্টহাউস এবং বিশাল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিষয় : উজবেকিস্তান ইমাম বুখারী কমপ্লেক্স সমরকন্দ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


সমরকন্দে পুনরায় উন্মুক্ত হলো ঐতিহ্যবাহী ইমাম বুখারী কমপ্লেক্স

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উদ্বোধনের পাঁচ মাস পর মধ্য এশিয়ার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী (র.)-এর নতুন মাজার ও বিশাল কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজার হাজার আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। ২০২১ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক পুনর্নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে (পবিত্র রামাদান ও ঈদুল ফিতরের পূর্বে) উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মিরজিওয়েভ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। আধুনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পের অনন্য সংমিশ্রণে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬৫ হাজার দর্শনার্থী গ্রহণের সক্ষমতা রাখে।

বিস্তৃত আধুনিকায়ন ও অভূতপূর্ব ধারণক্ষমতা

উজবেকিস্তানের সমরকন্দ শহরের কাছে নির্মিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি ৪৫ হেক্টর জমির ওপর বিস্তৃত। এর কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হলো হাদীস শাস্ত্রের মহান ইমাম, ইমাম আল-বুখারী (র.)-এর রওজা মোবারক। কমপ্লেক্সে একটি বড় কেন্দ্রীয় মসজিদ, প্রশাসনিক ভবন এবং ১৫৪টি কারুকার্যময় স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত বৃহৎ আইওয়ান (প্রবেশদ্বার ও বারান্দা) রয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সে ৭৫ মিটার উঁচু চারটি দৃষ্টিনন্দন মিনার এবং ১৪টি তূরকুজ (ফিরোজা) রঙের গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে।

পূর্বে এই কমপ্লেক্সে দিনে সর্বোচ্চ ১২ হাজার দর্শনার্থী অবস্থান করতে পারতেন। তবে নতুন স্থাপত্য নকশার মাধ্যমে তা প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে প্রতিদিন ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদে একসাথে ১০ হাজার মুসল্লি সালাত আদায় করতে পারেন, আর খোলা প্রাঙ্গণসহ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ একসাথে নামায আদায় করার সুবিধা লাভ করবেন।

ইসলামী শিক্ষা ও ইতিহাস সমৃদ্ধ ৯টি গ্যালারির জাদুঘর

পুনর্নির্মিত এই প্রাঙ্গণে একটি আধুনিক প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে, যা ৯টি পৃথক বিভাগে বিভক্ত। জাদুঘরটিতে ইমাম বুখারী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী, হাদীস সংকলনের ঐতিহাসিক ভ্রমণ, রসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কা ও মদীনার জীবনের তথ্যাদি এবং কুরআনে বর্ণিত পয়গম্বরগণের ওপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি ও ঐতিহাসিক উপাদান সংরক্ষিত আছে।

আন্তর্জাতিক কারুশিল্প ও বিশ্বমানের অবকাঠামো

স্থাপত্যশৈলীর সুনিপুণ কাজের জন্য বেশ কয়েকটি দেশের মূল্যবান পাথর ও কারিগরদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মার্বেল ও গ্রানাইটসহ মোট ১৮ ধরণের প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে এটি সাজানো হয়েছে। বহিরাংশের পাথর তুরস্ক, গ্রিস, ইতালি ও চীন থেকে সরবরাহ করা হলেও রওজা শরীফের ভেতরের সূক্ষ্ম খোদাই কাজ করেছেন ভারতের অভিজ্ঞ কারিগররা। এছাড়াও কমপ্লেক্স সংলগ্ন ১৫ হেক্টর জুড়ে একটি আধুনিক পর্যটন এলাকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৪ তারকা ও ৩ তারকা মানের হোটেল, ১৭৬ টি বেড সমন্বিত ২২টি ফ্যামিলি গেস্টহাউস এবং বিশাল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ