শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

গাজা শান্তি পরিকল্পনা ও মানবিক সংকট নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজা শান্তি পরিকল্পনা ও মানবিক সংকট নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। সোমবার তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকে গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং উপত্যকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে হাকান ফিদান হামাস প্রতিনিধিদের গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আঙ্কারার সর্বশেষ কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন। বিশেষ করে গাজাবাসীর অধিকার রক্ষায় গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এর কার্যক্রমে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিদান জোর দিয়ে বলেন যে, গাজায় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে তুরস্ক আগের মতোই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সকল প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপটি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপের শর্তানুযায়ী, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অতিরিক্ত প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৫ জানুয়ারি গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই 'বোর্ড অব পিস' গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭১,৬০০ ছাড়িয়েছে, যার অধিকাংশ নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১,৭১,৩০০-এর বেশি। চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও ৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তুরস্কের এই মধ্যস্থতা বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিষয় : তুরস্ক ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


গাজা শান্তি পরিকল্পনা ও মানবিক সংকট নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। সোমবার তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠকে গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং উপত্যকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকে হাকান ফিদান হামাস প্রতিনিধিদের গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আঙ্কারার সর্বশেষ কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন। বিশেষ করে গাজাবাসীর অধিকার রক্ষায় গঠিত 'বোর্ড অব পিস'-এর কার্যক্রমে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিদান জোর দিয়ে বলেন যে, গাজায় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে তুরস্ক আগের মতোই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সকল প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপটি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপের শর্তানুযায়ী, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর অতিরিক্ত প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৫ জানুয়ারি গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই 'বোর্ড অব পিস' গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭১,৬০০ ছাড়িয়েছে, যার অধিকাংশ নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১,৭১,৩০০-এর বেশি। চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও ৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তুরস্কের এই মধ্যস্থতা বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত