শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি বন্দির দেহাবশেষ উদ্ধারের পর গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের দাবি নেতানিয়াহুর, তবে পুনর্গঠন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট

শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার: ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ইসরায়েল


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার: ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ইসরায়েল

গাজায় সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দির দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়েছেন। যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েল, হামাস এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দি রান গুইলির দেহাবশেষ উদ্ধারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর নেতানিয়াহু বাস্তবায়নের “সত্যের মুহূর্তে” পৌঁছেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গাজায় ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে গাজা-মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু, ইসরায়েলের অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে গাজায় প্রায় ২.৪ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি চরম মানবিক সংকটে বসবাস করছে।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সংসদে (কনেসেট) বলেন, “আমরা আমাদের সব বন্দিকে ফিরিয়ে এনেছি। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি—হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে অস্ত্রশূন্য করা। পুনর্গঠন এই ধাপের অংশ নয়।”

তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণের জন্য এই ধাপ দ্রুত বাস্তবায়ন ইসরায়েলের স্বার্থে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেয় এবং গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যা দুই বছর ধরে চলেছে। এতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী পুনর্গঠনের ব্যয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল বলেন, শেষ বন্দির দেহাবশেষ ফেরত আসা যুদ্ধের প্রকৃত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর “পূর্ণ বিজয়” প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

হারেল আরও বলেন, হামাসের হাতে বন্দিদের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করে যে গাজার অর্ধেক অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ পূর্ব ধারণার চেয়ে শক্তিশালী ও সংগঠিত।

তিনি সতর্ক করেন, রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হওয়া নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমস্যার শুরু মাত্র, কারণ সরকারে থাকা কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা যুদ্ধ পুনরায় শুরু এবং ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষক আমির বোহবুত জানান, যুক্তরাষ্ট্র রাফাহ সীমান্ত দ্রুত চালুর জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে ইসরায়েল চায় হামাস নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া পুনর্গঠন শুরু না হোক।

হামাস অস্ত্র জমা না দিয়ে “সংরক্ষণ বা স্থগিত” রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং নিজেদের প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, পুনর্গঠন এগোতে হলে হামাসের সব অস্ত্র, উৎপাদন স্থাপনা ও টানেল ধ্বংস করতে হবে। তবে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো অস্ত্র নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে সীমিত সমঝোতায় রাজি হলেও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্লেষক দানি জাকিন বলেন, দ্বিতীয় ধাপ সবচেয়ে জটিল এবং প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের দৃষ্টিতে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠন ও বেসামরিক প্রশাসন গঠনের বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের মতভেদ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা আসতে পারে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিত চুক্তি লঙ্ঘন করছে, এতে এখন পর্যন্ত ৪৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী দখলদারিত্ব ও বাস্তুচ্যুতি বর্তমান সংঘাতের ঐতিহাসিক পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিষয় : হামাস গাজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার: ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজায় সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দির দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়েছেন। যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েল, হামাস এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা পুনর্গঠন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্ব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দি রান গুইলির দেহাবশেষ উদ্ধারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার পর নেতানিয়াহু বাস্তবায়নের “সত্যের মুহূর্তে” পৌঁছেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

গাজায় ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ধাপে গাজা-মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু, ইসরায়েলের অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে গাজায় প্রায় ২.৪ মিলিয়ন ফিলিস্তিনি চরম মানবিক সংকটে বসবাস করছে।

নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সংসদে (কনেসেট) বলেন, “আমরা আমাদের সব বন্দিকে ফিরিয়ে এনেছি। এখন আমরা পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি—হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজাকে অস্ত্রশূন্য করা। পুনর্গঠন এই ধাপের অংশ নয়।”

তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণের জন্য এই ধাপ দ্রুত বাস্তবায়ন ইসরায়েলের স্বার্থে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেয় এবং গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসরায়েলের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে, যা দুই বছর ধরে চলেছে। এতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী পুনর্গঠনের ব্যয় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল বলেন, শেষ বন্দির দেহাবশেষ ফেরত আসা যুদ্ধের প্রকৃত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই হয়েছে, যা নেতানিয়াহুর “পূর্ণ বিজয়” প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

হারেল আরও বলেন, হামাসের হাতে বন্দিদের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করে যে গাজার অর্ধেক অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ পূর্ব ধারণার চেয়ে শক্তিশালী ও সংগঠিত।

তিনি সতর্ক করেন, রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু হওয়া নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমস্যার শুরু মাত্র, কারণ সরকারে থাকা কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা যুদ্ধ পুনরায় শুরু এবং ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষক আমির বোহবুত জানান, যুক্তরাষ্ট্র রাফাহ সীমান্ত দ্রুত চালুর জন্য চাপ দিচ্ছে, তবে ইসরায়েল চায় হামাস নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া পুনর্গঠন শুরু না হোক।

হামাস অস্ত্র জমা না দিয়ে “সংরক্ষণ বা স্থগিত” রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং নিজেদের প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, পুনর্গঠন এগোতে হলে হামাসের সব অস্ত্র, উৎপাদন স্থাপনা ও টানেল ধ্বংস করতে হবে। তবে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো অস্ত্র নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে সীমিত সমঝোতায় রাজি হলেও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্লেষক দানি জাকিন বলেন, দ্বিতীয় ধাপ সবচেয়ে জটিল এবং প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের দৃষ্টিতে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।

তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠন ও বেসামরিক প্রশাসন গঠনের বিষয়টি এগিয়ে নিতে চায়, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বড় ধরনের মতভেদ সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা আসতে পারে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিত চুক্তি লঙ্ঘন করছে, এতে এখন পর্যন্ত ৪৮৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী দখলদারিত্ব ও বাস্তুচ্যুতি বর্তমান সংঘাতের ঐতিহাসিক পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত