শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিল ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ

নেদারল্যান্ডসে মুসলিমদের ওপর গোপন নজরদারি: ১০ সংস্থাকে বড় অংকের জরিমানা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

নেদারল্যান্ডসে মুসলিমদের ওপর গোপন নজরদারি: ১০ সংস্থাকে বড় অংকের জরিমানা
ফাইল ছবি

নেদারল্যান্ডসে মুসলিম ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে গোপন নজরদারি চালানোর দায়ে ১০টি পৌরসভাকে আড়াই লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর তথ্য সুরক্ষা আইন (GDPR) লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর ধরে এই গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হয়। ডাচ পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অথরিটি (AP) এক তদন্তের মাধ্যমে এই গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের ১০টি পৌরসভা— ডেলফট, ইডে, আইন্দহোভেন, গুইসে মেরেন, হারলেমারমেয়ার, হিলভারসাম, হুইজেন, টিলবার্গ, ভেনেন্ডাল এবং জোটারমেয়ার— সম্মিলিতভাবে এই জরিমানার মুখে পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, এই পৌরসভাগুলো কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পর্কের ওপর গোপন নথিপত্র তৈরি করেছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-এর দশক থেকে 'উগ্রবাদ প্রতিরোধ' এবং 'সন্ত্রাস দমনের' দোহাই দিয়ে এই নজরদারি শুরু হয়। নেদারল্যান্ডসের ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ফর কাউন্টার-টেররিজম অ্যান্ড সিকিউরিটি (NCTV)-এর পরামর্শে পৌরসভাগুলো বেসরকারি তদন্তকারী সংস্থা নিয়োগ করে। এই সংস্থাগুলোর কর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে মসজিদে যেতেন এবং ইমাম, মসজিদের পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ মুসল্লিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন।

সংগৃহীত এসব তথ্য পুলিশ এবং সামাজিক বিষয়ক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে শেয়ার করা হতো। ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (AP) চেয়ারম্যান অ্যালেইড উলফসেন বলেন, "পৌরসভাগুলোর এমন নজরদারি চালানোর কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না। এটি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন। ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।"

সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলো তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং জরিমানার অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। AP-এর পক্ষ থেকে পৌরসভাগুলোকে এই ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডাচ সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও একইভাবে পরিচয় গোপন করে মুসলিমদের ওপর নজরদারি চালিয়েছিল বলে অতীতে তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল। এবারের জরিমানা সেই ধারাবাহিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেই একটি বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিষয় : নেদারল্যান্ড

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


নেদারল্যান্ডসে মুসলিমদের ওপর গোপন নজরদারি: ১০ সংস্থাকে বড় অংকের জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

নেদারল্যান্ডসে মুসলিম ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে গোপন নজরদারি চালানোর দায়ে ১০টি পৌরসভাকে আড়াই লাখ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর তথ্য সুরক্ষা আইন (GDPR) লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর ধরে এই গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হয়। ডাচ পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অথরিটি (AP) এক তদন্তের মাধ্যমে এই গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের ১০টি পৌরসভা— ডেলফট, ইডে, আইন্দহোভেন, গুইসে মেরেন, হারলেমারমেয়ার, হিলভারসাম, হুইজেন, টিলবার্গ, ভেনেন্ডাল এবং জোটারমেয়ার— সম্মিলিতভাবে এই জরিমানার মুখে পড়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, এই পৌরসভাগুলো কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পর্কের ওপর গোপন নথিপত্র তৈরি করেছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-এর দশক থেকে 'উগ্রবাদ প্রতিরোধ' এবং 'সন্ত্রাস দমনের' দোহাই দিয়ে এই নজরদারি শুরু হয়। নেদারল্যান্ডসের ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ফর কাউন্টার-টেররিজম অ্যান্ড সিকিউরিটি (NCTV)-এর পরামর্শে পৌরসভাগুলো বেসরকারি তদন্তকারী সংস্থা নিয়োগ করে। এই সংস্থাগুলোর কর্মীরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে মসজিদে যেতেন এবং ইমাম, মসজিদের পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ মুসল্লিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন।

সংগৃহীত এসব তথ্য পুলিশ এবং সামাজিক বিষয়ক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে শেয়ার করা হতো। ডাটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (AP) চেয়ারম্যান অ্যালেইড উলফসেন বলেন, "পৌরসভাগুলোর এমন নজরদারি চালানোর কোনো আইনি এখতিয়ার ছিল না। এটি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন। ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।"

সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলো তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং জরিমানার অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। AP-এর পক্ষ থেকে পৌরসভাগুলোকে এই ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডাচ সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও একইভাবে পরিচয় গোপন করে মুসলিমদের ওপর নজরদারি চালিয়েছিল বলে অতীতে তদন্তে বেরিয়ে এসেছিল। এবারের জরিমানা সেই ধারাবাহিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেই একটি বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত