ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৫১১টি অননুমোদিত কলোনিকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত ২৪ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হলেও মুসলিম প্রধান কলোনিগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস।
দিল্লির মুস্তাফাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীরাম কলোনিতে আয়োজিত এক বৈঠকে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাবেক বিধায়ক হাসান আহমেদ অভিযোগ করেন:
সরকার বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু কলোনিকে বৈধতা দিচ্ছে, কিন্তু মুস্তাফাবাদসহ বেশ কিছু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে গৃহহীন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দিল্লি সরকারের নতুন প্রকল্প অনুযায়ী, শহরের ১৫১১টি অননুমোদিত কলোনিকে নিয়মিত (Regularize) করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভূমির মালিকানা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা।
মুস্তাফাবাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বহু কলোনি এখনও "অননুমোদিত" রয়ে গেছে।
এই এলাকাগুলোতে বসবাসকারী হাজার হাজার নিম্নবিত্ত পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
গত ২৪ এপ্রিল কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা এই সাধারণ মানুষের বসতভিটা রক্ষায় হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করতে পারে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়শই দিল্লির আবাসন সংকট এবং বস্তি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনার আহ্বান জানায়। যদিও সরকার উন্নয়ন ও নগরায়নের দোহাই দিয়ে এই প্রকল্প পরিচালনা করছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও মুসলিম কলোনিগুলো বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা আইনি কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
দিল্লির অননুমোদিত কলোনিগুলো দশকের পর দশক ধরে ভোট রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০১৯ সালেও পিএম-উদয় (PM-UDAY) যোজনার মাধ্যমে কলোনি নিয়মিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফাবাদ ও উত্তর-পূর্ব দিল্লির অনেক এলাকা ২০২০ সালের দাঙ্গার পর থেকেই অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিকভাবে অবহেলিত বলে স্থানীয় প্রতিনিধিরা দাবি করে আসছেন।
আবাসন অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। দিল্লির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো এলাকা বা ধর্মীয় গোষ্ঠী যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আইনি স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই এই সংকটের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৫১১টি অননুমোদিত কলোনিকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। গত ২৪ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হলেও মুসলিম প্রধান কলোনিগুলোকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস।
দিল্লির মুস্তাফাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীরাম কলোনিতে আয়োজিত এক বৈঠকে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাবেক বিধায়ক হাসান আহমেদ অভিযোগ করেন:
সরকার বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু কলোনিকে বৈধতা দিচ্ছে, কিন্তু মুস্তাফাবাদসহ বেশ কিছু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে গৃহহীন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দিল্লি সরকারের নতুন প্রকল্প অনুযায়ী, শহরের ১৫১১টি অননুমোদিত কলোনিকে নিয়মিত (Regularize) করার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভূমির মালিকানা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা।
মুস্তাফাবাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বহু কলোনি এখনও "অননুমোদিত" রয়ে গেছে।
এই এলাকাগুলোতে বসবাসকারী হাজার হাজার নিম্নবিত্ত পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
গত ২৪ এপ্রিল কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা এই সাধারণ মানুষের বসতভিটা রক্ষায় হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) অনুযায়ী, রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করতে পারে না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়শই দিল্লির আবাসন সংকট এবং বস্তি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনার আহ্বান জানায়। যদিও সরকার উন্নয়ন ও নগরায়নের দোহাই দিয়ে এই প্রকল্প পরিচালনা করছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও মুসলিম কলোনিগুলো বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত বা আইনি কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
দিল্লির অননুমোদিত কলোনিগুলো দশকের পর দশক ধরে ভোট রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০১৯ সালেও পিএম-উদয় (PM-UDAY) যোজনার মাধ্যমে কলোনি নিয়মিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মুস্তাফাবাদ ও উত্তর-পূর্ব দিল্লির অনেক এলাকা ২০২০ সালের দাঙ্গার পর থেকেই অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিকভাবে অবহেলিত বলে স্থানীয় প্রতিনিধিরা দাবি করে আসছেন।
আবাসন অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। দিল্লির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো এলাকা বা ধর্মীয় গোষ্ঠী যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আইনি স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই এই সংকটের সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন