মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে তেহরানের মুহুর্মুহু পাল্টা আঘাতে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় খোদ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে সাংবাদিকদের ফেলে প্রাণভয়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা গেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সোমবার উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। অনুষ্ঠানের মাঝপথে হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকায় একটি ইরানি মিসাইল আঘাত হানলে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া মাত্রই হারজগ তার বক্তব্য থামিয়ে দ্রুত দৌড় শুরু করেন। এসময় তার দেহরক্ষীরা তাকে জাপটে ধরে নিকটস্থ ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নিয়ে যান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ রাষ্ট্রপ্রধানের এমন পলায়নপর দশা ইসরায়েলের তথাকথিত 'অজেয়' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাই বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল তাদের 'আয়রন ডোম' ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে আসলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নতুন প্রজন্মের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে এটি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
ইরান এই হামলার পর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ওপর করা যেকোনো আগ্রাসনই বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলি রাডার ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে, যা তেল আবিবের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলি সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।
বিষয় : ইসরায়েল

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে তেহরানের মুহুর্মুহু পাল্টা আঘাতে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় খোদ ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে সাংবাদিকদের ফেলে প্রাণভয়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা গেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সোমবার উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। অনুষ্ঠানের মাঝপথে হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকায় একটি ইরানি মিসাইল আঘাত হানলে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া মাত্রই হারজগ তার বক্তব্য থামিয়ে দ্রুত দৌড় শুরু করেন। এসময় তার দেহরক্ষীরা তাকে জাপটে ধরে নিকটস্থ ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নিয়ে যান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ রাষ্ট্রপ্রধানের এমন পলায়নপর দশা ইসরায়েলের তথাকথিত 'অজেয়' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থাই বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল তাদের 'আয়রন ডোম' ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে আসলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নতুন প্রজন্মের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠেকাতে এটি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
ইরান এই হামলার পর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ওপর করা যেকোনো আগ্রাসনই বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলি রাডার ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে, যা তেল আবিবের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলি সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন