গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে ‘শেষ বার্তা’ বা আখেরি পয়গাম দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ থেকে তিনি আগামী তিন মাসের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের এই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে রাজপথে আবারও ‘রক্তাক্ত জুলাই’ ফিরে আসবে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে তপ্ত রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেন মাওলানা মামুনুল হক। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের চলমান সংকট নিরসনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে আগামী মে, জুন এবং জুলাই মাসজুড়ে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় ‘নাগরিক সমাবেশ’ করার ঘোষণা দেন। এই তিন মাসব্যাপী জনসংযোগ শেষে আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় একটি বিশাল গণমিছিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “২০২৪-এর জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০১৩ এবং ২০২৪-এর ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়া। যারা এই বিপ্লবের বিরোধিতা করছে, তারা বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করছে।”
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে তিনি বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করেন। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সাথে গাদ্দারি করবেন না। আপনারা যে রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে এগিয়েছেন, গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করলে তা হবে আত্মঘাতী। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো দল গণভোটের সাথে গাদ্দারি করেনি।”
সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ভারতের বিজেপি ঘরানার নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বন্ধুরাষ্ট্র ইরান থেকে আসা তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি চরম কূটনৈতিক অযোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা না পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন, আমরা প্রস্তুত।”
উক্ত গণসমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে সভাপতির ভাষণে মামুনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনগণের অধিকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জাঁতাকলে পিষ্ট করার চেষ্টা করা হলে আবারও লড়াই ও সংগ্রামের পথে হাঁটবে জনতা।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে ‘শেষ বার্তা’ বা আখেরি পয়গাম দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ থেকে তিনি আগামী তিন মাসের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের এই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে রাজপথে আবারও ‘রক্তাক্ত জুলাই’ ফিরে আসবে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে তপ্ত রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেন মাওলানা মামুনুল হক। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং দেশের চলমান সংকট নিরসনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে আগামী মে, জুন এবং জুলাই মাসজুড়ে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় ‘নাগরিক সমাবেশ’ করার ঘোষণা দেন। এই তিন মাসব্যাপী জনসংযোগ শেষে আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় একটি বিশাল গণমিছিলের মাধ্যমে চূড়ান্ত কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “২০২৪-এর জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল ১৯৪৭, ১৯৭১, ২০১৩ এবং ২০২৪-এর ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়া। যারা এই বিপ্লবের বিরোধিতা করছে, তারা বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করছে।”
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে তিনি বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করেন। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের সাথে গাদ্দারি করবেন না। আপনারা যে রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে এগিয়েছেন, গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করলে তা হবে আত্মঘাতী। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো দল গণভোটের সাথে গাদ্দারি করেনি।”
সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ভারতের বিজেপি ঘরানার নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমান সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া বন্ধুরাষ্ট্র ইরান থেকে আসা তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি চরম কূটনৈতিক অযোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা না পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন, আমরা প্রস্তুত।”
উক্ত গণসমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে সভাপতির ভাষণে মামুনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জনগণের অধিকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জাঁতাকলে পিষ্ট করার চেষ্টা করা হলে আবারও লড়াই ও সংগ্রামের পথে হাঁটবে জনতা।

আপনার মতামত লিখুন