ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় ৬ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে কৃত্রিম অঙ্গ (Prosthetics) এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন সেবা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ শিশু, যারা যুদ্ধের কারণে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, গাজায় কর্মরত সহযোগী সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পঙ্গুত্বের শিকার এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই। বর্তমানে পুরো গাজায় মাত্র ৮ জন কৃত্রিম অঙ্গ বিশেষজ্ঞ (Prosthetics Technicians) কর্মরত আছেন।
গাজায় অব্যাহত বোমা বর্ষণের ফলে হাজার হাজার মানুষ তাদের হাত বা পা হারিয়েছেন। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, অঙ্গ বিচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনই শিশু।
মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী টম ফ্লেচারের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও গাজায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য কোনো "নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার" (unimpeded access) নিশ্চিত করা যায়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কাঁচামাল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। বর্তমান সীমাবদ্ধতা বজায় থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে অন্তত ৫ বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করছে যে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলা এবং পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞ সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক টেকনিশিয়ানদের প্রবেশ করতে না দেওয়া গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার শামিল। এছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, গাজায় বর্তমানে ইঁদুর ও পোকামাকড় বাহিত চর্মরোগ এবং অন্যান্য সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ কেবল প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং হাজারো মানুষের জীবনকে দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মুখে ঠেলে দেয়। গাজার এই হাজার হাজার পঙ্গু মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।
বিষয় : ফিলিস্তিন

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় ৬ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে কৃত্রিম অঙ্গ (Prosthetics) এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন সেবা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ শিশু, যারা যুদ্ধের কারণে স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, গাজায় কর্মরত সহযোগী সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পঙ্গুত্বের শিকার এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই। বর্তমানে পুরো গাজায় মাত্র ৮ জন কৃত্রিম অঙ্গ বিশেষজ্ঞ (Prosthetics Technicians) কর্মরত আছেন।
গাজায় অব্যাহত বোমা বর্ষণের ফলে হাজার হাজার মানুষ তাদের হাত বা পা হারিয়েছেন। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, অঙ্গ বিচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জনই শিশু।
মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী টম ফ্লেচারের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও গাজায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য কোনো "নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার" (unimpeded access) নিশ্চিত করা যায়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির কাঁচামাল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। বর্তমান সীমাবদ্ধতা বজায় থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে অন্তত ৫ বছর বা তার বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করছে যে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলা এবং পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞ সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক টেকনিশিয়ানদের প্রবেশ করতে না দেওয়া গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার শামিল। এছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, গাজায় বর্তমানে ইঁদুর ও পোকামাকড় বাহিত চর্মরোগ এবং অন্যান্য সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ কেবল প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং হাজারো মানুষের জীবনকে দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মুখে ঠেলে দেয়। গাজার এই হাজার হাজার পঙ্গু মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন