শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

শহর বা স্থানের নাম পরিবর্তনকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে আখ্যা দিলেন মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরলভি

ঐতিহাসিক দেওবন্দের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব: নাম বদলে কি ভাগ্য বদলায়?



ঐতিহাসিক দেওবন্দের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব: নাম বদলে কি ভাগ্য বদলায়?

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর দেওবন্দের নাম পরিবর্তন করে 'দেববৃন্দ' রাখার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরলভি এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, কোনো স্থানের নাম পরিবর্তন করলেই সেখানকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে না। তিনি একে কেবলই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী শহর দেওবন্দের নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি দক্ষিণপন্থী বিভিন্ন সংগঠন দেওবন্দকে ‘দেববৃন্দ’ হিসেবে নামকরণের দাবি জোরালো করলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও উত্তরপ্রদেশের একাধিক ঐতিহাসিক উর্দু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।

এই বিতর্কের রেশ ধরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরলভি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সরকারকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "নাম পরিবর্তন করলেই কি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়? আসল পরিবর্তন আসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে।"

মাওলানা বেরলভি সাম্প্রতিক কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, শাহজাহানপুরে অভাবের তাড়নায় একই পরিবারের ছয়জন আত্মহত্যা করেছে এবং মিরগঞ্জে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যারা নাম পরিবর্তনের রাজনীতি করছেন, তারা কি কখনো কোনো ক্ষুধার্তকে অন্ন দিয়েছেন? কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করে কেবল নাম পরিবর্তন করা এক ধরনের আইওয়াশ।"

তিনি আরও যোগ করেন, বেকার যুবকদের কাজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সমাজের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। মাওলানা মনে করেন, ধর্মীয় ভাবাবেগকে পুঁজি করে নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি জনমতের দৃষ্টি আসল সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। সরকারের উচিত নাম পরিবর্তনের পেছনে শক্তি ব্যয় না করে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়া।

ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী, যেকোনো স্থানের নাম পরিবর্তনের অধিকার রাজ্য সরকারের থাকলেও, তা জনগণের আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাথে সম্পৃক্ত। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে নাম পরিবর্তনের চেয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা বেশি জরুরি। বেরেলভির বক্তব্য মূলত সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের দিকেই আঙুল তুলেছে।

বিষয় : ভারত দেওবন্দ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


ঐতিহাসিক দেওবন্দের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব: নাম বদলে কি ভাগ্য বদলায়?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর দেওবন্দের নাম পরিবর্তন করে 'দেববৃন্দ' রাখার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরলভি এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, কোনো স্থানের নাম পরিবর্তন করলেই সেখানকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে না। তিনি একে কেবলই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী শহর দেওবন্দের নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি দক্ষিণপন্থী বিভিন্ন সংগঠন দেওবন্দকে ‘দেববৃন্দ’ হিসেবে নামকরণের দাবি জোরালো করলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও উত্তরপ্রদেশের একাধিক ঐতিহাসিক উর্দু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।

এই বিতর্কের রেশ ধরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরলভি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সরকারকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "নাম পরিবর্তন করলেই কি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হয়? আসল পরিবর্তন আসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে।"

মাওলানা বেরলভি সাম্প্রতিক কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, শাহজাহানপুরে অভাবের তাড়নায় একই পরিবারের ছয়জন আত্মহত্যা করেছে এবং মিরগঞ্জে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যারা নাম পরিবর্তনের রাজনীতি করছেন, তারা কি কখনো কোনো ক্ষুধার্তকে অন্ন দিয়েছেন? কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করে কেবল নাম পরিবর্তন করা এক ধরনের আইওয়াশ।"

তিনি আরও যোগ করেন, বেকার যুবকদের কাজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সমাজের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। মাওলানা মনে করেন, ধর্মীয় ভাবাবেগকে পুঁজি করে নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি জনমতের দৃষ্টি আসল সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল মাত্র। সরকারের উচিত নাম পরিবর্তনের পেছনে শক্তি ব্যয় না করে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়া।

ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী, যেকোনো স্থানের নাম পরিবর্তনের অধিকার রাজ্য সরকারের থাকলেও, তা জনগণের আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের সাথে সম্পৃক্ত। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মতে, উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে নাম পরিবর্তনের চেয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করা বেশি জরুরি। বেরেলভির বক্তব্য মূলত সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের দিকেই আঙুল তুলেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত