রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

একটু খাবারের জন্য ভাঙতে হলো আত্মসম্মান! উত্তরপ্রদেশে ক্ষুধার্ত মুসলিম বৃদ্ধকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করলো বিজেপি কর্মী। এটাই কি ভারতের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা?

ভারতে মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দেওয়ালো বিজেপি কর্মী



ভারতে মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দেওয়ালো বিজেপি কর্মী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ডুমরিয়াগঞ্জে বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়ে প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন এক অসহায় ও বয়স্ক মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় শ্রী কৃষ্ণ’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। লভকুশ ওঝা নামের এক বিজেপি কর্মীর এমন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) বড় মঙ্গলের ধর্মীয় উৎসবের দিন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার আরও একটি ন্যাক্কারজনক চিত্র সামনে এসেছে। ডুমরিয়াগঞ্জ শহরের একটি বিজেপি কার্যালয়ে পবিত্র ‘বড় মঙ্গল’ উৎসবের প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন এক বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তিকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তি চরম অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে লভকুশ ওঝা নামের এক ব্যক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। লভকুশ ওঝার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সক্রিয় কর্মী। ভিডিওতে ওঝাকে বলতে শোনা যায়, যদি খাবার বা প্রসাদ পেতে হয়, তবে ওই মুসলিম বৃদ্ধকে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় শ্রী কৃষ্ণ’ বলতে হবে।

ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যায় বিজেপি কর্মী বলছেন, “জয় শ্রী রাম বলবে, তবেই প্রসাদ মিলবে।” চরম অসহায়ত্বের মধ্যে ক্ষুধার্ত ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি শেষ পর্যন্ত খাবার পাওয়ার আশায় তার নির্দেশ মেনে স্লোগান দিতে বাধ্য হন।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার ঠিক একদিন আগেই ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছিলেন যে, ভারতে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে কিছু ভারতীয় নাগরিক আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। রিজিজু যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, ভারতের সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা ও স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে উত্তরপ্রদেশের এই বাস্তব চিত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসার প্রমাণ করেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দাপটে যে সাধারণ মুসলিমরা প্রতিনিয়ত মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, ডুমরিয়াগঞ্জের এই ঘটনা তার আরও একটি প্রমাণ।

ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন, চর্চা ও প্রচার করার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে জোরপূর্বক কোনো ধর্মীয় আচার বা স্লোগানে বাধ্য করা নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মানবাধিকার সংস্থাসমূহ প্রায়শই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি করলেও, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন এবং নাগরিকদের সমান অধিকারের প্রশ্নে প্রশাসনের জবাবদিহিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


ভারতে মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক হিন্দুত্ববাদী স্লোগান দেওয়ালো বিজেপি কর্মী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ডুমরিয়াগঞ্জে বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়ে প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন এক অসহায় ও বয়স্ক মুসলিম বৃদ্ধকে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় শ্রী কৃষ্ণ’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। লভকুশ ওঝা নামের এক বিজেপি কর্মীর এমন আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) বড় মঙ্গলের ধর্মীয় উৎসবের দিন।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার আরও একটি ন্যাক্কারজনক চিত্র সামনে এসেছে। ডুমরিয়াগঞ্জ শহরের একটি বিজেপি কার্যালয়ে পবিত্র ‘বড় মঙ্গল’ উৎসবের প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন এক বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তিকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তি চরম অস্বস্তি ও ভয়ের মধ্যে লভকুশ ওঝা নামের এক ব্যক্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। লভকুশ ওঝার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সক্রিয় কর্মী। ভিডিওতে ওঝাকে বলতে শোনা যায়, যদি খাবার বা প্রসাদ পেতে হয়, তবে ওই মুসলিম বৃদ্ধকে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘জয় শ্রী কৃষ্ণ’ বলতে হবে।

ভিডিওতে স্পষ্ট শোনা যায় বিজেপি কর্মী বলছেন, “জয় শ্রী রাম বলবে, তবেই প্রসাদ মিলবে।” চরম অসহায়ত্বের মধ্যে ক্ষুধার্ত ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি শেষ পর্যন্ত খাবার পাওয়ার আশায় তার নির্দেশ মেনে স্লোগান দিতে বাধ্য হন।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যার ঠিক একদিন আগেই ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছিলেন যে, ভারতে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে কিছু ভারতীয় নাগরিক আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। রিজিজু যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, ভারতের সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা ও স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে উত্তরপ্রদেশের এই বাস্তব চিত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসার প্রমাণ করেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দাপটে যে সাধারণ মুসলিমরা প্রতিনিয়ত মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, ডুমরিয়াগঞ্জের এই ঘটনা তার আরও একটি প্রমাণ।

ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের যেকোনো ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন, চর্চা ও প্রচার করার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে জোরপূর্বক কোনো ধর্মীয় আচার বা স্লোগানে বাধ্য করা নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মানবাধিকার সংস্থাসমূহ প্রায়শই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি করলেও, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা আইনের শাসন এবং নাগরিকদের সমান অধিকারের প্রশ্নে প্রশাসনের জবাবদিহিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ