ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজেই গো-হত্যার চক্রান্ত করেছেন এক বর্তমান হিন্দু গ্রাম প্রধান (প্রধান)। ঘটনাটি ঘটেছে নূরপুর থানা এলাকার চাঙ্গিপুর গ্রামে। চক্রান্তকারী গ্রাম প্রধান জগপাল ও তার সহযোগীরা মিলে একটি বাছুর জবাই করে এর দায় চাপায় হাসান নামের এক স্থানীয় মুসলিম ব্যক্তির ওপর, যাতে তাকে জেলে পাঠিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান জগপালসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও গো-হত্যার অজুহাতে মুসলিমদের টার্গেট করার আরও একটি ভয়াবহ ও নোংরা চিত্র সামনে এসেছে। বিজনোর জেলার চাঙ্গিপুর গ্রামে আসন্ন গ্রাম প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে নিজেই গো-হত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন বর্তমান হিন্দু প্রধান জগপাল।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ১৭ জুন রাতে অভিযুক্তরা চাঙ্গিপুর গ্রামে একটি বাছুর জবাই করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন সকালে বর্তমান গ্রাম প্রধান জগপাল বেশ কয়েকটি স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে একত্রিত করে এবং প্রকাশ্যে হাসান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গো-হত্যার অভিযোগ এনে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে। উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে ১৮ জুন উত্তর প্রদেশ গো-বধ প্রতিরোধ আইনের ৩, ৫ এবং ৮ ধারায় হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তবে সত্য ঢাকা থাকেনি। বিজনোর গ্রামীণ এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) প্রকাশ কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন পুলিশ ফয়জান নামে এক অভিযুক্তকে এনকাউন্টারের পর গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জান স্বীকার করে যে, গ্রাম প্রধান জগপাল এবং তার ভাই কিরণপালের নির্দেশে ও প্ররোচনায় তারা এই গো-হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এএসপি প্রকাশ কুমার আরও জানান, জগপালের ভয় ছিল যে আসন্ন গ্রাম প্রধান নির্বাচনে হাসান তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি নিশ্চিতভাবেই হেরে যাবেন। তাই হাসানকে চিরতরে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে এবং জেলে পাঠাতে এই সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের ছক কষা হয়েছিল। তদন্তের পর পুলিশ প্রধান জগপাল, তার ভাই কিরণপাল, ফয়জানসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফয়জানের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, খালি কার্তুজ এবং পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয় : ভারত

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজেই গো-হত্যার চক্রান্ত করেছেন এক বর্তমান হিন্দু গ্রাম প্রধান (প্রধান)। ঘটনাটি ঘটেছে নূরপুর থানা এলাকার চাঙ্গিপুর গ্রামে। চক্রান্তকারী গ্রাম প্রধান জগপাল ও তার সহযোগীরা মিলে একটি বাছুর জবাই করে এর দায় চাপায় হাসান নামের এক স্থানীয় মুসলিম ব্যক্তির ওপর, যাতে তাকে জেলে পাঠিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান জগপালসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও গো-হত্যার অজুহাতে মুসলিমদের টার্গেট করার আরও একটি ভয়াবহ ও নোংরা চিত্র সামনে এসেছে। বিজনোর জেলার চাঙ্গিপুর গ্রামে আসন্ন গ্রাম প্রধান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পথ থেকে সরিয়ে দিতে নিজেই গো-হত্যার নাটক সাজিয়েছিলেন বর্তমান হিন্দু প্রধান জগপাল।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গত ১৭ জুন রাতে অভিযুক্তরা চাঙ্গিপুর গ্রামে একটি বাছুর জবাই করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন সকালে বর্তমান গ্রাম প্রধান জগপাল বেশ কয়েকটি স্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে একত্রিত করে এবং প্রকাশ্যে হাসান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গো-হত্যার অভিযোগ এনে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে। উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে ১৮ জুন উত্তর প্রদেশ গো-বধ প্রতিরোধ আইনের ৩, ৫ এবং ৮ ধারায় হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তবে সত্য ঢাকা থাকেনি। বিজনোর গ্রামীণ এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) প্রকাশ কুমার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুন পুলিশ ফয়জান নামে এক অভিযুক্তকে এনকাউন্টারের পর গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জান স্বীকার করে যে, গ্রাম প্রধান জগপাল এবং তার ভাই কিরণপালের নির্দেশে ও প্ররোচনায় তারা এই গো-হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এএসপি প্রকাশ কুমার আরও জানান, জগপালের ভয় ছিল যে আসন্ন গ্রাম প্রধান নির্বাচনে হাসান তার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি নিশ্চিতভাবেই হেরে যাবেন। তাই হাসানকে চিরতরে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে এবং জেলে পাঠাতে এই সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের ছক কষা হয়েছিল। তদন্তের পর পুলিশ প্রধান জগপাল, তার ভাই কিরণপাল, ফয়জানসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফয়জানের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, খালি কার্তুজ এবং পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন