শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

গো-রক্ষার নামে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা ও হিউমিলিয়েশন; উল্টো ভুক্তভোগী মুসলিমদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করল পুলিশ

হরিয়ানায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: দুই মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে নগ্ন করে পৈশাচিক নির্যাতন



হরিয়ানায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: দুই মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে নগ্ন করে পৈশাচিক নির্যাতন

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কার্নাল জেলায় গো-পাচারের মিথ্যা অভিযোগে দুই মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে পথিমধ্যে আটকে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে উগ্র ডানপন্থী ‘গৌ রক্ষা দল’, ‘বজরং দল’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি)-এর কর্মীরা। প্রকাশ্য রাস্তায় ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ভুক্তভোগী মুসলিম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই মামলা (FIR) রেকর্ড করেছে স্থানীয় ১৩ নম্বর সেক্টর থানার পুলিশ।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসন ও মুসলিম নিধনের ধারাবাহিকতায় এবার হরিয়ানার কার্নালে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই মুসলিম পশুব্যবসায়ী। গো-রক্ষার নামে সক্রিয় উগ্রপন্থী দল ‘গৌ রক্ষা দল’, ‘বজরং দল’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’-এর একদল সশস্ত্র ক্যাডার এই নৃশংস হামলা চালায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অতি-নৃশংস ভিডিওতে দেখা যায়, একদল কথিত গো-রক্ষক এক অর্ধনগ্ন মুসলিম ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে অত্যন্ত নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে, আর ভুক্তভোগী নিজেকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক উগ্রবাদী দাবি করে, এই ব্যবসায়ীরা নাকি বিহারে জবাই করার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গরু পাচার করছিল।

নিজেদের এই বর্বরতাকে জায়েজ করতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীটি পাল্টা অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, মুসলিম ব্যবসায়ীদের ট্রাকটি ধাওয়া করার সময় নাকি ক্যাডারদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। এক গো-রক্ষক নেতা ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলে, "ট্রাকের ভেতরের মানুষগুলো মুসলিম ছিল। তারা আমাদের 'গৌ মাতা'কে জবাই করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, অথচ মানুষ আমাদের সমর্থন না করে গুন্ডা বলে! গুন্ডা তো তারা যারা গরু জবাই করে, আমরা নই।"

আশ্চর্যের বিষয় হলো, আক্রান্ত রক্তাক্ত দুই মুসলিম পুরুষকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর, পুলিশ প্রকৃত অপরাধী উগ্রপন্থীদের গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই 'অবৈধ গো-পাচার' আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে।

'শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব' — উগ্রবাদীদের হুঁশিয়ারি

ঘটনার পর গৌ রক্ষা দলের এক শীর্ষ নেতা সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সে দাবি করে, অন্য সম্প্রদায় (মুসলিমরা) কেবল তাদের ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাই সম্প্রীতির কথা বলা এখন অর্থহীন। সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উস্কানি দিয়ে সে বলে, "আমি আমজনতার কাছে আপিল করছি আমাদের সমর্থন দিন। আমরা এই কাজ বন্ধ করব না। আমাদের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।"

এই ঘটনা ভারতের মাটিতে প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হওয়া মানবাধিকার, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্রকে আবারও বিশ্বমঞ্চে নগ্নভাবে উন্মোচিত করল।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


হরিয়ানায় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডব: দুই মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে নগ্ন করে পৈশাচিক নির্যাতন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কার্নাল জেলায় গো-পাচারের মিথ্যা অভিযোগে দুই মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে পথিমধ্যে আটকে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে উগ্র ডানপন্থী ‘গৌ রক্ষা দল’, ‘বজরং দল’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি)-এর কর্মীরা। প্রকাশ্য রাস্তায় ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ভুক্তভোগী মুসলিম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই মামলা (FIR) রেকর্ড করেছে স্থানীয় ১৩ নম্বর সেক্টর থানার পুলিশ।

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের আগ্রাসন ও মুসলিম নিধনের ধারাবাহিকতায় এবার হরিয়ানার কার্নালে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই মুসলিম পশুব্যবসায়ী। গো-রক্ষার নামে সক্রিয় উগ্রপন্থী দল ‘গৌ রক্ষা দল’, ‘বজরং দল’ এবং ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’-এর একদল সশস্ত্র ক্যাডার এই নৃশংস হামলা চালায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অতি-নৃশংস ভিডিওতে দেখা যায়, একদল কথিত গো-রক্ষক এক অর্ধনগ্ন মুসলিম ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে অত্যন্ত নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে, আর ভুক্তভোগী নিজেকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক উগ্রবাদী দাবি করে, এই ব্যবসায়ীরা নাকি বিহারে জবাই করার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে গরু পাচার করছিল।

নিজেদের এই বর্বরতাকে জায়েজ করতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীটি পাল্টা অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, মুসলিম ব্যবসায়ীদের ট্রাকটি ধাওয়া করার সময় নাকি ক্যাডারদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। এক গো-রক্ষক নেতা ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলে, "ট্রাকের ভেতরের মানুষগুলো মুসলিম ছিল। তারা আমাদের 'গৌ মাতা'কে জবাই করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, অথচ মানুষ আমাদের সমর্থন না করে গুন্ডা বলে! গুন্ডা তো তারা যারা গরু জবাই করে, আমরা নই।"

আশ্চর্যের বিষয় হলো, আক্রান্ত রক্তাক্ত দুই মুসলিম পুরুষকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর, পুলিশ প্রকৃত অপরাধী উগ্রপন্থীদের গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই 'অবৈধ গো-পাচার' আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে।

'শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব' — উগ্রবাদীদের হুঁশিয়ারি

ঘটনার পর গৌ রক্ষা দলের এক শীর্ষ নেতা সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের আহ্বানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। সে দাবি করে, অন্য সম্প্রদায় (মুসলিমরা) কেবল তাদের ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, তাই সম্প্রীতির কথা বলা এখন অর্থহীন। সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উস্কানি দিয়ে সে বলে, "আমি আমজনতার কাছে আপিল করছি আমাদের সমর্থন দিন। আমরা এই কাজ বন্ধ করব না। আমাদের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।"

এই ঘটনা ভারতের মাটিতে প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হওয়া মানবাধিকার, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্রকে আবারও বিশ্বমঞ্চে নগ্নভাবে উন্মোচিত করল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ