শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েতে মুসলিম ব্যবসায়ীদের মারধর ও পরিচয়পত্র তল্লাশি; পুলিশ ও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

আসামের কামাখ্যা মেলায় মুসলিম বিক্রেতাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী হেনস্থা ও উচ্ছেদ



আসামের কামাখ্যা মেলায় মুসলিম বিক্রেতাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী হেনস্থা ও উচ্ছেদ

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক কামাখ্যা মন্দিরের বার্ষিক 'আম্বুবাচি মেলা'র রুট থেকে মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা চরমভাবে হেনস্থা, মৌখিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে উচ্ছেদ করেছে। উগ্রপন্থীরা মুসলিম বিক্রেতাদের মারধর করার পাশাপাশি তাদের আধার কার্ড প্রদর্শনে বাধ্য করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক মানবাধিকার এবং জীবিকার অধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরে প্রতি বছর উদযাপিত হয় আম্বুবাচি মেলা, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলা এই মেলায় প্রায় আট লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। তবে এই উৎসবের আবহে অন্ধকার নেমে এসেছে স্থানীয় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতাদের জীবনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধী উগ্রপন্থীদের নিজেদের ধারণ করা বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের সদস্যরা মুসলিম বিক্রেতাদের ঘিরে ধরে জেরা করছে, "তোমরা মুসলিম হয়ে কেন হিন্দুদের ধর্মীয় জিনিসপত্র বিক্রি করছ?" এরপরই তাদের অনতিবিলম্বে দোকানপাট গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় মালা পরা এক মুসলিম বিক্রেতাকে উগ্রপন্থীরা শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে লাঞ্ছিত করছে। তার ঘাড়ে আঘাত করা হয় এবং জোরপূর্বক ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র তথা 'আধার কার্ড' দেখাতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনার সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশের আড়ালে মুসলিম ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে পদ্ধতিগতভাবে যে হয়রানি ও অর্থনৈতিক বয়কট চালানো হচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত 'মহা কুম্ভ মেলা'য় দেব-দেবীর ছবি ও পোস্টার বিক্রির সময় এক মুসলিম বিক্রেতাকে একইভাবে পুলিশের সামনে হেনস্থা ও উচ্ছেদ করেছিল হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। উগ্র ডানপন্থী দলগুলো সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্রেতাদের চিহ্নিত ও অপসারণ করতে জোরপূর্বক আধার কার্ড যাচাই অভিযান চালিয়েছিল। একইভাবে ২০২২ সাল থেকে কর্ণাটকের একাধিক মন্দির মেলায় বজরং দল এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো মুসলিম ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিল, যাতে লেখা ছিল মুসলিমরা সেখানে ব্যবসা করতে পারবে না।

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি সত্ত্বেও আসামের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আসাম পুলিশ বা কামরুপ মেট্রো জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের মাটিতে মুসলিমদের এই চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার হরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


আসামের কামাখ্যা মেলায় মুসলিম বিক্রেতাদের উগ্র হিন্দুত্ববাদী হেনস্থা ও উচ্ছেদ

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক কামাখ্যা মন্দিরের বার্ষিক 'আম্বুবাচি মেলা'র রুট থেকে মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা চরমভাবে হেনস্থা, মৌখিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে উচ্ছেদ করেছে। উগ্রপন্থীরা মুসলিম বিক্রেতাদের মারধর করার পাশাপাশি তাদের আধার কার্ড প্রদর্শনে বাধ্য করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম এই ধর্মীয় সমাবেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক মানবাধিকার এবং জীবিকার অধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরে প্রতি বছর উদযাপিত হয় আম্বুবাচি মেলা, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলা এই মেলায় প্রায় আট লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। তবে এই উৎসবের আবহে অন্ধকার নেমে এসেছে স্থানীয় দরিদ্র মুসলিম বিক্রেতাদের জীবনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধী উগ্রপন্থীদের নিজেদের ধারণ করা বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের সদস্যরা মুসলিম বিক্রেতাদের ঘিরে ধরে জেরা করছে, "তোমরা মুসলিম হয়ে কেন হিন্দুদের ধর্মীয় জিনিসপত্র বিক্রি করছ?" এরপরই তাদের অনতিবিলম্বে দোকানপাট গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় মালা পরা এক মুসলিম বিক্রেতাকে উগ্রপন্থীরা শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে লাঞ্ছিত করছে। তার ঘাড়ে আঘাত করা হয় এবং জোরপূর্বক ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র তথা 'আধার কার্ড' দেখাতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনার সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশের আড়ালে মুসলিম ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে পদ্ধতিগতভাবে যে হয়রানি ও অর্থনৈতিক বয়কট চালানো হচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত 'মহা কুম্ভ মেলা'য় দেব-দেবীর ছবি ও পোস্টার বিক্রির সময় এক মুসলিম বিক্রেতাকে একইভাবে পুলিশের সামনে হেনস্থা ও উচ্ছেদ করেছিল হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো। উগ্র ডানপন্থী দলগুলো সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিক্রেতাদের চিহ্নিত ও অপসারণ করতে জোরপূর্বক আধার কার্ড যাচাই অভিযান চালিয়েছিল। একইভাবে ২০২২ সাল থেকে কর্ণাটকের একাধিক মন্দির মেলায় বজরং দল এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো মুসলিম ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিল, যাতে লেখা ছিল মুসলিমরা সেখানে ব্যবসা করতে পারবে না।

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি সত্ত্বেও আসামের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আসাম পুলিশ বা কামরুপ মেট্রো জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের মাটিতে মুসলিমদের এই চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার হরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ