ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নাম ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। আজ শনিবার (১১ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক জরুরি সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত আলেম সমাজকে এই প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম এবং আলেম সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’-এর নাম ভাঙিয়ে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের প্রতারণার জাল বিছিয়েছে একটি চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের মসজিদগুলোর ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীলদের টার্গেট করে এই জালিয়াতি চালানো হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি এই চক্রটি ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কখনো টেলিফোনে, কখনো মোবাইল ফোনে, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সরকারি অনুদান, বিশেষ সম্মানী, ভাতা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আলেমদের বিভ্রান্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর, বিকাশ-রকেট-নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং মসজিদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জানতে চাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ওটিপি (OTP) ও পিন (PIN) নম্বর হাতিয়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লুটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা অচেনা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কেউ যদি কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধার লোভ দেখিয়ে গোপন পিন বা ওটিপি জানতে চায়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
এমতাবস্থায়, দেশের সম্মানিত ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দেশের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা, ইমাম প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবায় কাজ করে আসছে। আলেম সমাজ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রতারণামূলক তৎপরতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও পাহারাই এই জালিয়াতি চক্র রুখে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
বিষয় : ইসলামিক ফাউন্ডেশন

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) নাম ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও আর্থিক গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। আজ শনিবার (১১ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক জরুরি সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত আলেম সমাজকে এই প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষা, মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম এবং আলেম সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’-এর নাম ভাঙিয়ে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের প্রতারণার জাল বিছিয়েছে একটি চক্র। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের মসজিদগুলোর ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীলদের টার্গেট করে এই জালিয়াতি চালানো হচ্ছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি এই চক্রটি ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কখনো টেলিফোনে, কখনো মোবাইল ফোনে, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সরকারি অনুদান, বিশেষ সম্মানী, ভাতা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তারা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আলেমদের বিভ্রান্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারকরা বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর, বিকাশ-রকেট-নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং মসজিদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জানতে চাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ওটিপি (OTP) ও পিন (PIN) নম্বর হাতিয়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লুটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রধান কার্যালয় কিংবা এর কোনো জেলা বা উপজেলা কার্যালয় কখনোই অননুমোদিত ব্যক্তি বা অচেনা নম্বরের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে না। কেউ যদি কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধার লোভ দেখিয়ে গোপন পিন বা ওটিপি জানতে চায়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা।
এমতাবস্থায়, দেশের সম্মানিত ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক ফোনকলের মাধ্যমে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো তথ্য বা অর্থ দাবি করলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার চেষ্টা বা সন্দেহজনক যোগাযোগের ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দেশের মসজিদভিত্তিক শিক্ষা, ইমাম প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবায় কাজ করে আসছে। আলেম সমাজ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রতারণামূলক তৎপরতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও পাহারাই এই জালিয়াতি চক্র রুখে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।

আপনার মতামত লিখুন