শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

ও মুসলমান, একে মারো! — লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে মুসলিম চালকের গাড়ি জব্দ করল যোগী রাজ্যের পুলিশ

ভারতে মুসলিম অটোচালককে ‘শুয়োর’ সম্বোধন ও নির্মম মারধর করল ট্রাফিক পুলিশ



ভারতে মুসলিম অটোচালককে ‘শুয়োর’ সম্বোধন ও নির্মম মারধর করল ট্রাফিক পুলিশ

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে এক মুসলিম ই-অটো রিকশা চালক স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ইসলামোফোবিয়া ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। আক্রান্ত চালক মোহাম্মদ দানিশের অভিযোগ, মুসলমান হওয়ার অপরাধে তাকে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করে, লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে এবং তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন গাড়িটি বেআইনিভাবে জব্দ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অধিকার বিষয়ক উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়নের আরেকটি জঘন্য চিত্র সামনে এসেছে। কানপুর শহরের রাস্তায় এক মুসলিম ই-অটো রিকশা চালককে তীব্র সাম্প্রদায়িক হেনস্থা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আক্রান্ত ই-অটো চালক মোহাম্মদ দানিশকে ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে ট্রাফিক পুলিশের এই নৃশংস আচরণের বিবরণ দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে দানিশ কানপুরের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, তিনি যখন তার নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়িটি মেরামত করছিলেন, তখন আকস্মিক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তার ওপর চড়াও হন।

আক্রান্ত দানিশ ভিডিওতে বলেন:

"তারা আমাকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। তারা বলছিল, ‘ও তো মুসলমান, ওকে মারো!’ এমনকি তারা আমাকে ‘কাটুয়া’ (মুসলমানদের প্রতি ব্যবহৃত অত্যন্ত আপত্তিকর গালি) এবং ‘শুয়োর’ বলে চরম সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করেছে। এরপর তারা আমার গাড়িটি কেড়ে নেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘যেহেতু তুই মুসলমান, তোকে জেলেই পাঠিয়ে দেব।’"

পুলিশের আত্মপক্ষ সমর্থন ও রহস্যজনক নীরবতা

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা শুরু হলে মুখ খোলে কানপুর ট্রাফিক মিডিয়া সেল। তবে স্বভাবসুলভভাবেই তারা পুলিশের বিরুদ্ধে আনা মারধর এবং সাম্প্রদায়িক গালিগালাজের গুরুতর অভিযোগগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ট্রাফিক বিভাগের দাবি, চালক দানিশ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার ই-অটোটি আইনগতভাবে জব্দ করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মারধর, লাঠিপেটা এবং ইসলামভীতিমূলক গালিগালাজের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্টো তারা দাবি করেন, দানিশ নাকি প্রথমে পুলিশকে গালিগালাজ করেছিলেন, যা ভিডিওতে দেখানো হয়নি।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পদ্ধতিগত ইসলামোফোবিয়া

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সাধারণ মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো সাধারণ একটি অজুহাতকে পুঁজি করে একজন দরিদ্র দিনমজুর মুসলিমকে লাঠিপেটা করা এবং তার ধর্মীয় পরিচয় তুলে নোংরা গালিগালাজ করা প্রমাণ করে যে, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যটিতে সাধারণ মুসলিমদের কোনো নিরাপত্তা ও মানবাধিকার অবশিষ্ট নেই।

কওমি টাইমস বরাবরের মতোই বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর চলা এই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ভারতের মাটিতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


ভারতে মুসলিম অটোচালককে ‘শুয়োর’ সম্বোধন ও নির্মম মারধর করল ট্রাফিক পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে এক মুসলিম ই-অটো রিকশা চালক স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ইসলামোফোবিয়া ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। আক্রান্ত চালক মোহাম্মদ দানিশের অভিযোগ, মুসলমান হওয়ার অপরাধে তাকে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করে, লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে এবং তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন গাড়িটি বেআইনিভাবে জব্দ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অধিকার বিষয়ক উদ্বেগ আবারও সামনে এসেছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়নের আরেকটি জঘন্য চিত্র সামনে এসেছে। কানপুর শহরের রাস্তায় এক মুসলিম ই-অটো রিকশা চালককে তীব্র সাম্প্রদায়িক হেনস্থা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আক্রান্ত ই-অটো চালক মোহাম্মদ দানিশকে ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে ট্রাফিক পুলিশের এই নৃশংস আচরণের বিবরণ দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে দানিশ কানপুরের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, তিনি যখন তার নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়িটি মেরামত করছিলেন, তখন আকস্মিক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তার ওপর চড়াও হন।

আক্রান্ত দানিশ ভিডিওতে বলেন:

"তারা আমাকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। তারা বলছিল, ‘ও তো মুসলমান, ওকে মারো!’ এমনকি তারা আমাকে ‘কাটুয়া’ (মুসলমানদের প্রতি ব্যবহৃত অত্যন্ত আপত্তিকর গালি) এবং ‘শুয়োর’ বলে চরম সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করেছে। এরপর তারা আমার গাড়িটি কেড়ে নেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘যেহেতু তুই মুসলমান, তোকে জেলেই পাঠিয়ে দেব।’"

পুলিশের আত্মপক্ষ সমর্থন ও রহস্যজনক নীরবতা

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা শুরু হলে মুখ খোলে কানপুর ট্রাফিক মিডিয়া সেল। তবে স্বভাবসুলভভাবেই তারা পুলিশের বিরুদ্ধে আনা মারধর এবং সাম্প্রদায়িক গালিগালাজের গুরুতর অভিযোগগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ট্রাফিক বিভাগের দাবি, চালক দানিশ লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার ই-অটোটি আইনগতভাবে জব্দ করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মারধর, লাঠিপেটা এবং ইসলামভীতিমূলক গালিগালাজের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্টো তারা দাবি করেন, দানিশ নাকি প্রথমে পুলিশকে গালিগালাজ করেছিলেন, যা ভিডিওতে দেখানো হয়নি।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পদ্ধতিগত ইসলামোফোবিয়া

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সাধারণ মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো সাধারণ একটি অজুহাতকে পুঁজি করে একজন দরিদ্র দিনমজুর মুসলিমকে লাঠিপেটা করা এবং তার ধর্মীয় পরিচয় তুলে নোংরা গালিগালাজ করা প্রমাণ করে যে, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যটিতে সাধারণ মুসলিমদের কোনো নিরাপত্তা ও মানবাধিকার অবশিষ্ট নেই।

কওমি টাইমস বরাবরের মতোই বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর চলা এই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে ভারতের মাটিতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ