রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

অপপ্রচারণার ৫৭টি অভিযোগের ৫২টিই মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক; মাদরাসাগুলোকে সমাজ ও স্বাধীনতার দুর্গ হিসেবে রক্ষার আহ্বান

মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী



মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

দেশে কওমী ও দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত তিন মাসে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট জনশক্তির বিরুদ্ধে আসা ৫৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫২টিই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক প্রমাণিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমুসলিম ব্যক্তিদের ইমাম বা মাদরাসা শিক্ষক সাজিয়ে এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করার প্রমাণও মিলেছে। তিনি যেকোনো মূল্যে দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় আলেম সমাজকে আপসহীন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আকিদা রক্ষা এবং নৈতিক সমাজ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি কওমী মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগাণ্ডা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর মহাপরিচালক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী তাঁর এক বিশেষ বিবৃতিতে এই চক্রান্তের খতিয়ান ও মাদরাসা শিক্ষার বিশাল পরিধি তুলে ধরেছেন।

দেশের বিশাল মাদরাসা ও দ্বীনি শিক্ষার পরিধি

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী জানান, বর্তমানে কেবল বেফাকের অধীনেই নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ৩২,৮৩০টি। এর বাইরে অন্যান্য ৫টি বোর্ডের অধীনে আরও প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মাদরাসা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নূরানী, নাদিয়া, মকতবখানা, হাফেজিয়া, তাহিলি ও দীনিয়া নামের হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবমিলিয়ে দেশের ৬টি বোর্ডের অধীনে কওমী মাদরাসার সংখ্যা কমপক্ষে ৪০ হাজার, যা অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানসহ হিসাব করলে ৫০ থেকে ৬০ হাজারে উন্নীত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। এসব মসজিদের প্রায় সবকটিতেই পবিত্র কোরআন, হাদিস ও সুন্নতের তালিম বা ‘সবাহি মকতব’ রয়েছে, যা কওমী মাদরাসার নেসাব ও নিয়মে পরিচালিত হয়। এই সামগ্রিক দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা যোগ করলে দেশে কওমী ধারার মাদরাসা শিক্ষার পরিধি প্রায় ৪ লক্ষাধিক স্পর্শ করে।

অপপ্রচার ও চক্রান্তের স্বরূপ

বিবৃতিতে বেফাক মহাপরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসা শিক্ষাকে সমাজ ও বিশ্ব দরবারে নিন্দিত ও ধ্বংসযোগ্য করে তোলার জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক নেতিবাচক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। গত তিন মাসে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট জনশক্তির বিরুদ্ধে ৫৭টি অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫২টিই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও চক্রান্তমূলক। বাকি ৫টি অভিযোগ বর্তমানে মামলাধীন রয়েছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি কেউ সত্যিই দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে অপরাধীর ব্যক্তিগত দায় আলেম সমাজ কখনোই নেবে না।

ছদ্মবেশী শত্রু ও অমুসলিমদের অনুপ্রবেশ

একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে মাওলানা নদভী বলেন, দেশের শত বছরের মর্যাদাবান ইমামতি ও শিক্ষকতার পেশাকে বদনাম করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমুসলিম ব্যক্তিদের ছদ্মবেশে নিয়োজিত করার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহত্তর ফরিদপুর এবং উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় ছদ্মবেশী অমুসলিম ইমাম ও শিক্ষক হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এসব মন্দ স্বভাবের ব্যক্তি ও অনুপ্রবেশকারীরাই মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির একক অপরাধের জন্য কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা তার নিবন্ধন বাতিল করা যায় না; বরং অপরাধী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বোর্ডের প্রতিশ্রুতি ও আলেম সমাজের আহ্বান

শিক্ষকদের নৈতিক স্খলন বা খামখেয়ালিপনার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদরাসাও সমাজের বাইরে নয়, তাই পারিপার্শ্বিক ভাইরাসের প্রভাব এখানেও পড়তে পারে। তবে কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ থাকলে, নাগরিক হিসেবে তা তথ্য-উপাত্তসহ সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানানো উচিত। মজলুম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এবং তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে বেফাকসহ সব বোর্ডের কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,

"হাজার বছর ধরে মানুষের ধর্ম, নৈতিকতা, ঈমান ও সুন্দর জীবনের দিশারী আলেম, হাফেজ, উলামা ও ধর্মীয় শিক্ষকদের সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদাকে কতিপয় দুষ্ট লোক, ভিউ ব্যবসায়ী, টিকটকার এবং অপপ্রচারকারী দুশমনদের হাতের খেলনায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ইসলাম ও মুসলমানের ঈমানী জিন্দেগী ঠিক রাখার প্রয়োজনেই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষা ধরে রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে জীবন থাকতে আমরা কোনো আপস করব না।"

বিষয় : বেফাক কওমী মাদরাসা মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত: মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে কওমী ও দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর মহাপরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, গত তিন মাসে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট জনশক্তির বিরুদ্ধে আসা ৫৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫২টিই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চক্রান্তমূলক প্রমাণিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমুসলিম ব্যক্তিদের ইমাম বা মাদরাসা শিক্ষক সাজিয়ে এই মহান পেশাকে কলঙ্কিত করার প্রমাণও মিলেছে। তিনি যেকোনো মূল্যে দ্বীনি শিক্ষার ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় আলেম সমাজকে আপসহীন ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মুসলিম উম্মাহর ঈমান-আকিদা রক্ষা এবং নৈতিক সমাজ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি কওমী মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগাণ্ডা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর মহাপরিচালক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী তাঁর এক বিশেষ বিবৃতিতে এই চক্রান্তের খতিয়ান ও মাদরাসা শিক্ষার বিশাল পরিধি তুলে ধরেছেন।

দেশের বিশাল মাদরাসা ও দ্বীনি শিক্ষার পরিধি

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী জানান, বর্তমানে কেবল বেফাকের অধীনেই নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ৩২,৮৩০টি। এর বাইরে অন্যান্য ৫টি বোর্ডের অধীনে আরও প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মাদরাসা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে নূরানী, নাদিয়া, মকতবখানা, হাফেজিয়া, তাহিলি ও দীনিয়া নামের হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবমিলিয়ে দেশের ৬টি বোর্ডের অধীনে কওমী মাদরাসার সংখ্যা কমপক্ষে ৪০ হাজার, যা অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানসহ হিসাব করলে ৫০ থেকে ৬০ হাজারে উন্নীত হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে মসজিদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। এসব মসজিদের প্রায় সবকটিতেই পবিত্র কোরআন, হাদিস ও সুন্নতের তালিম বা ‘সবাহি মকতব’ রয়েছে, যা কওমী মাদরাসার নেসাব ও নিয়মে পরিচালিত হয়। এই সামগ্রিক দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা যোগ করলে দেশে কওমী ধারার মাদরাসা শিক্ষার পরিধি প্রায় ৪ লক্ষাধিক স্পর্শ করে।

অপপ্রচার ও চক্রান্তের স্বরূপ

বিবৃতিতে বেফাক মহাপরিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদরাসা শিক্ষাকে সমাজ ও বিশ্ব দরবারে নিন্দিত ও ধ্বংসযোগ্য করে তোলার জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক নেতিবাচক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। গত তিন মাসে মাদরাসা সংশ্লিষ্ট জনশক্তির বিরুদ্ধে ৫৭টি অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫২টিই সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও চক্রান্তমূলক। বাকি ৫টি অভিযোগ বর্তমানে মামলাধীন রয়েছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে যদি কেউ সত্যিই দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে অপরাধীর ব্যক্তিগত দায় আলেম সমাজ কখনোই নেবে না।

ছদ্মবেশী শত্রু ও অমুসলিমদের অনুপ্রবেশ

একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে মাওলানা নদভী বলেন, দেশের শত বছরের মর্যাদাবান ইমামতি ও শিক্ষকতার পেশাকে বদনাম করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অমুসলিম ব্যক্তিদের ছদ্মবেশে নিয়োজিত করার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহত্তর ফরিদপুর এবং উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় ছদ্মবেশী অমুসলিম ইমাম ও শিক্ষক হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। এসব মন্দ স্বভাবের ব্যক্তি ও অনুপ্রবেশকারীরাই মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির একক অপরাধের জন্য কোনো দ্বীনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা তার নিবন্ধন বাতিল করা যায় না; বরং অপরাধী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বোর্ডের প্রতিশ্রুতি ও আলেম সমাজের আহ্বান

শিক্ষকদের নৈতিক স্খলন বা খামখেয়ালিপনার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদরাসাও সমাজের বাইরে নয়, তাই পারিপার্শ্বিক ভাইরাসের প্রভাব এখানেও পড়তে পারে। তবে কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ থাকলে, নাগরিক হিসেবে তা তথ্য-উপাত্তসহ সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানানো উচিত। মজলুম শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এবং তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে বেফাকসহ সব বোর্ডের কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,

"হাজার বছর ধরে মানুষের ধর্ম, নৈতিকতা, ঈমান ও সুন্দর জীবনের দিশারী আলেম, হাফেজ, উলামা ও ধর্মীয় শিক্ষকদের সুপ্রতিষ্ঠিত মর্যাদাকে কতিপয় দুষ্ট লোক, ভিউ ব্যবসায়ী, টিকটকার এবং অপপ্রচারকারী দুশমনদের হাতের খেলনায় পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। ইসলাম ও মুসলমানের ঈমানী জিন্দেগী ঠিক রাখার প্রয়োজনেই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা শিক্ষা ধরে রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে জীবন থাকতে আমরা কোনো আপস করব না।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ