রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

যাত্রীদের নামাজ, বিশ্রাম ও উন্নত নাগরিক সেবার পরিধি বাড়াতে দেশজুড়ে আন্তঃপ্রাদেশিক মহাসড়কগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সমন্বিত সেবাকেন্দ্র বা রেস্ট এরিয়া নির্মাণ কাজ শুরু করেছে আফগান প্রশাসন

আফগানিস্তানে মহাসড়কগুলোতে আধুনিক ‘ইসলামিক ও নাগরিক’ সেবাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু



আফগানিস্তানে মহাসড়কগুলোতে আধুনিক ‘ইসলামিক ও নাগরিক’ সেবাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু

আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিক ও দূরপাল্লার মুসাফিরদের আন্তঃপ্রাদেশিক ভ্রমণে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সর্বোত্তম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে মহাসড়কগুলোর পাশে আধুনিক সমন্বিত সেবাকেন্দ্র (মহাসড়ক সেবামূলক কমপ্লেক্স) নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আফগান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভ্রমণকারীদের একই ছাদের নিচে নামাজ আদায়, বিশ্রাম ও উন্নত রিফ্রেশমেন্টের সুযোগ করে দিতেই সময়োপযোগী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এবার মহাসড়কগুলোর দিকে নজর দিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী, চালক এবং সাধারণ মুসাফিরদের সুবিধার্থে দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সংযোগ সড়কে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সমন্বিত সেবাকেন্দ্র নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই কমপ্লেক্সগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে একজন ভ্রমণকারী বা মুসাফিরের প্রয়োজনীয় সমস্ত লজিস্টিক ও ইবাদতের সুবিধা একই স্থানে নিশ্চিত করা যায়। প্রতিটি সেবাকেন্দ্রের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে থাকছে:

  • মসজিদ: মুসাফিরদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্ত পরিবেশে নামাজ আদায়ের জন্য বৃহৎ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর পৃথক পুরুষ ও মহিলা ইবাদতখানা।
  • বিশ্রামাগার ও হোটেল: দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে আধুনিক মানের থাকার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা।
  • রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেট: স্বাস্থ্যসম্মত হালাল খাবার নিশ্চিত করতে মানসম্পন্ন রেস্তোরাঁ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য সুপারশপ।
  • ফুয়েল স্টেশন: যানবাহনের জন্য আধুনিক তেলের পাম্প ও গ্যাস স্টেশন।
  • পার্কিং ও স্যানিটেশন: বিশাল গাড়ি পার্কিং এরিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও ওজুখানা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাসড়কগুলোতে সেবার মান উন্নত করা, মুসাফিরদের জন্য নিরাপদ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা।

দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে আফগানিস্তানে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা ফিরে আসছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে মানুষের যাতায়াত বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই সেবাকেন্দ্রগুলো সম্পন্ন হলে সাধারণ নাগরিকরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং মানসম্পন্ন পরিবেশে তাদের আন্তঃপ্রাদেশিক ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারবেন। মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য অনুসারে মুসাফিরদের সর্বোচ্চ আতিথেয়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সেবা নিশ্চিত করছে বর্তমান প্রশাসন।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


আফগানিস্তানে মহাসড়কগুলোতে আধুনিক ‘ইসলামিক ও নাগরিক’ সেবাকেন্দ্র নির্মাণ শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিক ও দূরপাল্লার মুসাফিরদের আন্তঃপ্রাদেশিক ভ্রমণে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সর্বোত্তম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে মহাসড়কগুলোর পাশে আধুনিক সমন্বিত সেবাকেন্দ্র (মহাসড়ক সেবামূলক কমপ্লেক্স) নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আফগান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভ্রমণকারীদের একই ছাদের নিচে নামাজ আদায়, বিশ্রাম ও উন্নত রিফ্রেশমেন্টের সুযোগ করে দিতেই সময়োপযোগী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এবার মহাসড়কগুলোর দিকে নজর দিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির যাত্রী, চালক এবং সাধারণ মুসাফিরদের সুবিধার্থে দেশজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সংযোগ সড়কে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সমন্বিত সেবাকেন্দ্র নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, এই কমপ্লেক্সগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে একজন ভ্রমণকারী বা মুসাফিরের প্রয়োজনীয় সমস্ত লজিস্টিক ও ইবাদতের সুবিধা একই স্থানে নিশ্চিত করা যায়। প্রতিটি সেবাকেন্দ্রের ভেতরে বাধ্যতামূলকভাবে থাকছে:

  • মসজিদ: মুসাফিরদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও শান্ত পরিবেশে নামাজ আদায়ের জন্য বৃহৎ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর পৃথক পুরুষ ও মহিলা ইবাদতখানা।
  • বিশ্রামাগার ও হোটেল: দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে আধুনিক মানের থাকার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা।
  • রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেট: স্বাস্থ্যসম্মত হালাল খাবার নিশ্চিত করতে মানসম্পন্ন রেস্তোরাঁ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য সুপারশপ।
  • ফুয়েল স্টেশন: যানবাহনের জন্য আধুনিক তেলের পাম্প ও গ্যাস স্টেশন।
  • পার্কিং ও স্যানিটেশন: বিশাল গাড়ি পার্কিং এরিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও ওজুখানা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মহাসড়কগুলোতে সেবার মান উন্নত করা, মুসাফিরদের জন্য নিরাপদ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করা।

দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে আফগানিস্তানে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতা ফিরে আসছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে মানুষের যাতায়াত বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই সেবাকেন্দ্রগুলো সম্পন্ন হলে সাধারণ নাগরিকরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অত্যন্ত নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং মানসম্পন্ন পরিবেশে তাদের আন্তঃপ্রাদেশিক ভ্রমণ সম্পন্ন করতে পারবেন। মুসলিম উম্মাহর ঐতিহ্য অনুসারে মুসাফিরদের সর্বোচ্চ আতিথেয়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সেবা নিশ্চিত করছে বর্তমান প্রশাসন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ