শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা ও বেছে বেছে সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর গুরুতর অভিযোগ তুলল স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়

দেরাদুনে লাউডস্পিকার অপসারণে পুলিশের অভিযান: 'একতরফা' হয়রানির অভিযোগে মুসলিমদের বিক্ষোভ



দেরাদুনে লাউডস্পিকার অপসারণে পুলিশের অভিযান: 'একতরফা' হয়রানির অভিযোগে মুসলিমদের বিক্ষোভ

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেরাদুনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লাউডস্পিকার অপসারণে পুলিশের চলমান অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত নীতিমালার অজুহাতে বেছে বেছে মুসলিম উপাসনালয়গুলোকে নিশানা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে অবিলম্বে এই অসংবিধানিক অভিযান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়ার নতুন ঘটনায় দেরাদুন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লাউডস্পিকার ও মাইক খুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে মূলত একতরফাভাবে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

পুলিশের দাবি ও আদালতের নির্দেশনা

দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের (এসএসপি) নির্দেশে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা একযোগে এই অপসারণ অভিযান শুরু করেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতেই নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শব্দ উৎপন্নকারী লাউডস্পিকারগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানের আওতায় একাধিক উপাসনালয় থেকে মাইক্রোফোন ও স্পিকার জব্দ করে পুলিশ।

বাছ বিচারহীন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

পুলিশি অভিযানের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় অধিবাসীরা। দেরাদুনের বিকাস নগর তহসিলে জড়ো হয়ে বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (ডিডিএম)-এর মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা এই পুলিশি পদক্ষেপকে পুরোপুরি 'অসংবিধানিক' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের বক্তব্য, যেসব উপাসনালয়ে মাইকের আওয়াজ নির্ধারিত সীমার ভেতরেই রয়েছে, প্রশাসন সেগুলোকেও ছাড় দিচ্ছে না। কোনো প্রকার পরিমাপ বা আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই মাইক খুলে ফেলা হচ্ছে।

আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন যে, আদালত কখনোই লাউডস্পিকার পুরোপুরি তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশে কেবল শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল। নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—পার্শ্ববর্তী অধিবাসীদের অসুবিধা না ঘটিয়ে শব্দ ৫০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করছেন, উত্তরাখণ্ড পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। কোথাও কোনো শব্দদূষণের অভিযোগ বা সাধারণ মানুষের আপত্তি না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ জোরপূর্বক মাইক সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রশাসনিক হয়রানির নতুন অংশ

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাখণ্ডে সরকারি জমি দখলের অজুহাত তুলে একাধিক সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়া বা সিলগালা করার অভিযোগ রয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। দেরাদুনের এই লাউডস্পিকার বিরোধী অভিযানকে সেই ধারাবাহিক প্রশাসনিক হয়রানি ও উগ্র এজেন্ডা বাস্তবায়নেরই অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইমরান খান নামের এক ব্যক্তি বলেন, "ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো বৈধ কারণ ছাড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ঢালাও পদক্ষেপ গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই অভিযান পর্যালোচনা করা এবং হয়রানি বন্ধ করা।"

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


দেরাদুনে লাউডস্পিকার অপসারণে পুলিশের অভিযান: 'একতরফা' হয়রানির অভিযোগে মুসলিমদের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেরাদুনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লাউডস্পিকার অপসারণে পুলিশের চলমান অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত নীতিমালার অজুহাতে বেছে বেছে মুসলিম উপাসনালয়গুলোকে নিশানা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে অবিলম্বে এই অসংবিধানিক অভিযান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়ার নতুন ঘটনায় দেরাদুন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লাউডস্পিকার ও মাইক খুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে মূলত একতরফাভাবে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

পুলিশের দাবি ও আদালতের নির্দেশনা

দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের (এসএসপি) নির্দেশে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা একযোগে এই অপসারণ অভিযান শুরু করেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের শব্দদূষণ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করতেই নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি শব্দ উৎপন্নকারী লাউডস্পিকারগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানের আওতায় একাধিক উপাসনালয় থেকে মাইক্রোফোন ও স্পিকার জব্দ করে পুলিশ।

বাছ বিচারহীন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

পুলিশি অভিযানের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় অধিবাসীরা। দেরাদুনের বিকাস নগর তহসিলে জড়ো হয়ে বিপুলসংখ্যক মুসলিম জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে তারা ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (ডিডিএম)-এর মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা এই পুলিশি পদক্ষেপকে পুরোপুরি 'অসংবিধানিক' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের বক্তব্য, যেসব উপাসনালয়ে মাইকের আওয়াজ নির্ধারিত সীমার ভেতরেই রয়েছে, প্রশাসন সেগুলোকেও ছাড় দিচ্ছে না। কোনো প্রকার পরিমাপ বা আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই মাইক খুলে ফেলা হচ্ছে।

আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন যে, আদালত কখনোই লাউডস্পিকার পুরোপুরি তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশে কেবল শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল। নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—পার্শ্ববর্তী অধিবাসীদের অসুবিধা না ঘটিয়ে শব্দ ৫০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করছেন, উত্তরাখণ্ড পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। কোথাও কোনো শব্দদূষণের অভিযোগ বা সাধারণ মানুষের আপত্তি না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ জোরপূর্বক মাইক সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রশাসনিক হয়রানির নতুন অংশ

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাখণ্ডে সরকারি জমি দখলের অজুহাত তুলে একাধিক সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা ভেঙে দেওয়া বা সিলগালা করার অভিযোগ রয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। দেরাদুনের এই লাউডস্পিকার বিরোধী অভিযানকে সেই ধারাবাহিক প্রশাসনিক হয়রানি ও উগ্র এজেন্ডা বাস্তবায়নেরই অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইমরান খান নামের এক ব্যক্তি বলেন, "ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো বৈধ কারণ ছাড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের ঢালাও পদক্ষেপ গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই অভিযান পর্যালোচনা করা এবং হয়রানি বন্ধ করা।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ