অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া শহরে পবিত্র কুরআনুল কারিম সম্প্রচারকারী একটি জনপ্রিয় রেডিও স্টেশনে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। ‘হুদা কুরআন আল-করিম’ নামের ঐ রেডিও কার্যালয়ে বুলডোজার ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে সকল সম্প্রচার সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং স্টেশনটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনের ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ওপর ইসরায়েলি বর্ণবাদী প্রশাসনের ধারাবাহিক আঘাতের অংশ হিসেবেই কুরআন প্রচারকারী এই মাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নতুন এক ন্যক্কারজনক অধ্যায় সংযোজিত হলো। ফিলিস্তিনের কালকিলিয়া শহরভিত্তিক জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন "হুদা কুরআন আল-করিম"-এর প্রধান কার্যালয়ে ভয়াবহ অভিযান চালিয়ে তা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাঁজোয়া যান ও বুলডোজার সহযোগে কালকিলিয়া শহরের কেন্দ্রস্থলে তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে তারা রেডিও স্টেশনটির কার্যালয় ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ে থাকা সমস্ত সম্প্রচার যন্ত্র, ট্রান্সমিটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় তারা।
অভিযান শেষে তেল আবিবের পক্ষ থেকে রেডিও স্টেশনটির প্রবেশদ্বারে একটি সামরিক নির্দেশনামা টানিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, "সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার" অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিষিদ্ধ ও বন্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রমের কারণে এই পবিত্র কুরআন ভিত্তিক রেডিও স্টেশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ দেখাতে পারেনি দখলদার বাহিনী।
সংবাদমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপে ফিলিস্তিন ও বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য রেডিওটি বন্ধ ঘোষণা করায় স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অধিকৃত ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইসরায়েলি বর্ণবাদী নীতি এবং হিন্দুত্ববাদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থার মতোই ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পরিকল্পিত অংশ হিসেবে এই ধরনের আগ্রাসনে নেমেছে ইসরায়েল। পবিত্র কুরআনের বাণীকে রুদ্ধ করার এই অপপ্রয়াস বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েলি চরমপন্থার আরেক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
বিষয় : মানবাধিকার ফিলিস্তিন

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালকিলিয়া শহরে পবিত্র কুরআনুল কারিম সম্প্রচারকারী একটি জনপ্রিয় রেডিও স্টেশনে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। ‘হুদা কুরআন আল-করিম’ নামের ঐ রেডিও কার্যালয়ে বুলডোজার ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে সকল সম্প্রচার সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং স্টেশনটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনের ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর ওপর ইসরায়েলি বর্ণবাদী প্রশাসনের ধারাবাহিক আঘাতের অংশ হিসেবেই কুরআন প্রচারকারী এই মাধ্যমটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নতুন এক ন্যক্কারজনক অধ্যায় সংযোজিত হলো। ফিলিস্তিনের কালকিলিয়া শহরভিত্তিক জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন "হুদা কুরআন আল-করিম"-এর প্রধান কার্যালয়ে ভয়াবহ অভিযান চালিয়ে তা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাঁজোয়া যান ও বুলডোজার সহযোগে কালকিলিয়া শহরের কেন্দ্রস্থলে তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে তারা রেডিও স্টেশনটির কার্যালয় ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ে থাকা সমস্ত সম্প্রচার যন্ত্র, ট্রান্সমিটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় তারা।
অভিযান শেষে তেল আবিবের পক্ষ থেকে রেডিও স্টেশনটির প্রবেশদ্বারে একটি সামরিক নির্দেশনামা টানিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, "সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার" অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিষিদ্ধ ও বন্ধ ঘোষণা করা হলো। তবে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রমের কারণে এই পবিত্র কুরআন ভিত্তিক রেডিও স্টেশনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ দেখাতে পারেনি দখলদার বাহিনী।
সংবাদমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতার ওপর এমন নগ্ন হস্তক্ষেপে ফিলিস্তিন ও বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য রেডিওটি বন্ধ ঘোষণা করায় স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অধিকৃত ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইসরায়েলি বর্ণবাদী নীতি এবং হিন্দুত্ববাদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থার মতোই ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলার পরিকল্পিত অংশ হিসেবে এই ধরনের আগ্রাসনে নেমেছে ইসরায়েল। পবিত্র কুরআনের বাণীকে রুদ্ধ করার এই অপপ্রয়াস বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে ইসরায়েলি চরমপন্থার আরেক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

আপনার মতামত লিখুন