শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মারাত্মক বৃদ্ধি ঘটেছে; কেবল জুন মাসেই রেকর্ড করা হয়েছে ৮৭টি হামলা, যার বড় অংশই শিকার মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়

ভারতে জুনে ৮৭টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: ১৫% বৃদ্ধির উদ্বেগে ঝুঁকিতে মুসলিম ও সংখ্যালঘুরা



ভারতে জুনে ৮৭টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: ১৫% বৃদ্ধির উদ্বেগে ঝুঁকিতে মুসলিম ও সংখ্যালঘুরা

ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম, দলিত ও খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত বিদ্বেষমূলক অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে। সিয়াসাত ডটকমের (Siasat.com) সাম্প্রতিক ট্র্যাকারে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত জুন মাসে দেশটিতে অন্তত ৮৭টি সংখ্যালঘু বিদ্বেষী অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। জনসমক্ষে মারধর, গণপিটুনি থেকে শুরু করে প্রকাশ্য হুমকি ও বুলেটের বলপ্রয়োগ—এই সহিংস চিত্রটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা উপস্থাপন করে। প্রকৃত পরিস্থিতি এর চেয়েও অনেক ভয়াবহ ও বিস্তৃত বলে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন।

ভারতে ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সিয়াসাত-এর তথ্য অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতে অন্তত ৮৭টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মে মাসের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৮৭টি ঘটনা কেবল সেগুলোকেই চিহ্নিত করে যেগুলো সংবাদমাধ্যম বা নথিপত্রে রেকর্ড করা সম্ভব হয়েছে। ভারতে দৈনন্দিন বৈষম্য, হুমকি এবং ভয়ভীতির বড় একটি অংশ কখনোই গণমাধ্যমে আসে না। ফলে বাস্তবতা হলো—মুসলিম, দলিত ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী জুন মাস জুড়ে যে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

মুসলিমদের ওপর দ্বিমুখী নীতি ও বিদ্বেষ

জুন মাসের একটি ঘটনা ভারতের আইনি ব্যবস্থার দ্বিমুখী নীতিকে উন্মোচিত করেছে। বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে নৌকায় উঠে পাঁচ হিন্দু ব্যক্তি বিয়ার ও মুরগি খেয়ে আনন্দ-উৎসব করে। অথচ এর আগে মার্চ মাসে ১৪ জন মুসলিম যুবক অনুরূপ কাজ করায় তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু জুন মাসের ওই পাঁচ হিন্দু ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এক দলকে ছাড় দেওয়া এবং অন্য দলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া ভারতের মুসলিমদের সামাজিক ও আইনিভাবে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতার হত্যাকাণ্ডের পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় মুসলিম নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে বিভীষিকাময় হুমকি দেয়। এমনকি কিছু উগ্রপন্থী নেতা প্রকাশ্যে “মুসলিম নারীদের গর্ভ থেকে সন্তান উপড়ে ফেলার” হুমকি পর্যন্ত দেয়।

অন্যদিকে সরকারের প্রতিনিধিরা এই বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারতে মুসলিমদের অনিরাপদ থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ভারতে মুসলিমরা নিরাপদ নয় বলাটা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।” তিনি যুক্তি দেন যে ভারতের সংবিধান সংখ্যালঘুদের পূর্ণ অধিকার দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুরা ভারতে আশ্রয় চায়।

রক্তক্ষয়ী সহিংসতা ও বুলডোজার রাজনীতি

মাঠ পর্যায়ের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন ও অত্যন্ত মর্মান্তিক:

পশ্চিমবঙ্গ: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা শাহ আলম (৭১) নামের এক বয়স্ক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে, কারণ তিনি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করতেন। একই সাথে রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা বোর্ডের বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করায় সাধারণ মুসলিম সমাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে।

বিহার: বিহারের সীতামারহি জেলায় গত ১৯ জুন ১২ বছরের এক মুসলিম শিশু, তৌফিক খানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১০ জনের একটি দল তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে এবং ইটের আঘাতে মাথা ছেঁচে নির্মমভাবে হত্যা করে ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখে।

বুলডোজার তাণ্ডব: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, মসজিদ ও মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়ার 'বুলডোজার কৌশল' জুনেও জারি ছিল। উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে অবৈধ নির্মাণের অজুহাতে অন্তত ৮টি স্থানে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ, হুমকি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তার বক্তব্যে তথাকথিত “লাভ জিহাদ” এবং “ল্যান্ড জিহাদ”-এর ভুয়া অভিযোগ এনে মুসলিম বিদ্বেষ আরও উস্কে দেন। তিনি বলেন, “ভারতের মাটি কোনো দখলদার বা আনুগত্যহীনদের জন্য ধর্মশালা হতে পারে না।”

হায়দ্রাবাদের বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী নেতা টি রাজা সিং মুসলিম নারীদের প্রতি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার পর মামলা থেকে বাঁচতে দাবি করেন, তিনি নাকি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ওই কথা বলেছিলেন!

দলিত ও খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন

জুন মাসে দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ১২টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৫টিতে প্রাণহানি ঘটে:

  • অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশ হেফাজতে এক দলিত নারীর মৃত্যু হয়।
  • মধ্যপ্রদেশে ভিন্ন জাতে বিয়ের অপরাধে এক নবদম্পতিকে ধাওয়া করে তরুণীকে হত্যা করা হয় (অনার কিলিং)।
  • উত্তর প্রদেশে থানায় কর্মকর্তাদের সামনেই দলিত যুবককে বিয়ে করার অপরাধে এক বাবা তার নিজের মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে।
  • পায়ে ম্যাসাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক দলিত পুরুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং অন্য এক দলিত কিশোরকে প্লাস দিয়ে নির্যাতন করে পায়ে পেরেক ঠুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

একইভাবে খ্রিস্টানদের ওপর হামলাও বজায় ছিল। ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে ধর্মান্তরের অভিযোগে উপজাতি খ্রিস্টান পরিবারকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়। আর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) উগ্রপন্থীরা খ্রিস্টানদের একটি প্রার্থনা সভায় পুলিশ প্রশাসনের সামনেই হামলা চালায়।

এমনকি উগ্রবাদীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অন্য এক হিন্দু যুবকও। উত্তর প্রদেশে এক হিন্দু তরুণকে জোরপূর্বক 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করা হয় এবং মুসলিমদের প্রতি গালিগালাজ করতে চাপ দেওয়া হয়, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ভারতে জুনে ৮৭টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ: ১৫% বৃদ্ধির উদ্বেগে ঝুঁকিতে মুসলিম ও সংখ্যালঘুরা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম, দলিত ও খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত বিদ্বেষমূলক অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে। সিয়াসাত ডটকমের (Siasat.com) সাম্প্রতিক ট্র্যাকারে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত জুন মাসে দেশটিতে অন্তত ৮৭টি সংখ্যালঘু বিদ্বেষী অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। জনসমক্ষে মারধর, গণপিটুনি থেকে শুরু করে প্রকাশ্য হুমকি ও বুলেটের বলপ্রয়োগ—এই সহিংস চিত্রটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা উপস্থাপন করে। প্রকৃত পরিস্থিতি এর চেয়েও অনেক ভয়াবহ ও বিস্তৃত বলে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন।

ভারতে ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সিয়াসাত-এর তথ্য অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতে অন্তত ৮৭টি বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। মে মাসের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৮৭টি ঘটনা কেবল সেগুলোকেই চিহ্নিত করে যেগুলো সংবাদমাধ্যম বা নথিপত্রে রেকর্ড করা সম্ভব হয়েছে। ভারতে দৈনন্দিন বৈষম্য, হুমকি এবং ভয়ভীতির বড় একটি অংশ কখনোই গণমাধ্যমে আসে না। ফলে বাস্তবতা হলো—মুসলিম, দলিত ও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী জুন মাস জুড়ে যে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

মুসলিমদের ওপর দ্বিমুখী নীতি ও বিদ্বেষ

জুন মাসের একটি ঘটনা ভারতের আইনি ব্যবস্থার দ্বিমুখী নীতিকে উন্মোচিত করেছে। বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে নৌকায় উঠে পাঁচ হিন্দু ব্যক্তি বিয়ার ও মুরগি খেয়ে আনন্দ-উৎসব করে। অথচ এর আগে মার্চ মাসে ১৪ জন মুসলিম যুবক অনুরূপ কাজ করায় তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু জুন মাসের ওই পাঁচ হিন্দু ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, এক দলকে ছাড় দেওয়া এবং অন্য দলকে কঠোর শাস্তি দেওয়া ভারতের মুসলিমদের সামাজিক ও আইনিভাবে আরও বেশি প্রান্তিক করে তুলছে।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক নেতার হত্যাকাণ্ডের পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় মুসলিম নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে বিভীষিকাময় হুমকি দেয়। এমনকি কিছু উগ্রপন্থী নেতা প্রকাশ্যে “মুসলিম নারীদের গর্ভ থেকে সন্তান উপড়ে ফেলার” হুমকি পর্যন্ত দেয়।

অন্যদিকে সরকারের প্রতিনিধিরা এই বাস্তবতা অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ভারতে মুসলিমদের অনিরাপদ থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “ভারতে মুসলিমরা নিরাপদ নয় বলাটা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।” তিনি যুক্তি দেন যে ভারতের সংবিধান সংখ্যালঘুদের পূর্ণ অধিকার দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুরা ভারতে আশ্রয় চায়।

রক্তক্ষয়ী সহিংসতা ও বুলডোজার রাজনীতি

মাঠ পর্যায়ের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন ও অত্যন্ত মর্মান্তিক:

পশ্চিমবঙ্গ: ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মীরা শাহ আলম (৭১) নামের এক বয়স্ক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে, কারণ তিনি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করতেন। একই সাথে রাজ্য সরকার সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা বোর্ডের বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করায় সাধারণ মুসলিম সমাজ চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে।

বিহার: বিহারের সীতামারহি জেলায় গত ১৯ জুন ১২ বছরের এক মুসলিম শিশু, তৌফিক খানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১০ জনের একটি দল তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে এবং ইটের আঘাতে মাথা ছেঁচে নির্মমভাবে হত্যা করে ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রাখে।

বুলডোজার তাণ্ডব: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ঘরবাড়ি, মসজিদ ও মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়ার 'বুলডোজার কৌশল' জুনেও জারি ছিল। উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে অবৈধ নির্মাণের অজুহাতে অন্তত ৮টি স্থানে ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ, হুমকি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তার বক্তব্যে তথাকথিত “লাভ জিহাদ” এবং “ল্যান্ড জিহাদ”-এর ভুয়া অভিযোগ এনে মুসলিম বিদ্বেষ আরও উস্কে দেন। তিনি বলেন, “ভারতের মাটি কোনো দখলদার বা আনুগত্যহীনদের জন্য ধর্মশালা হতে পারে না।”

হায়দ্রাবাদের বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী নেতা টি রাজা সিং মুসলিম নারীদের প্রতি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার পর মামলা থেকে বাঁচতে দাবি করেন, তিনি নাকি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ওই কথা বলেছিলেন!

দলিত ও খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন

জুন মাসে দলিত সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ১২টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ৫টিতে প্রাণহানি ঘটে:

  • অন্ধ্রপ্রদেশে পুলিশ হেফাজতে এক দলিত নারীর মৃত্যু হয়।
  • মধ্যপ্রদেশে ভিন্ন জাতে বিয়ের অপরাধে এক নবদম্পতিকে ধাওয়া করে তরুণীকে হত্যা করা হয় (অনার কিলিং)।
  • উত্তর প্রদেশে থানায় কর্মকর্তাদের সামনেই দলিত যুবককে বিয়ে করার অপরাধে এক বাবা তার নিজের মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে।
  • পায়ে ম্যাসাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক দলিত পুরুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং অন্য এক দলিত কিশোরকে প্লাস দিয়ে নির্যাতন করে পায়ে পেরেক ঠুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

একইভাবে খ্রিস্টানদের ওপর হামলাও বজায় ছিল। ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে ধর্মান্তরের অভিযোগে উপজাতি খ্রিস্টান পরিবারকে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়। আর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) উগ্রপন্থীরা খ্রিস্টানদের একটি প্রার্থনা সভায় পুলিশ প্রশাসনের সামনেই হামলা চালায়।

এমনকি উগ্রবাদীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অন্য এক হিন্দু যুবকও। উত্তর প্রদেশে এক হিন্দু তরুণকে জোরপূর্বক 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করা হয় এবং মুসলিমদের প্রতি গালিগালাজ করতে চাপ দেওয়া হয়, যা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ