মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর উসকানি ও উগ্রবাদী দখলদারদের হামলা তীব্র রূপ নিয়েছে; এক মাসেই আজান বন্ধ ১৫৫ বার, আকসায় ২৭ বার হামলা

জুলাই মাসে ইব্রাহিমি মসজিদে আজান দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ



জুলাই মাসে ইব্রাহিমি মসজিদে আজান দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-খলিল (হেব্রন) শহরের ঐতিহাসিক আল-হারাম আল-ইব্রাহিমি (ইব্রাহিমি মসজিদ)-এ গত জুলাই মাসে সম্পূর্ণভাবে আজান দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তথাকথিত নিরাপত্তা অজুহাতে মাসজুড়ে মোট ১৫৫ বার আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যার ফলে পুরো মাসে সেখানে একবারও আজান দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে আল-আকসা মসজিদে ২৭ বার উগ্রবাদী দখলদারদের নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ এবং আল-খলিলের ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহিমি মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও চরমপন্থী দখলদারদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই মাসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলা এই ধর্মীয় নিপীড়নের নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে ইব্রাহিমি মসজিদে মোট ১৫৫ বার আজান দিতে বাধা দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত আজানের হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো পুরো জুলাই মাসে ওই ঐতিহাসিক মসজিদে এক মুহূর্তের জন্যও আজানের সুর ধ্বনিত হতে দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদেও উগ্রবাদী ইহুদি দখলদারদের তাণ্ডব অব্যাহত ছিল। পুরো মাসে অন্তত ২৭ বার আল-আকসা প্রাঙ্গণে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য (MK), তথাকথিত ‘টেম্পল মাউন্ট’ ট্রাস্টের উগ্রবাদী প্রধানরা এবং তাদের পাহারায় থাকা সশস্ত্র ইসরায়েলি পুলিশ।

হামলাকারীরা আল-আকসার পবিত্র প্রাঙ্গণে তালমুডীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে, ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দখলদার ইহুদিরা আল-আকসার আঙিনায় পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এবং পূর্ব অংশে স্থায়ী শেড/ছাউনি নির্মাণ করে—যা ঐতিহাসিক 'স্ট্যাটাস কো' (স্থিতাবস্থা)-র চরম লঙ্ঘন।

ওয়াকফ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যখন জুম্মার দিনগুলোতে সাধারণ মুসলিম মুসল্লি এবং ওয়াকফ কর্মীদের আকসায় প্রবেশে কঠোর কড়াকড়ি ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই আল-আকসার পবিত্র আঙিনায় এক অবৈধ ইসরায়েলি দখলদার দম্পতির বাগদান অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় দখলদার পুলিশ। এছাড়া, আল-আকসার প্রখ্যাত খতিব শেখ মুহাম্মদ হুসাইনকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করে রিমান্ডে নেয় ইসরায়েলি পুলিশ।

এই ধর্মীয় নিপীড়ন কেবল জেরুজালেম বা আল-খলিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকাতেও ফিলিস্তিনিদের উপাসনালয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মাসাফির ইয়াত্তা, তুলকারেম এবং নাবলুসে তিনটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রবাদী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। পাশাপাশি আল-খলিলের উত্তরে বায়ত উম্মার শহরে অবস্থিত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মসজিদেও তাণ্ডব চালিয়ে ভবন ও আসবাবপত্রের চরম ক্ষতিসাধন করে ইসরায়েলি বাহিনী।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব হামলা ও সুপরিকল্পিত আগ্রাসন মূলতঃ পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাস (Annexation) করার ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে চূড়ান্তভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: তথাকথিত ‘টেম্পল’ বা ‘টেম্পল মাউন্ট’ গোষ্ঠীগুলো হলো ইসরায়েলি পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তায় নিয়মিত আল-আকসায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী উগ্রপন্থী সংগঠন। তারা আল-আকসার বর্তমান স্থিতাবস্থা ধ্বংস করতে চায় এবং পবিত্র আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে নিজেদের কাল্পনিক তৃতীয় টেম্পল নির্মাণের উগ্র পরিকল্পনা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে আসছে।

বিষয় : ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জুলাই মাসে ইব্রাহিমি মসজিদে আজান দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-খলিল (হেব্রন) শহরের ঐতিহাসিক আল-হারাম আল-ইব্রাহিমি (ইব্রাহিমি মসজিদ)-এ গত জুলাই মাসে সম্পূর্ণভাবে আজান দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তথাকথিত নিরাপত্তা অজুহাতে মাসজুড়ে মোট ১৫৫ বার আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যার ফলে পুরো মাসে সেখানে একবারও আজান দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে আল-আকসা মসজিদে ২৭ বার উগ্রবাদী দখলদারদের নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ এবং আল-খলিলের ঐতিহ্যবাহী ইব্রাহিমি মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও চরমপন্থী দখলদারদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই মাসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলা এই ধর্মীয় নিপীড়নের নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে ইব্রাহিমি মসজিদে মোট ১৫৫ বার আজান দিতে বাধা দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত আজানের হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো পুরো জুলাই মাসে ওই ঐতিহাসিক মসজিদে এক মুহূর্তের জন্যও আজানের সুর ধ্বনিত হতে দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদেও উগ্রবাদী ইহুদি দখলদারদের তাণ্ডব অব্যাহত ছিল। পুরো মাসে অন্তত ২৭ বার আল-আকসা প্রাঙ্গণে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্য (MK), তথাকথিত ‘টেম্পল মাউন্ট’ ট্রাস্টের উগ্রবাদী প্রধানরা এবং তাদের পাহারায় থাকা সশস্ত্র ইসরায়েলি পুলিশ।

হামলাকারীরা আল-আকসার পবিত্র প্রাঙ্গণে তালমুডীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে, ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো দখলদার ইহুদিরা আল-আকসার আঙিনায় পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসে এবং পূর্ব অংশে স্থায়ী শেড/ছাউনি নির্মাণ করে—যা ঐতিহাসিক 'স্ট্যাটাস কো' (স্থিতাবস্থা)-র চরম লঙ্ঘন।

ওয়াকফ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যখন জুম্মার দিনগুলোতে সাধারণ মুসলিম মুসল্লি এবং ওয়াকফ কর্মীদের আকসায় প্রবেশে কঠোর কড়াকড়ি ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই আল-আকসার পবিত্র আঙিনায় এক অবৈধ ইসরায়েলি দখলদার দম্পতির বাগদান অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় দখলদার পুলিশ। এছাড়া, আল-আকসার প্রখ্যাত খতিব শেখ মুহাম্মদ হুসাইনকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করে রিমান্ডে নেয় ইসরায়েলি পুলিশ।

এই ধর্মীয় নিপীড়ন কেবল জেরুজালেম বা আল-খলিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকাতেও ফিলিস্তিনিদের উপাসনালয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মাসাফির ইয়াত্তা, তুলকারেম এবং নাবলুসে তিনটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে উগ্রবাদী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। পাশাপাশি আল-খলিলের উত্তরে বায়ত উম্মার শহরে অবস্থিত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মসজিদেও তাণ্ডব চালিয়ে ভবন ও আসবাবপত্রের চরম ক্ষতিসাধন করে ইসরায়েলি বাহিনী।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব হামলা ও সুপরিকল্পিত আগ্রাসন মূলতঃ পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাস (Annexation) করার ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে চূড়ান্তভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং মুসলিমদের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য: তথাকথিত ‘টেম্পল’ বা ‘টেম্পল মাউন্ট’ গোষ্ঠীগুলো হলো ইসরায়েলি পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তায় নিয়মিত আল-আকসায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী উগ্রপন্থী সংগঠন। তারা আল-আকসার বর্তমান স্থিতাবস্থা ধ্বংস করতে চায় এবং পবিত্র আকসা মসজিদ ভেঙে সেখানে নিজেদের কাল্পনিক তৃতীয় টেম্পল নির্মাণের উগ্র পরিকল্পনা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে আসছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ