শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

দুই দশকের মার্কিন দখলদারিত্বের অবসানের ৫ বছর পর আফগানিস্তান জুড়ে স্বস্তি ও নিরাপত্তার নতুন আবহ; অর্থনীতি, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির দাবি।

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বিজয়ের ৫ বছর পূর্তি: শান্তি, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়



ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বিজয়ের ৫ বছর পূর্তি: শান্তি, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, বিদেশি সামরিক আগ্রাসন ও পশ্চিমা দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তানের ইতিহাসে নতুন মোড় এসেছিল ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর কাবুলে আফগান মুজাহিদদের প্রবেশের মাধ্যমে মার্কিন সমর্থিত পুতুল সরকারের পতন ঘটে এবং ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করে। আজ ঐতিহাসিক সেই মহান স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫ বছর পূর্ণ হলো। এই পাঁচ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি সার্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পথে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

আফগানিস্তানের মাটি থেকে বিদেশি দখলদারদের বিতাড়ন এবং সার্বভৌম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলে আফগান মুজাহিদদের বিজয় পতাকাতলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ২০ বছরের সামরিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত যবনিকা ঘটেছিল। সেদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন পশ্চিমা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এই ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ পর, ৩০ আগস্ট রাতে শেষ মার্কিন সেনাবাহী বিমানটি কাবুল ত্যাগ করার মাধ্যমে আফগান মাটি পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।

বিগত পাঁচ বছরের শাসনকালে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার সারা দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, পবিত্র ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত পুনর্গঠন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে তাদের প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। যে আফগানিস্তান একসময় প্রতিদিনের বোমা হামলা ও গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল, সেখানে আজ দীর্ঘ চার দশক পর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আম আদমি ও সাধারণ আফগান নাগরিকরা গত পাঁচ বছরের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ ও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ হওয়ায় সাধারণ আফগানরা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পাঁচ বছরে আফগানিস্তান আত্মনির্ভরশীলতার দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছে। হাজার হাজার অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিদেশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য রুটের সাথে আফগানিস্তানকে যুক্ত করা ইমারাতে ইসলামিয়ার এক অভূতপূর্ব অর্জন।

ইমারাতে ইসলামিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের পথচলায় সবচেয়ে বড় সফলতা হলো বিভক্ত আফগান জাতিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা এবং সকল পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে জাতীয় সংহতি নিশ্চিত করা। তারা আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেই দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

যদিও দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও আফগান জনগণ ও সুশীল সমাজ বিশ্বাস করে যে, বিদেশি শক্তির গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরাই গঠন করার এই সুযোগ আফগান ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। পাঁচ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে দেশ পুনর্গঠন ও নাগরিক কল্যাণে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।

বিষয় : আফগানিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিজয়

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বিজয়ের ৫ বছর পূর্তি: শান্তি, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের নতুন অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত, বিদেশি সামরিক আগ্রাসন ও পশ্চিমা দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে আফগানিস্তানের ইতিহাসে নতুন মোড় এসেছিল ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট। রাজধানীর কাবুলে আফগান মুজাহিদদের প্রবেশের মাধ্যমে মার্কিন সমর্থিত পুতুল সরকারের পতন ঘটে এবং ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করে। আজ ঐতিহাসিক সেই মহান স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫ বছর পূর্ণ হলো। এই পাঁচ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি সার্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পথে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

আফগানিস্তানের মাটি থেকে বিদেশি দখলদারদের বিতাড়ন এবং সার্বভৌম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুলে আফগান মুজাহিদদের বিজয় পতাকাতলে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ২০ বছরের সামরিক আগ্রাসনের চূড়ান্ত যবনিকা ঘটেছিল। সেদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তৎকালীন পশ্চিমা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এই ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ পর, ৩০ আগস্ট রাতে শেষ মার্কিন সেনাবাহী বিমানটি কাবুল ত্যাগ করার মাধ্যমে আফগান মাটি পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।

বিগত পাঁচ বছরের শাসনকালে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার সারা দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, পবিত্র ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত পুনর্গঠন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে তাদের প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। যে আফগানিস্তান একসময় প্রতিদিনের বোমা হামলা ও গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ছিল, সেখানে আজ দীর্ঘ চার দশক পর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আম আদমি ও সাধারণ আফগান নাগরিকরা গত পাঁচ বছরের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ ও বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ হওয়ায় সাধারণ আফগানরা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পাঁচ বছরে আফগানিস্তান আত্মনির্ভরশীলতার দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছে। হাজার হাজার অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিদেশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য রুটের সাথে আফগানিস্তানকে যুক্ত করা ইমারাতে ইসলামিয়ার এক অভূতপূর্ব অর্জন।

ইমারাতে ইসলামিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরের পথচলায় সবচেয়ে বড় সফলতা হলো বিভক্ত আফগান জাতিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা এবং সকল পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়ে জাতীয় সংহতি নিশ্চিত করা। তারা আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেই দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

যদিও দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও আফগান জনগণ ও সুশীল সমাজ বিশ্বাস করে যে, বিদেশি শক্তির গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের রাষ্ট্র নিজেরাই গঠন করার এই সুযোগ আফগান ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। পাঁচ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক দিনে দেশ পুনর্গঠন ও নাগরিক কল্যাণে ইমারাতে ইসলামিয়া সরকার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ