শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইতিহাসের রহস্য ও নানা ধর্মীয়, সামাজিক বা নিরাপত্তার কারণে শত শত বছর ধরে সিলগালা করে রাখা বিশ্বের পাঁচটি প্রাচীন প্রবেশদ্বারের নেপথ্য গল্প।

বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ৫টি প্রবেশদ্বার: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেন এগুলো অবরুদ্ধ?


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ৫টি প্রবেশদ্বার: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেন এগুলো অবরুদ্ধ?

মানবসভ্যতার ইতিহাস উন্মোচিত ও অন্ধকারচ্ছন্ন বহু রহস্যে ঘেরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বার রয়েছে যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কড়া পাহারায় বন্ধ রাখা হয়েছে। জেরুজালেম, ইস্তাম্বুল, ভারত, চীন ও মিসরের এসব প্রাচীন দ্বারের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক শোক, প্রাচীন অভিশাপের ভীতি কিংবা বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তার কারণ।

মানবজাতির কৌতূহল চিরন্তন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে রহস্যময় মাটির নিচের চেম্বার—অজানা তথ্য জানার ইচ্ছা মানুষকে যুগে যুগে তাড়া করে ফিরেছে। পৃথিবীর পাঁচটি ঐতিহাসিক স্থান ও তাদের অবরুদ্ধ প্রবেশদ্বারের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

জেরুজালেমের গোল্ডেন গেট (আল-কুদস)

বায়তুল মুকাদ্দাস বা আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রাচীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বারটি 'বাব আল-রাহমা' নামেও পরিচিত। ১৫৪১ সালে উসমানীয় (অটোমান) সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির শাসনামলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এটি পাথর দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন সামরিক কৌশল ও শহরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মজবুত করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আজও এটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ফেন্যার গ্রীক প্যাট্রিয়ার্কেটের প্রধান ফটক (ইস্তাম্বুল, তুরস্ক)

১৮২১ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত গ্রীক বিদ্রোহে উস্কানি ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তৎকালীন প্যাট্রিয়ার্ক পঞ্চম গ্রিগোরিওসকে এই প্রধান ফটকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকে অর্থোডক্স খ্রিষ্টান সম্প্রদায় শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুই শতাধিক বছর পার হয়ে গেলেও শোকের প্রতীক হিসেবে এই প্রবেশদ্বারটি এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের 'ভল্ট বি' (কেরালা, ভারত)

ভারতের কেরালায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অগাধ ধনসম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে মন্দিরের 'ভল্ট বি' বা ষষ্ঠ চেম্বারটি ১৬ শতক থেকে সম্পূর্ণ সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাস ও অভিশাপের লোকগাথা এবং পরবর্তীতে দেশটির আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দরজাটি খোলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

প্রথম চীনা সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর সমাধি (চীন)

খ্রিস্টপূর্ব ২১০ অব্দে নির্মিত চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর বিশাল সমাধিসৌধটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সমাধির ভেতরে অত্যাধিক মাত্রায় বিষাক্ত পারদ (Mercury) বিদ্যমান এবং প্রাচীন এই স্থাপনাটি উন্মুক্ত করলে বায়ুর সংস্পর্শে এসে ভেতরের প্রত্নসম্পদ ধ্বংস হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বৈজ্ঞানিক সুরক্ষার তাগিদে এটি বন্ধ রয়েছে।

গিজার স্পিন্স-এর ভূগর্ভস্থ কক্ষসমূহ (মিসর)

খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে নির্মিত মিসরের বিখ্যাত গিজা পিরামিড ও স্পিন্সের নিচে বেশ কিছু রহস্যময় কক্ষের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তবে মাটির নিচের সুপ্রাচীন গঠন ও ধসে পড়ার চরম ঝুঁকির কারণে এসব কক্ষে নতুন করে খননকাজ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিষয় : ইতিহাস

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ৫টি প্রবেশদ্বার: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেন এগুলো অবরুদ্ধ?

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মানবসভ্যতার ইতিহাস উন্মোচিত ও অন্ধকারচ্ছন্ন বহু রহস্যে ঘেরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বার রয়েছে যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কড়া পাহারায় বন্ধ রাখা হয়েছে। জেরুজালেম, ইস্তাম্বুল, ভারত, চীন ও মিসরের এসব প্রাচীন দ্বারের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক শোক, প্রাচীন অভিশাপের ভীতি কিংবা বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তার কারণ।

মানবজাতির কৌতূহল চিরন্তন। প্রাচীন পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে রহস্যময় মাটির নিচের চেম্বার—অজানা তথ্য জানার ইচ্ছা মানুষকে যুগে যুগে তাড়া করে ফিরেছে। পৃথিবীর পাঁচটি ঐতিহাসিক স্থান ও তাদের অবরুদ্ধ প্রবেশদ্বারের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

জেরুজালেমের গোল্ডেন গেট (আল-কুদস)

বায়তুল মুকাদ্দাস বা আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের প্রাচীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রবেশদ্বারটি 'বাব আল-রাহমা' নামেও পরিচিত। ১৫৪১ সালে উসমানীয় (অটোমান) সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির শাসনামলে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং রাজনৈতিক-ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এটি পাথর দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন সামরিক কৌশল ও শহরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মজবুত করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আজও এটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ফেন্যার গ্রীক প্যাট্রিয়ার্কেটের প্রধান ফটক (ইস্তাম্বুল, তুরস্ক)

১৮২১ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত গ্রীক বিদ্রোহে উস্কানি ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তৎকালীন প্যাট্রিয়ার্ক পঞ্চম গ্রিগোরিওসকে এই প্রধান ফটকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকে অর্থোডক্স খ্রিষ্টান সম্প্রদায় শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। দুই শতাধিক বছর পার হয়ে গেলেও শোকের প্রতীক হিসেবে এই প্রবেশদ্বারটি এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের 'ভল্ট বি' (কেরালা, ভারত)

ভারতের কেরালায় অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভূগর্ভস্থ কক্ষে অগাধ ধনসম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে মন্দিরের 'ভল্ট বি' বা ষষ্ঠ চেম্বারটি ১৬ শতক থেকে সম্পূর্ণ সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাস ও অভিশাপের লোকগাথা এবং পরবর্তীতে দেশটির আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই দরজাটি খোলার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

প্রথম চীনা সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর সমাধি (চীন)

খ্রিস্টপূর্ব ২১০ অব্দে নির্মিত চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং-এর বিশাল সমাধিসৌধটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে খনন করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সমাধির ভেতরে অত্যাধিক মাত্রায় বিষাক্ত পারদ (Mercury) বিদ্যমান এবং প্রাচীন এই স্থাপনাটি উন্মুক্ত করলে বায়ুর সংস্পর্শে এসে ভেতরের প্রত্নসম্পদ ধ্বংস হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বৈজ্ঞানিক সুরক্ষার তাগিদে এটি বন্ধ রয়েছে।

গিজার স্পিন্স-এর ভূগর্ভস্থ কক্ষসমূহ (মিসর)

খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে নির্মিত মিসরের বিখ্যাত গিজা পিরামিড ও স্পিন্সের নিচে বেশ কিছু রহস্যময় কক্ষের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। তবে মাটির নিচের সুপ্রাচীন গঠন ও ধসে পড়ার চরম ঝুঁকির কারণে এসব কক্ষে নতুন করে খননকাজ পরিচালনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ