বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মনসুন মৌসুমে আগাম তথ্য না দিয়ে চেনাব নদীর পানি ছাড়ায় নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র ঝুঁকি; দিল্লির পদক্ষেপকে দেখভাল নয়, বরং পরিকল্পিত ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পূর্বাভাস ছাড়াই বাগলিহার বাঁধের কপাট খুলল ভারত, পাকিস্তানে বন্যার আশঙ্কা



পূর্বাভাস ছাড়াই বাগলিহার বাঁধের কপাট খুলল ভারত, পাকিস্তানে বন্যার আশঙ্কা

ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় অবস্থিত বাগলিহার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের কপাট কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই খুলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ (Indus Waters Treaty)-র স্পষ্ট লঙ্ঘন করে ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় পলি অপসারণের (silt flushing) উদ্দেশ্যে এই পানি ছাড়া হয়। মৌসুমি বৃষ্টির কারণে চেনাব (ঝিলাম) নদীতে যখন এমনিতেই পানির প্রবাহ বেশি, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ পাকিস্তান অংশসহ নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও প্রাণহানির গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন নীতিমালা ও ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তিকে তোয়াক্কা না করে পাকিস্তান অভিমুখে চেনাব নদীর পানি ছেড়ে দিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। রামবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাগলিহার জলাধারের জমে থাকা পলি পরিষ্কারের জন্য ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় বাঁধের সব কপাট খুলে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, পলি অপসারণের সময় অতিরিক্ত পানি ছাড়ার কারণে চেনাব নদীর নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করবে। এর ফলে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জেলে ও গবাদিপশু মালিকদের নদী তীর থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস (KMS) ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী যেকোনো বাঁধ থেকে হঠাৎ বা অতিরিক্ত পানি ছাড়ার আগে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগাম তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সতর্কবার্তা বা তথ্য পাকিস্তানকে দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে এবং পানিকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেই বিজেপি সরকার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছে। ইতোমধ্যে ভারি বর্ষণে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে; এই অবস্থায় কোনো পূর্বাভাস না দিয়ে বাঁধ খোলা কেবল চুক্তি লঙ্ঘন নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলার শামিল।

বিষয় : পাকিস্তান ভারত জম্মু কাশ্মীর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


পূর্বাভাস ছাড়াই বাগলিহার বাঁধের কপাট খুলল ভারত, পাকিস্তানে বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় অবস্থিত বাগলিহার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের কপাট কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই খুলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ (Indus Waters Treaty)-র স্পষ্ট লঙ্ঘন করে ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় পলি অপসারণের (silt flushing) উদ্দেশ্যে এই পানি ছাড়া হয়। মৌসুমি বৃষ্টির কারণে চেনাব (ঝিলাম) নদীতে যখন এমনিতেই পানির প্রবাহ বেশি, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ পাকিস্তান অংশসহ নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও প্রাণহানির গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন নীতিমালা ও ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তিকে তোয়াক্কা না করে পাকিস্তান অভিমুখে চেনাব নদীর পানি ছেড়ে দিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। রামবান জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাগলিহার জলাধারের জমে থাকা পলি পরিষ্কারের জন্য ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় বাঁধের সব কপাট খুলে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করা হয়েছে যে, পলি অপসারণের সময় অতিরিক্ত পানি ছাড়ার কারণে চেনাব নদীর নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করবে। এর ফলে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি জেলে ও গবাদিপশু মালিকদের নদী তীর থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস (KMS) ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী যেকোনো বাঁধ থেকে হঠাৎ বা অতিরিক্ত পানি ছাড়ার আগে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগাম তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সতর্কবার্তা বা তথ্য পাকিস্তানকে দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে এবং পানিকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেই বিজেপি সরকার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করেছে। ইতোমধ্যে ভারি বর্ষণে পুরো অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে; এই অবস্থায় কোনো পূর্বাভাস না দিয়ে বাঁধ খোলা কেবল চুক্তি লঙ্ঘন নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলার শামিল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ