শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

যোগীর গঠিত উগ্রবাদী সংগঠনের নেতার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ভাইরালের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা; সিদ্ধার্থনগরে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো মাদ্রাসা ও মসজিদের অংশবিশেষ উচ্ছেদ।

ভারতে আবারও মুসলিমদের নিশানা: মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার হিন্দু যুব বাহিনীর নেতার



ভারতে আবারও মুসলিমদের নিশানা: মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার হিন্দু যুব বাহিনীর নেতার

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু যুব বাহিনী’র রাজ্য ইনচার্জ রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং মুসলিম সম্প্রদায় ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্যেই উচ্ছেদ অভিযানের নামে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশে ক্রমাগত বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মধ্যে এই উসকানিমূলক বক্তব্য ভারতে ইসলামফোবিয়ার ভয়াবহ চেহারাকে আবারও উন্মোচিত করেছে।

নরেন্দ্র মোদির ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিশানা বানানো যেন এক ‘নতুন স্বাভাবিকতা’য় পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে মাত্রা যোগ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রতিষ্ঠিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু যুব বাহিনী’র শীর্ষ নেতা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে সংগঠনটির রাজ্য ইনচার্জ রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংকে একটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বুলডোজার ব্যবহারের কথা বলতে দেখা যায়। বিদ্বেষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেখানে যেন কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকে। আক্রমণ করা, জবরদখল করা এবং কবজা করা মুসলিমদের অভ্যাস, কিন্তু সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া ও ধ্বংস করা আমাদের অভ্যাস।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জবরদখল করা মুসলিমদের চরিত্র, আর তা ভেঙে ধূলিসাৎ করা আমাদের চরিত্র।”

উল্লেখ্য, ‘হিন্দু যুব বাহিনী’ হলো একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুব গোষ্ঠী, যা ২০০২ সালের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গরু রক্ষা বা ‘গো-রক্ষা’র নামে গণহত্যা, তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ভিত্তিতে সহিংসতা চালানো এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি।

রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের এই মন্তব্য সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পত্তি ধ্বংসের উসকানি দেওয়ার শামিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা এবং কেবল তাদের বিশ্বাস ও পরিচয়ের ভিত্তিতে নিশানা বানানো মোদির ভারতে এখন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”

ভিডিওটির সঠিক সময় ও স্থান স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা না গেলেও, উত্তরপ্রদেশে একের পর এক মাদ্রাসা ও মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার পিয়ারি রামলাল গ্রামে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো একটি মাদ্রাসা ও মসজিদের একটি অংশ প্রশাসন ভেঙে দিয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি কক্ষ, হলের অংশ, দোকান এবং মসজিদের কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা দীর্ঘদিনের পুরোনো এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভারতে রাষ্ট্রীয় মদদে মুসলিমদের দ্বীনি ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এই সুসংগঠিত চক্রান্ত বিশ্বমুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিতর্কিত এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিষয় : ভারত মাদ্রাসা মুসলিম নির্যাতন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


ভারতে আবারও মুসলিমদের নিশানা: মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার হিন্দু যুব বাহিনীর নেতার

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু যুব বাহিনী’র রাজ্য ইনচার্জ রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং মুসলিম সম্প্রদায় ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে প্রকাশ্যেই উচ্ছেদ অভিযানের নামে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশে ক্রমাগত বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মধ্যে এই উসকানিমূলক বক্তব্য ভারতে ইসলামফোবিয়ার ভয়াবহ চেহারাকে আবারও উন্মোচিত করেছে।

নরেন্দ্র মোদির ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিশানা বানানো যেন এক ‘নতুন স্বাভাবিকতা’য় পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নতুন করে মাত্রা যোগ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রতিষ্ঠিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু যুব বাহিনী’র শীর্ষ নেতা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে সংগঠনটির রাজ্য ইনচার্জ রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংকে একটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বুলডোজার ব্যবহারের কথা বলতে দেখা যায়। বিদ্বেষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেখানে যেন কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকে। আক্রমণ করা, জবরদখল করা এবং কবজা করা মুসলিমদের অভ্যাস, কিন্তু সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া ও ধ্বংস করা আমাদের অভ্যাস।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জবরদখল করা মুসলিমদের চরিত্র, আর তা ভেঙে ধূলিসাৎ করা আমাদের চরিত্র।”

উল্লেখ্য, ‘হিন্দু যুব বাহিনী’ হলো একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুব গোষ্ঠী, যা ২০০২ সালের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গরু রক্ষা বা ‘গো-রক্ষা’র নামে গণহত্যা, তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ভিত্তিতে সহিংসতা চালানো এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি।

রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের এই মন্তব্য সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়কে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সম্পত্তি ধ্বংসের উসকানি দেওয়ার শামিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা এবং কেবল তাদের বিশ্বাস ও পরিচয়ের ভিত্তিতে নিশানা বানানো মোদির ভারতে এখন প্রতিদিনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।”

ভিডিওটির সঠিক সময় ও স্থান স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা না গেলেও, উত্তরপ্রদেশে একের পর এক মাদ্রাসা ও মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলার পিয়ারি রামলাল গ্রামে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো একটি মাদ্রাসা ও মসজিদের একটি অংশ প্রশাসন ভেঙে দিয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি কক্ষ, হলের অংশ, দোকান এবং মসজিদের কিছু অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা দীর্ঘদিনের পুরোনো এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভারতে রাষ্ট্রীয় মদদে মুসলিমদের দ্বীনি ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এই সুসংগঠিত চক্রান্ত বিশ্বমুসলিম উম্মাহ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিতর্কিত এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ