অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামোফোবিয়া এবং ধর্মভিত্তিক বৈষম্য ও বর্ণবাদ আশঙ্কাজনকভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিজাব ও দৃশ্যমান ধর্মীয় পোশাক পরিহিত মুসলিম নারীরা প্রতিনিয়ত মৌখিক গালিগালাজ, হুমকি, অনলাইন বিদ্বেষ এবং মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (AFIC)-এর সভাপতি রাতেব জুনেদ সর্বশেষ 'ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট'-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন ও গাজা পরিস্থিতির পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বর্ণবাদী হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত সময়সীমায় সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে ঘটা ইসলামোফোবিক ঘটনার সংখ্যা ১৫০ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনলাইনে ঘটা বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—রিপোর্ট করা মোট বর্ণবাদী ও ঘৃণামূলক ঘটনার প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটেছে মুসলিম নারী ও কমবয়সী মেয়েদের ওপর। জুনেদ উল্লেখ করেন, হিজাব বা পোশাকের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয় সহজে প্রকাশ পাওয়ার কারণে কট্টরপন্থীরা মূলত নারীদেরই সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
তিনি আরও বলেন, "এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল সংখ্যা নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে মুসলিমদের নিত্যদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে আক্রমণই নয়, বরং বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা শারীরিক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।"
এছাড়া অক্টোবর ২০২৩-এর পর থেকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে 'সমস্যা' বা 'হুমকি' হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচার ও উগ্র মানসিকতার ফলে তরুণ মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একজন মুসলিম নারী হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাকে প্রতিনিয়ত ভীতি ও হুমকির মধ্যে বসবাস করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তৃতায় ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠানিক নিন্দা আমরা বহু বছর ধরে শুনে আসছি, তবে তা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে যখন দেশের মুসলিমরা বাস্তবে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন। অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদেরও অন্য যেকোনো নাগরিকের মতো সমান অধিকার, নিরাপত্তা, আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।"
বিষয় : অস্ট্রেলিয়া
.png)
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামোফোবিয়া এবং ধর্মভিত্তিক বৈষম্য ও বর্ণবাদ আশঙ্কাজনকভাবে প্রকট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিজাব ও দৃশ্যমান ধর্মীয় পোশাক পরিহিত মুসলিম নারীরা প্রতিনিয়ত মৌখিক গালিগালাজ, হুমকি, অনলাইন বিদ্বেষ এবং মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (AFIC)-এর সভাপতি রাতেব জুনেদ সর্বশেষ 'ইসলামোফোবিয়া রিপোর্ট'-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন ও গাজা পরিস্থিতির পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বর্ণবাদী হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উক্ত সময়সীমায় সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে ঘটা ইসলামোফোবিক ঘটনার সংখ্যা ১৫০ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনলাইনে ঘটা বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—রিপোর্ট করা মোট বর্ণবাদী ও ঘৃণামূলক ঘটনার প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটেছে মুসলিম নারী ও কমবয়সী মেয়েদের ওপর। জুনেদ উল্লেখ করেন, হিজাব বা পোশাকের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয় সহজে প্রকাশ পাওয়ার কারণে কট্টরপন্থীরা মূলত নারীদেরই সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
তিনি আরও বলেন, "এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল সংখ্যা নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে মুসলিমদের নিত্যদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে আক্রমণই নয়, বরং বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা শারীরিক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।"
এছাড়া অক্টোবর ২০২৩-এর পর থেকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে 'সমস্যা' বা 'হুমকি' হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচার ও উগ্র মানসিকতার ফলে তরুণ মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "একজন মুসলিম নারী হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাকে প্রতিনিয়ত ভীতি ও হুমকির মধ্যে বসবাস করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তৃতায় ইসলামোফোবিয়ার আনুষ্ঠানিক নিন্দা আমরা বহু বছর ধরে শুনে আসছি, তবে তা যথেষ্ট নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে যখন দেশের মুসলিমরা বাস্তবে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন। অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদেরও অন্য যেকোনো নাগরিকের মতো সমান অধিকার, নিরাপত্তা, আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।"
.png)
আপনার মতামত লিখুন