শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

স্কুটারে সন্তান ও গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পথে ভিডিও ধারণ করে বিষোদ্গার; মুসলিমদের লক্ষ্য করে বেকারত্ব ও 'জনসংখ্যা বিস্ফোরণ'-এর অভিযোগ উগ্র গোরক্ষকের।

দিল্লিতে সড়কপথে চলন্ত অবস্থায় মুসলিম পরিবারকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীর কুরুচিপূর্ণ হেনস্থা



দিল্লিতে সড়কপথে চলন্ত অবস্থায় মুসলিম পরিবারকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীর কুরুচিপূর্ণ হেনস্থা

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির রাজপথে এক মুসলিম পরিবার চরম হিন্দুত্ববাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী ও গোরক্ষক কর্মীর কুরুচিপূর্ণ হেনস্থার শিকার হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী এক মুসলিম দম্পতি ও তাঁদের শিশুদের চলন্ত স্কুটারে পিছু ধাওয়া করে ভিডিও ধারণ করে এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য প্রচার করে। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত মানসিক ও সামাজিক নিপীড়নের এটি আরেকটি বাস্তবচিত্র হিসেবে সামনে এসেছে।

দিল্লির রাজপথে মুসলিম পরিবারকে লক্ষ্য করে উগ্র মন্তব্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে দিল্লির একটি সড়কে এক মুসলিম দম্পতি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের পিছু নিয়ে ভিডিও করতে শুরু করে। ভিডিওতে সে দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক ভাষায় বলতে থাকে, "ইয়ে মোল্লাওঁ কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এটি একটি মোল্লা পরিবার)।

ভিডিওর ধারণকারী ব্যক্তি পরিবারটির হেলমেট না পরার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে। সে দাবি করে, নারীর গর্ভে 'অতিরিক্ত ওভারলোড সামান' রয়েছে।

বেকারত্ব ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক দাবি

ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ভরদ্বাজ হিন্দি ভাষায় তার উগ্র মন্তব্য চালিয়ে যায় এবং দাবি করে যে, এই ধরনের পরিবারগুলোর কারণেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। সে ভিডিওতে দর্শকদের দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা (চালান) আদায় করার আহ্বান জানায়। একই সাথে সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন' (Population Control Bill) কার্যকর করার জোর দাবি তোলে।

উগ্র গোরক্ষক ও এর আগেও সহিংসতার রেকর্ড

এটিই প্রথম নয় যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এমন উগ্র প্রচারণা চালিয়েছে। সে নিজেকে একটি গোরক্ষক (Cow Vigilante) সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়।

এর আগে দিল্লি যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সে পুলিশের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে সে দিল্লি পুলিশের কাছে একদিনের জন্য তাকে 'অফিসার' করার দাবি জানায়, যাতে সে আন্দোলনকারীদের ওপর "আসল গুন্ডাগিরি" দেখাতে পারে। তার এই ধারাবাহিক উগ্র আচরণ ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনা ভারতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে দিল্লির একটি সড়কে এক মুসলিম দম্পতি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের পিছু নিয়ে ভিডিও করতে শুরু করে। ভিডিওতে সে দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক ভাষায় বলতে থাকে, "ইয়ে মোল্লাওঁ কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এটি একটি মোল্লা পরিবার)।

ভিডিওর ধারণকারী ব্যক্তি পরিবারটির হেলমেট না পরার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে। সে দাবি করে, নারীর গর্ভে 'অতিরিক্ত ওভারলোড সামান' রয়েছে।

বেকারত্ব ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক দাবি

ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ভরদ্বাজ হিন্দি ভাষায় তার উগ্র মন্তব্য চালিয়ে যায় এবং দাবি করে যে, এই ধরনের পরিবারগুলোর কারণেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। সে ভিডিওতে দর্শকদের দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা (চালান) আদায় করার আহ্বান জানায়। একই সাথে সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন' (Population Control Bill) কার্যকর করার জোর দাবি তোলে।

উগ্র গোরক্ষক ও এর আগেও সহিংসতার রেকর্ড

এটিই প্রথম নয় যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এমন উগ্র প্রচারণা চালিয়েছে। সে নিজেকে একটি গোরক্ষক (Cow Vigilante) সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়।

এর আগে দিল্লি যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সে পুলিশের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে সে দিল্লি পুলিশের কাছে একদিনের জন্য তাকে 'অফিসার' করার দাবি জানায়, যাতে সে আন্দোলনকারীদের ওপর "আসল গুন্ডাগিরি" দেখাতে পারে। তার এই ধারাবাহিক উগ্র আচরণ ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনা ভারতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ

বিষয় : মুসলিম নির্যাতন দিল্লি মুসলিম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


দিল্লিতে সড়কপথে চলন্ত অবস্থায় মুসলিম পরিবারকে উগ্র হিন্দুত্ববাদীর কুরুচিপূর্ণ হেনস্থা

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির রাজপথে এক মুসলিম পরিবার চরম হিন্দুত্ববাদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী ও গোরক্ষক কর্মীর কুরুচিপূর্ণ হেনস্থার শিকার হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী এক মুসলিম দম্পতি ও তাঁদের শিশুদের চলন্ত স্কুটারে পিছু ধাওয়া করে ভিডিও ধারণ করে এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য প্রচার করে। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত মানসিক ও সামাজিক নিপীড়নের এটি আরেকটি বাস্তবচিত্র হিসেবে সামনে এসেছে।

দিল্লির রাজপথে মুসলিম পরিবারকে লক্ষ্য করে উগ্র মন্তব্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে দিল্লির একটি সড়কে এক মুসলিম দম্পতি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের পিছু নিয়ে ভিডিও করতে শুরু করে। ভিডিওতে সে দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক ভাষায় বলতে থাকে, "ইয়ে মোল্লাওঁ কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এটি একটি মোল্লা পরিবার)।

ভিডিওর ধারণকারী ব্যক্তি পরিবারটির হেলমেট না পরার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে। সে দাবি করে, নারীর গর্ভে 'অতিরিক্ত ওভারলোড সামান' রয়েছে।

বেকারত্ব ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক দাবি

ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ভরদ্বাজ হিন্দি ভাষায় তার উগ্র মন্তব্য চালিয়ে যায় এবং দাবি করে যে, এই ধরনের পরিবারগুলোর কারণেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। সে ভিডিওতে দর্শকদের দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা (চালান) আদায় করার আহ্বান জানায়। একই সাথে সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন' (Population Control Bill) কার্যকর করার জোর দাবি তোলে।

উগ্র গোরক্ষক ও এর আগেও সহিংসতার রেকর্ড

এটিই প্রথম নয় যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এমন উগ্র প্রচারণা চালিয়েছে। সে নিজেকে একটি গোরক্ষক (Cow Vigilante) সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়।

এর আগে দিল্লি যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সে পুলিশের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে সে দিল্লি পুলিশের কাছে একদিনের জন্য তাকে 'অফিসার' করার দাবি জানায়, যাতে সে আন্দোলনকারীদের ওপর "আসল গুন্ডাগিরি" দেখাতে পারে। তার এই ধারাবাহিক উগ্র আচরণ ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনা ভারতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাতে দিল্লির একটি সড়কে এক মুসলিম দম্পতি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী নিজের মোবাইল ফোনে তাঁদের পিছু নিয়ে ভিডিও করতে শুরু করে। ভিডিওতে সে দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক ভাষায় বলতে থাকে, "ইয়ে মোল্লাওঁ কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এটি একটি মোল্লা পরিবার)।

ভিডিওর ধারণকারী ব্যক্তি পরিবারটির হেলমেট না পরার বিষয়টি উল্লেখ করার পাশাপাশি গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে। সে দাবি করে, নারীর গর্ভে 'অতিরিক্ত ওভারলোড সামান' রয়েছে।

বেকারত্ব ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিদ্বেষমূলক দাবি

ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় ভরদ্বাজ হিন্দি ভাষায় তার উগ্র মন্তব্য চালিয়ে যায় এবং দাবি করে যে, এই ধরনের পরিবারগুলোর কারণেই দেশে বেকারত্ব বাড়ছে। সে ভিডিওতে দর্শকদের দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানা (চালান) আদায় করার আহ্বান জানায়। একই সাথে সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন' (Population Control Bill) কার্যকর করার জোর দাবি তোলে।

উগ্র গোরক্ষক ও এর আগেও সহিংসতার রেকর্ড

এটিই প্রথম নয় যে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এমন উগ্র প্রচারণা চালিয়েছে। সে নিজেকে একটি গোরক্ষক (Cow Vigilante) সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে পরিচয় দেয়।

এর আগে দিল্লি যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও সে পুলিশের উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে সে দিল্লি পুলিশের কাছে একদিনের জন্য তাকে 'অফিসার' করার দাবি জানায়, যাতে সে আন্দোলনকারীদের ওপর "আসল গুন্ডাগিরি" দেখাতে পারে। তার এই ধারাবাহিক উগ্র আচরণ ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনা ভারতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ