১৯৫০-এর দশকে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) সাধারণ মানুষকে না জানিয়ে তাদের ওপর এক ভয়াবহ মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা চালায়। উচ্চমাত্রার মাদক এবং টানা ইলেকট্রোশক থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের স্মৃতিশক্তি মুছে ফেলার এই গোপন অপচেষ্টায় বহু মানুষ স্থায়ীভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি নথিপত্র ধ্বংসের অপচেষ্টা সত্ত্বেও সতেজ হওয়া গোপন রেকর্ডে এই নৃশংস ঘটনার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ১৯৫০-এর দশকে পরিচালিত একটি অতি-গোপন মানব-পরীক্ষা প্রকল্পের বিশদ বিবরণ উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের মস্তিষ্ক ও মনস্তত্ত্বকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি সম্পূর্ণ গোপনে ও বেআইনিভাবে নিজস্ব নাগরিকদের ওপর এই পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি মুছে ফেলে তাদের নির্দেশ মান্যকারী অনুগত এজেন্টে রূপান্তর করা।
না জানিয়ে ব্যবহার করা হতো সাধারণ মানুষকে
এই মানব-পরীক্ষা প্রকল্পের আওতায় কোনো ধরনের অনুমতি বা পূর্ব তথ্য প্রদান ছাড়াই সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী, কারাবন্দী কয়েদি এবং এমনকি শিশুদেরও 'গিনিপিগ' হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাদের অজান্তেই শরীরে প্রয়োগ করা হতো উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক ড্রাগ ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদান। এর সাথে একটানা কয়েকদিন ধরে চালানো হতো তীব্র ইলেকট্রোশক থেরাপি, যাতে করে তাদের মস্তিষ্কের অতীত স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়।
বহু মানুষের মানসিক ভারসাম্য বিনাশ
সিআইএ-র মস্তিষ্ক খালি করে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই অমানবিক প্রচেষ্টার ফল হয়েছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। যে কক্ষগুলোতে এই বৈজ্ঞানিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, সেখান থেকে বের হওয়া বহু মানুষ চিরতরে তাদের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বাস্থ্যাভ্যাস, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতি হারিয়ে তারা নিছক জীবন্ত লাশে পরিণত হন।
নথি ধ্বংস ও সত্য প্রকাশের প্রচেষ্টা
অপকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস ধামাচাপা দিতে সিআইএ পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত সমস্ত দাপ্তরিক ফাইল ও নথি পুড়িয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। তবে আর্কাইভ থেকে উদ্ধার হওয়া এবং সোর্স মারফত সংগৃহীত গোপন নথিপত্র পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা এই নৃশংস মানব অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সবক দেওয়া মার্কিন কাঠামোর আসল চেহারা এতে আবারও উন্মোচিত হলো।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
১৯৫০-এর দশকে আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) সাধারণ মানুষকে না জানিয়ে তাদের ওপর এক ভয়াবহ মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা চালায়। উচ্চমাত্রার মাদক এবং টানা ইলেকট্রোশক থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের স্মৃতিশক্তি মুছে ফেলার এই গোপন অপচেষ্টায় বহু মানুষ স্থায়ীভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি নথিপত্র ধ্বংসের অপচেষ্টা সত্ত্বেও সতেজ হওয়া গোপন রেকর্ডে এই নৃশংস ঘটনার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে।
আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ১৯৫০-এর দশকে পরিচালিত একটি অতি-গোপন মানব-পরীক্ষা প্রকল্পের বিশদ বিবরণ উন্মোচিত হয়েছে। মানুষের মস্তিষ্ক ও মনস্তত্ত্বকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি সম্পূর্ণ গোপনে ও বেআইনিভাবে নিজস্ব নাগরিকদের ওপর এই পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি মুছে ফেলে তাদের নির্দেশ মান্যকারী অনুগত এজেন্টে রূপান্তর করা।
না জানিয়ে ব্যবহার করা হতো সাধারণ মানুষকে
এই মানব-পরীক্ষা প্রকল্পের আওতায় কোনো ধরনের অনুমতি বা পূর্ব তথ্য প্রদান ছাড়াই সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী, কারাবন্দী কয়েদি এবং এমনকি শিশুদেরও 'গিনিপিগ' হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাদের অজান্তেই শরীরে প্রয়োগ করা হতো উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক ড্রাগ ও মনস্তাত্ত্বিক উপাদান। এর সাথে একটানা কয়েকদিন ধরে চালানো হতো তীব্র ইলেকট্রোশক থেরাপি, যাতে করে তাদের মস্তিষ্কের অতীত স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়।
বহু মানুষের মানসিক ভারসাম্য বিনাশ
সিআইএ-র মস্তিষ্ক খালি করে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই অমানবিক প্রচেষ্টার ফল হয়েছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। যে কক্ষগুলোতে এই বৈজ্ঞানিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, সেখান থেকে বের হওয়া বহু মানুষ চিরতরে তাদের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বাস্থ্যাভ্যাস, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতি হারিয়ে তারা নিছক জীবন্ত লাশে পরিণত হন।
নথি ধ্বংস ও সত্য প্রকাশের প্রচেষ্টা
অপকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস ধামাচাপা দিতে সিআইএ পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত সমস্ত দাপ্তরিক ফাইল ও নথি পুড়িয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। তবে আর্কাইভ থেকে উদ্ধার হওয়া এবং সোর্স মারফত সংগৃহীত গোপন নথিপত্র পরবর্তীতে নিশ্চিত করে যে, ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা এই নৃশংস মানব অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সবক দেওয়া মার্কিন কাঠামোর আসল চেহারা এতে আবারও উন্মোচিত হলো।

আপনার মতামত লিখুন