সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

কাবুল ও ওয়াশিংটনে পুনরায় দূতাবাস চালুর আহ্বান; মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তিকে উম্মাহর জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইমারাতে ইসলামিয়া।

আমেরিকার সাথে যুদ্ধকালীন নীতি বদলে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ



আমেরিকার সাথে যুদ্ধকালীন নীতি বদলে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ

আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধকালীন শত্রুভাবাপন্ন নীতি পরিবর্তন করে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি কাবুলে মার্কিন দূতাবাস পুনর্নিরমাণ এবং ওয়াশিংটনে আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মানসিকতা ও নীতি থেকে বের হয়ে আফগানিস্তান এখন ওয়াশিংটনের সাথে একটি নতুন গঠনমূলক ও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, "আফগানিস্তান ভালো সম্পর্ক চায় এবং আমরা চাই যুদ্ধকালীন নীতিগুলোর পরিবর্তন হোক। আমরা কাবুলে আমেরিকার দূতাবাস আবার সক্রিয় দেখতে চাই, পাশাপাশি ওয়াশিংটনে আমাদের দূতাবাস পুনরায় কার্যক্রম শুরু করুক এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক।"

সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মুজাহিদ জানান, ইমারাতে ইসলামিয়া অঞ্চলে কোনো ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ চায় না। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানসহ অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক বা বৈরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং কায়েমী স্বার্থের জন্য অন্য কোনো দেশকে সমর্থন করা হবে না।

বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক চুক্তি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুজাহিদ বলেন, এতে উদ্বেগের কিছু নেই। এসব সমঝোতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থে এবং উম্মাহর সার্বিক কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের কোনো বিষয় নয়; কারণ এই দেশগুলো নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে চুক্তি করছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ। তারা যদি কোনো বিষয়ে একমত হয়, তবে আমরা তাকে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা হিসেবে দেখি, যা সামগ্রিকভাবে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য লাভজনক। এসব প্রক্রিয়া আমাদের জন্য কোনো হুমকি নয়, কারণ আমরা এদের কারও সাথে শত্রুতা রাখি না।"

সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী সংঘাতমূলক পরিস্থিতি বা আগ্রাসন মূলত সীমান্ত কেন্দ্রিক একটি স্থানীয় বিষয়। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের টেকসই সমাধান হোক। এসব মুসলিম দেশের কোনটিই আমাদের শত্রু নয়।"

ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ মন্তব্য করেন, যেকোনো দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সেই দেশের নিজস্ব শর্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। তবে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আফগানিস্তানের আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফাকিরি এই বিষয়ে মতামত জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্যই প্রতিবেশী এবং দূর-দূরান্তের দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য। এটি কূটনৈতিক শক্তিমত্তা নির্দেশ করে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়, তখন রাষ্ট্রগুলোকে বুদ্ধিমত্তার সাথে সেই মতপার্থক্য ও সংকট সামাল দিতে হয়।"

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


আমেরিকার সাথে যুদ্ধকালীন নীতি বদলে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধকালীন শত্রুভাবাপন্ন নীতি পরিবর্তন করে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি কাবুলে মার্কিন দূতাবাস পুনর্নিরমাণ এবং ওয়াশিংটনে আফগান দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মানসিকতা ও নীতি থেকে বের হয়ে আফগানিস্তান এখন ওয়াশিংটনের সাথে একটি নতুন গঠনমূলক ও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, "আফগানিস্তান ভালো সম্পর্ক চায় এবং আমরা চাই যুদ্ধকালীন নীতিগুলোর পরিবর্তন হোক। আমরা কাবুলে আমেরিকার দূতাবাস আবার সক্রিয় দেখতে চাই, পাশাপাশি ওয়াশিংটনে আমাদের দূতাবাস পুনরায় কার্যক্রম শুরু করুক এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক।"

সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে আফগানিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মুজাহিদ জানান, ইমারাতে ইসলামিয়া অঞ্চলে কোনো ধরনের সংঘাত বা যুদ্ধ চায় না। আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানসহ অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক বা বৈরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং কায়েমী স্বার্থের জন্য অন্য কোনো দেশকে সমর্থন করা হবে না।

বিভিন্ন মুসলিম দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক চুক্তি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মুজাহিদ বলেন, এতে উদ্বেগের কিছু নেই। এসব সমঝোতা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থে এবং উম্মাহর সার্বিক কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের কোনো বিষয় নয়; কারণ এই দেশগুলো নিজেদের স্বার্থের ভিত্তিতে চুক্তি করছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ। তারা যদি কোনো বিষয়ে একমত হয়, তবে আমরা তাকে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা হিসেবে দেখি, যা সামগ্রিকভাবে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য লাভজনক। এসব প্রক্রিয়া আমাদের জন্য কোনো হুমকি নয়, কারণ আমরা এদের কারও সাথে শত্রুতা রাখি না।"

সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী সংঘাতমূলক পরিস্থিতি বা আগ্রাসন মূলত সীমান্ত কেন্দ্রিক একটি স্থানীয় বিষয়। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের টেকসই সমাধান হোক। এসব মুসলিম দেশের কোনটিই আমাদের শত্রু নয়।"

ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ মন্তব্য করেন, যেকোনো দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সেই দেশের নিজস্ব শর্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। তবে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে আফগানিস্তানের আনুষ্ঠানিক ও কার্যকর সম্পর্ক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফাকিরি এই বিষয়ে মতামত জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্যই প্রতিবেশী এবং দূর-দূরান্তের দেশের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য। এটি কূটনৈতিক শক্তিমত্তা নির্দেশ করে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়, তখন রাষ্ট্রগুলোকে বুদ্ধিমত্তার সাথে সেই মতপার্থক্য ও সংকট সামাল দিতে হয়।"


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ