সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ১৯৫১ সালের ঐতিহাসিক আবু সালিম মসজিদের পাথর ও মার্বেল স্তম্ভ সংগ্রহ করছেন 'গার্ডিয়ানস অব হেরিটেজ'-এর সদস্যরা। গাজার ইতিহাস ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন।

গাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক মসজিদের পাথর কুড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা



গাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক মসজিদের পাথর কুড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

ইসরায়েলি আগ্রাসনে গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজার দেয়ার আল-বালাহের ঐতিহাসিক 'আবু সালিম' মসজিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষায় নেমেছেন ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবকরা। 'গার্ডিয়ানস অব হেরিটেজ' ক্যাম্পেইনের অধীনে তরুণ ফিলিস্তিনিরা ২৪ আগস্টের বর্বরোচিত বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের মার্বেল স্তম্ভ ও মূল্যবান পাথর কুড়িয়ে একত্রিত করছেন। দখলদারদের বোমাবর্ষণে গাজার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো মুছে ফেলার চেষ্টার জবাবে এই স্বেচ্ছাসেবকরা ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণের আশায় ঐতিহ্য রক্ষার এ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাণহানির পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শতাব্দীর প্রাচীন ইসলামী ঐতিহ্যকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার এক নির্মম অপচেষ্টা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও নিজেদের অতীত ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকেরা।

গাজার দেয়ার আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক 'আবু সালিম' মসজিদটি গত ২৪ আগস্ট ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ১৯৫১ সালে ওসমানীয় (অটোমান) স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিশিষ্ট মসজিদটি হাজি মোহাম্মদ আবু সালিমের অর্থায়নে গড়ে উঠেছিল। কয়েক দশক ধরে দেয়ার আল-বালাহ শহরের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।

হামলার পরপরই 'মায়াসির অ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার অ্যান্ড আর্টস'-এর আয়োজনে শুরু হয় 'গার্ডিয়ানস অব হেরিটেজ' বা 'ঐতিহ্যের অভিভাবক' শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিরোধ ও সংরক্ষণ অভিযান। এ अभियाনের সমন্বয়ক শাইমা আল-নাতুর জানান, হামলার পর তাদের দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংরক্ষণমূলক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রথম ধাপে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওসমানীয় মার্বেল স্তম্ভ, খোদাই করা পাথর ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদান উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে অনুকূল পরিস্থিতিতে মসজিদটি হুবহু আগের রূপে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়।

দেয়ার আল-বালাহের মেয়র খলিল আবু সামরা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, "আমরা বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটিকে টিকিয়ে রেখেছিলাম। দখলদাররা তা ধ্বংস করলেও আমরা আশা করি, আমাদের 'ঐতিহ্যের অভিভাবক' এবং দেশপ্রেমিক তরুণদের হাতেই মসজিদটি পুনরায় তার পূর্বের সৌন্দর্যে মাথা তুলে দাঁড়াবে।"

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে এই মসজিদের মিনার ও সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঐতিহ্য রক্ষা কেন্দ্রের সহায়তায় সংস্কার করা হয়। তবে এবারের ২৪ আগস্টের হামলাটি ছিল শতগুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। গাজার ধর্মবিষয়ক বা ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার মোট ১২৭৫টি মসজিদের মধ্যে ১০৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ১৯১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩,৪৪৯ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১৭৪,৪৭২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সব হারিয়েও ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক উপাদান কুড়িয়ে রাখার এই সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এক অনন্য প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : গাজা ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


গাজার ঐতিহ্য রক্ষায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক মসজিদের পাথর কুড়াচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি আগ্রাসনে গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজার দেয়ার আল-বালাহের ঐতিহাসিক 'আবু সালিম' মসজিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষায় নেমেছেন ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবকরা। 'গার্ডিয়ানস অব হেরিটেজ' ক্যাম্পেইনের অধীনে তরুণ ফিলিস্তিনিরা ২৪ আগস্টের বর্বরোচিত বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের মার্বেল স্তম্ভ ও মূল্যবান পাথর কুড়িয়ে একত্রিত করছেন। দখলদারদের বোমাবর্ষণে গাজার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো মুছে ফেলার চেষ্টার জবাবে এই স্বেচ্ছাসেবকরা ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণের আশায় ঐতিহ্য রক্ষার এ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাণহানির পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শতাব্দীর প্রাচীন ইসলামী ঐতিহ্যকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার এক নির্মম অপচেষ্টা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও নিজেদের অতীত ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকেরা।

গাজার দেয়ার আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক 'আবু সালিম' মসজিদটি গত ২৪ আগস্ট ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ১৯৫১ সালে ওসমানীয় (অটোমান) স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিশিষ্ট মসজিদটি হাজি মোহাম্মদ আবু সালিমের অর্থায়নে গড়ে উঠেছিল। কয়েক দশক ধরে দেয়ার আল-বালাহ শহরের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।

হামলার পরপরই 'মায়াসির অ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার অ্যান্ড আর্টস'-এর আয়োজনে শুরু হয় 'গার্ডিয়ানস অব হেরিটেজ' বা 'ঐতিহ্যের অভিভাবক' শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিরোধ ও সংরক্ষণ অভিযান। এ अभियाনের সমন্বয়ক শাইমা আল-নাতুর জানান, হামলার পর তাদের দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংরক্ষণমূলক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রথম ধাপে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ওসমানীয় মার্বেল স্তম্ভ, খোদাই করা পাথর ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপাদান উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে অনুকূল পরিস্থিতিতে মসজিদটি হুবহু আগের রূপে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়।

দেয়ার আল-বালাহের মেয়র খলিল আবু সামরা আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, "আমরা বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটিকে টিকিয়ে রেখেছিলাম। দখলদাররা তা ধ্বংস করলেও আমরা আশা করি, আমাদের 'ঐতিহ্যের অভিভাবক' এবং দেশপ্রেমিক তরুণদের হাতেই মসজিদটি পুনরায় তার পূর্বের সৌন্দর্যে মাথা তুলে দাঁড়াবে।"

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে এই মসজিদের মিনার ও সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ঐতিহ্য রক্ষা কেন্দ্রের সহায়তায় সংস্কার করা হয়। তবে এবারের ২৪ আগস্টের হামলাটি ছিল শতগুণ বেশি ধ্বংসাত্মক। গাজার ধর্মবিষয়ক বা ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার মোট ১২৭৫টি মসজিদের মধ্যে ১০৫০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ১৯১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩,৪৪৯ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১৭৪,৪৭২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সব হারিয়েও ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক উপাদান কুড়িয়ে রাখার এই সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এক অনন্য প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ