অধিকৃত পশ্চিম তীরের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে সোমবার তিনটি আবাসিক ভবন ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নাবলুসে একটি তিনতলা বাড়ি এবং বিরজেইতে দুটি চারতলা আবাসিক ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ভবনে একাধিক ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, নাবলুসের বাড়িটি ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত এলাকায় নির্মিত হওয়ায় সেটি ভাঙা হয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসে একটি বাড়ি এবং মধ্য পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তরে অবস্থিত বিরজেইত শহরে দুটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবন ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
সোমবার নাবলুসের আপার কো-অপারেশন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি নাগরিক ওমর সাদের বাড়ি ভাঙতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, বাড়িটি ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত জমিতে নির্মিত-এমন অজুহাত দেখিয়ে এটি ধ্বংস করা হয়।
এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনী বাড়ির মালিক ওমর সাদকে তার বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। একই সঙ্গে ধ্বংসের প্রস্তুতি হিসেবে তাকে বাড়িটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদ জানান, তার তিনতলা বাড়িটিতে তিনটি পরিবারের মোট ১০ জন সদস্য বসবাস করতেন।
তিনি বলেন, “ওরা আমার বাড়ি ভেঙে দিলেও আমি তার ধ্বংসস্তূপের ওপরেই তাঁবু খাটিয়ে থাকব।”
১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-এই তিন অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ‘এ’ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখলেও নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসরায়েলের হাতে। আর ‘সি’ অঞ্চলে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা-উভয় ধরনের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে রয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে বিরজেইত শহরের আইন আল-সাকি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার নিয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভবন দুটির ধ্বংসকাজ শুরু করে।
প্রতিটি ভবন ছিল চারতলা। প্রতিটি তলার আয়তন প্রায় ২৫০ বর্গমিটার। ভবন দুটির মালিক ফিলিস্তিনি নাগরিক করিম সালামেহ আল-নাবালি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শুধু জুলাই মাসেই পশ্চিম তীরে ৮০টি ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১৬৫টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল ৮০টি বসতবাড়ি, ৬৩টি কৃষি স্থাপনা এবং ১১টি জীবিকা-সম্পর্কিত স্থাপনা। প্রতিবেদনে স্থাপনার শ্রেণিবিন্যাসের একটি অংশে একই সংখ্যা পুনরাবৃত্তির উল্লেখও রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর, নগর ও শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ধ্বংস, অভিযান ও উচ্ছেদের ঘটনা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আবাসন ও জীবিকার ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিষয় : মানবাধিকার ফিলিস্তিন ইসরায়েল

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে সোমবার তিনটি আবাসিক ভবন ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নাবলুসে একটি তিনতলা বাড়ি এবং বিরজেইতে দুটি চারতলা আবাসিক ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব ভবনে একাধিক ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, নাবলুসের বাড়িটি ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত এলাকায় নির্মিত হওয়ায় সেটি ভাঙা হয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসে একটি বাড়ি এবং মধ্য পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তরে অবস্থিত বিরজেইত শহরে দুটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবন ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
সোমবার নাবলুসের আপার কো-অপারেশন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে ফিলিস্তিনি নাগরিক ওমর সাদের বাড়ি ভাঙতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, বাড়িটি ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত জমিতে নির্মিত-এমন অজুহাত দেখিয়ে এটি ধ্বংস করা হয়।
এর আগে শুক্রবার ইসরায়েলি বাহিনী বাড়ির মালিক ওমর সাদকে তার বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। একই সঙ্গে ধ্বংসের প্রস্তুতি হিসেবে তাকে বাড়িটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদ জানান, তার তিনতলা বাড়িটিতে তিনটি পরিবারের মোট ১০ জন সদস্য বসবাস করতেন।
তিনি বলেন, “ওরা আমার বাড়ি ভেঙে দিলেও আমি তার ধ্বংসস্তূপের ওপরেই তাঁবু খাটিয়ে থাকব।”
১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-এই তিন অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ‘এ’ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘বি’ অঞ্চলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রাখলেও নিরাপত্তার দায়িত্ব ইসরায়েলের হাতে। আর ‘সি’ অঞ্চলে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা-উভয় ধরনের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে রয়েছে।
এদিকে সোমবার সকালে বিরজেইত শহরের আইন আল-সাকি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার নিয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভবন দুটির ধ্বংসকাজ শুরু করে।
প্রতিটি ভবন ছিল চারতলা। প্রতিটি তলার আয়তন প্রায় ২৫০ বর্গমিটার। ভবন দুটির মালিক ফিলিস্তিনি নাগরিক করিম সালামেহ আল-নাবালি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শুধু জুলাই মাসেই পশ্চিম তীরে ৮০টি ধ্বংস অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে মোট ১৬৫টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল ৮০টি বসতবাড়ি, ৬৩টি কৃষি স্থাপনা এবং ১১টি জীবিকা-সম্পর্কিত স্থাপনা। প্রতিবেদনে স্থাপনার শ্রেণিবিন্যাসের একটি অংশে একই সংখ্যা পুনরাবৃত্তির উল্লেখও রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর, নগর ও শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিম তীরে বাড়িঘর ধ্বংস, অভিযান ও উচ্ছেদের ঘটনা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর আবাসন ও জীবিকার ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন