মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত: শান্তির অচলাবস্থার হুঁশিয়ারি কাতারের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত: শান্তির অচলাবস্থার হুঁশিয়ারি কাতারের

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা থামছে না। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। কাতার সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গাজায় স্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হবে, যা অঞ্চলজুড়ে শান্তির সম্ভাবনাকে বিপন্ন করবে।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনী থেমে থেমে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা যুদ্ধবিহীন-শান্তিহীন এক অবস্থার দিকে যেতে চাই না।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই গাজায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা, পুনর্গঠন শুরু করা এবং স্থায়ী শান্তির প্রক্রিয়া শুরু করা।”

আল-আনসারি আরও জানান, “যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সনদ ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য ম্যান্ডেট পাওয়া যায়, তবে গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ও উদ্যোগ প্রয়োজন।”

গাজায় এখনো অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি জিম্মির লাশ উদ্ধার হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ২০ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ১৭ জনের লাশ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, ইসরাইলের লাগাতার হামলার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে—ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আগের হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের লাশও উদ্ধার করা হয়।

দুই বছরের আগ্রাসন ও সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৮ হাজার ৮৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দোহা যুদ্ধবিরতি রক্ষা ও জিম্মি বিনিময় আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

“গাজাকে আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না,” বলেন কাতারের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। “যদি শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়, তাহলে এ অঞ্চলে স্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।”

বিষয় : আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য কাতার ইসরাইল গাজা ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত: শান্তির অচলাবস্থার হুঁশিয়ারি কাতারের

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা থামছে না। এতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। কাতার সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গাজায় স্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হবে, যা অঞ্চলজুড়ে শান্তির সম্ভাবনাকে বিপন্ন করবে।

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরাইলি বাহিনী থেমে থেমে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান-এর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা যুদ্ধবিহীন-শান্তিহীন এক অবস্থার দিকে যেতে চাই না।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এখনই গাজায় গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা, পুনর্গঠন শুরু করা এবং স্থায়ী শান্তির প্রক্রিয়া শুরু করা।”

আল-আনসারি আরও জানান, “যদি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সনদ ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর জন্য ম্যান্ডেট পাওয়া যায়, তবে গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ঐকমত্য ও উদ্যোগ প্রয়োজন।”

গাজায় এখনো অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি জিম্মির লাশ উদ্ধার হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ২০ ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং ১৭ জনের লাশ ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, ইসরাইলের লাগাতার হামলার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে—ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আগের হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের লাশও উদ্ধার করা হয়।

দুই বছরের আগ্রাসন ও সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৮ হাজার ৮৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দোহা যুদ্ধবিরতি রক্ষা ও জিম্মি বিনিময় আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত থাকায় সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

“গাজাকে আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না,” বলেন কাতারের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। “যদি শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়, তাহলে এ অঞ্চলে স্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।”


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ