শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

শতবর্ষী আব্দুর রহমান মোল্লার জীবনযুদ্ধ ও ইসলামি অনুরাগের অনন্য এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

দড়ি ও বাঁশের সহায়তায় মসজিদে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

দড়ি ও বাঁশের সহায়তায় মসজিদে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

চোখে আলো নেই, কিন্তু অন্তরে ছিল প্রদীপ্ত বিশ্বাস। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দড়ি আর বাঁশ আঁকড়ে ধরে মসজিদের পথে হেঁটে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের সেই অদম্য বৃদ্ধ আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বড়দেহা গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১২০ বছর বয়সী এই প্রবীণ মানুষটি। তার প্রয়াণে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা ছিলেন একাধারে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও মুয়াজ্জিন। প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু চোখের আলো হারিয়েও দমে যাননি তিনি। দৃষ্টিশক্তি হারানোর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সাথে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ মালিকানাধীন ৫ শতাংশ জমি দান করে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন।

বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। দৃষ্টিহীন হওয়ার কারণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে যাওয়া তার জন্য ছিল দুঃসাধ্য। কিন্তু হার না মানা আব্দুর রহমান নিজেই বের করেন অভিনব এক সমাধান। তার পরামর্শে ছেলেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। হাতে একটি লাঠি আর অন্য হাতে সেই দড়ি বা বাঁশ স্পর্শ করে কারো সাহায্য ছাড়াই দীর্ঘ এক যুগ পার করেছেন তিনি। প্রথম দিকে স্বজনরা শিখিয়ে দিলেও পরবর্তীতে একাই পথ চলতেন এই প্রবীণ মুয়াজ্জিন।

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে ও স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, তার বাবা আমৃত্যু ইসলামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেয়েছিলেন। আজান দেওয়া এবং জামাতে নামাজ পড়ার জন্য তার যে ব্যাকুলতা ছিল, তা পরিবারের সবাইকে অবাক করত।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন,

"আব্দুর রহমান মোল্লা ছিলেন বড়াইগ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পথে তার এই অবিচল পরিশ্রম একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"

সোমবার সকাল ৯টায় স্থানীয় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বিষয় : মুয়াজ্জিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


দড়ি ও বাঁশের সহায়তায় মসজিদে যাওয়া শতবর্ষী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চোখে আলো নেই, কিন্তু অন্তরে ছিল প্রদীপ্ত বিশ্বাস। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দড়ি আর বাঁশ আঁকড়ে ধরে মসজিদের পথে হেঁটে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের সেই অদম্য বৃদ্ধ আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বড়দেহা গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১২০ বছর বয়সী এই প্রবীণ মানুষটি। তার প্রয়াণে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান মোল্লা ছিলেন একাধারে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও মুয়াজ্জিন। প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু চোখের আলো হারিয়েও দমে যাননি তিনি। দৃষ্টিশক্তি হারানোর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সাথে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ মালিকানাধীন ৫ শতাংশ জমি দান করে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন।

বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। দৃষ্টিহীন হওয়ার কারণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদে যাওয়া তার জন্য ছিল দুঃসাধ্য। কিন্তু হার না মানা আব্দুর রহমান নিজেই বের করেন অভিনব এক সমাধান। তার পরামর্শে ছেলেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে দড়ি ও বাঁশ টাঙিয়ে দেন। হাতে একটি লাঠি আর অন্য হাতে সেই দড়ি বা বাঁশ স্পর্শ করে কারো সাহায্য ছাড়াই দীর্ঘ এক যুগ পার করেছেন তিনি। প্রথম দিকে স্বজনরা শিখিয়ে দিলেও পরবর্তীতে একাই পথ চলতেন এই প্রবীণ মুয়াজ্জিন।

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে ও স্কুল শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, তার বাবা আমৃত্যু ইসলামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেয়েছিলেন। আজান দেওয়া এবং জামাতে নামাজ পড়ার জন্য তার যে ব্যাকুলতা ছিল, তা পরিবারের সবাইকে অবাক করত।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন,

"আব্দুর রহমান মোল্লা ছিলেন বড়াইগ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীনের পথে তার এই অবিচল পরিশ্রম একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"

সোমবার সকাল ৯টায় স্থানীয় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত