বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

নেতানিয়াহুর সরকার নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে কৃত্রিম শত্রু তৈরি করছে, দাবি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হায়ারেটজ'-এর

ইসরায়েলের দ্বিমুখী নীতি ফাঁস: মূর্তিতে আঘাতের নিন্দা জানালেও গাজায় গণহত্যায় নিশ্চুপ তেল আবিব



ইসরায়েলের দ্বিমুখী নীতি ফাঁস: মূর্তিতে আঘাতের নিন্দা জানালেও গাজায় গণহত্যায় নিশ্চুপ তেল আবিব

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হায়ারেটজ' তেল আবিবের কট্টরপন্থী সরকারের চরম 'ভণ্ডামি' ও দ্বিমুখী নীতি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টানের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় সরকার দ্রুত নিন্দা জানালেও, গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননার বিচার করলেও সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই এই সরকারের কাছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙচুরকারী এবং সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণকারী দুই সেনাকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা সত্ত্বেও তাদের সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। হায়ারেটজ-এর মতে, ইসরায়েলি নেতাদের এই দ্রুত নিন্দা ও পদক্ষেপ মূলত আন্তর্জাতিক তদন্ত থেকে বাঁচার একটি কৌশল। কারণ, সম্প্রতি জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ককে চার্চে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় খ্রিস্টান বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি মূল্যবোধ এক অদ্ভুত রূপ নিয়েছে। গাজা যুদ্ধে সেনারা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের অন্তর্বাস নিয়ে উপহাস করা, লাশের পাশে পোজ দিয়ে ছবি তোলা বা বসতবাড়ি ধ্বংসের উৎসবে মেতে ওঠার অসংখ্য ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করলেও সরকার বা সামরিক নেতৃত্ব কোনো জোরালো নিন্দা জানায়নি। এমনকি 'সদি তেইমান' সামরিক ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'প্রপাগান্ডা' বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৬ এপ্রিল চিফ অফ স্টাফ আইয়াল জামির সেই অভিযুক্ত সেনাদের পুনরায় চাকরিতে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন।

হায়ারেটজ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু নিজের অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন ধরে রাখতে বাইরে 'শত্রু' তৈরি করার রাজনীতি করছেন, যা তাকে বিশ্বের স্বৈরশাসকদের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকেই নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) অভিযুক্ত। অথচ গাজা ও পশ্চিম তীরে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি হতাহত হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো কোনো 'অপরাধ' হিসেবেই গণ্য হচ্ছে না।

বিষয় : হায়ারেটজ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


ইসরায়েলের দ্বিমুখী নীতি ফাঁস: মূর্তিতে আঘাতের নিন্দা জানালেও গাজায় গণহত্যায় নিশ্চুপ তেল আবিব

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'হায়ারেটজ' তেল আবিবের কট্টরপন্থী সরকারের চরম 'ভণ্ডামি' ও দ্বিমুখী নীতি নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ লেবাননে এক ইসরায়েলি সেনার যিশু খ্রিস্টানের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় সরকার দ্রুত নিন্দা জানালেও, গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননার বিচার করলেও সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই এই সরকারের কাছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙচুরকারী এবং সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণকারী দুই সেনাকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা সত্ত্বেও তাদের সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। হায়ারেটজ-এর মতে, ইসরায়েলি নেতাদের এই দ্রুত নিন্দা ও পদক্ষেপ মূলত আন্তর্জাতিক তদন্ত থেকে বাঁচার একটি কৌশল। কারণ, সম্প্রতি জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ককে চার্চে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় খ্রিস্টান বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি মূল্যবোধ এক অদ্ভুত রূপ নিয়েছে। গাজা যুদ্ধে সেনারা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের অন্তর্বাস নিয়ে উপহাস করা, লাশের পাশে পোজ দিয়ে ছবি তোলা বা বসতবাড়ি ধ্বংসের উৎসবে মেতে ওঠার অসংখ্য ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করলেও সরকার বা সামরিক নেতৃত্ব কোনো জোরালো নিন্দা জানায়নি। এমনকি 'সদি তেইমান' সামরিক ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে 'প্রপাগান্ডা' বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৬ এপ্রিল চিফ অফ স্টাফ আইয়াল জামির সেই অভিযুক্ত সেনাদের পুনরায় চাকরিতে ফেরার অনুমতি দিয়েছেন।

হায়ারেটজ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু নিজের অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন ধরে রাখতে বাইরে 'শত্রু' তৈরি করার রাজনীতি করছেন, যা তাকে বিশ্বের স্বৈরশাসকদের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকেই নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) অভিযুক্ত। অথচ গাজা ও পশ্চিম তীরে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি হতাহত হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো কোনো 'অপরাধ' হিসেবেই গণ্য হচ্ছে না।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত