মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

আটককৃতদের তালিকায় ৪২৬ শিশু ও ৩৭০ নারী; উত্তর দারফুরে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

সুদানের ফাশারে ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’-এর হাতে ২০ চিকিৎসকসহ ১৪৭০ বেসামরিক নাগরিক বন্দি



সুদানের ফাশারে ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’-এর হাতে ২০ চিকিৎসকসহ ১৪৭০ বেসামরিক নাগরিক বন্দি

সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের ফাশার শহরে আধা-সামরিক বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ) ২০ জন চিকিৎসক এবং ১,৪৭০ জন বেসামরিক নাগরিককে বন্দি করে রেখেছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বন্দিদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সুদানের প্রভাবশালী বেসরকারি সংস্থা ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ফাশার শহরের ভয়াবহ মানবিক ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, আরএসএফ বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসককে বন্দি করে রেখেছে, যাদের মধ্যে ৪ জন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। অত্যন্ত জটিল ও মানবেতর পরিস্থিতিতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে বলে নেটওয়ার্কটি জানিয়েছে।

বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসকদের পাশাপাশি আরএসএফ ১,৪৭০ জন বেসামরিক নাগরিককে বন্দি করেছে। এই বন্দিদের মধ্যে ৪২৬ জন শিশু এবং ৩৭০ জন নারী রয়েছেন। এছাড়াও ৯০৭ জন সামরিক সদস্যকেও তারা আটক করে রেখেছে। বন্দিদের রাখা হয়েছে শহরের শালা কারাগার, শিশু হাসপাতাল, ল্যান্ড পোর্ট এবং এমনকি শিপিং কন্টেইনারের মতো ঘিঞ্জি জায়গায়।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করেছে যে, আটককৃতরা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ‘ফিল্ড এক্সিকিউশন’ বা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বিমান হামলা বা গোলাবর্ষণে আহত অনেক বন্দি কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা ছাড়াই ধুঁকছেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে আরএসএফ-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত ২৯ অক্টোবর বাহিনীটির প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো ‘হেমেতি’ ফাশারে তাদের বাহিনীর মাধ্যমে কিছু ‘অনিয়ম’ হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছিলেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। এই যুদ্ধের ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ফাশার শহরের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটিকে ভৌগোলিক বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

বিষয় : সুদান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


সুদানের ফাশারে ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’-এর হাতে ২০ চিকিৎসকসহ ১৪৭০ বেসামরিক নাগরিক বন্দি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের ফাশার শহরে আধা-সামরিক বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ (আরএসএফ) ২০ জন চিকিৎসক এবং ১,৪৭০ জন বেসামরিক নাগরিককে বন্দি করে রেখেছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে বন্দিদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’। যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সুদানের প্রভাবশালী বেসরকারি সংস্থা ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ফাশার শহরের ভয়াবহ মানবিক ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, আরএসএফ বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসককে বন্দি করে রেখেছে, যাদের মধ্যে ৪ জন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। অত্যন্ত জটিল ও মানবেতর পরিস্থিতিতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে বলে নেটওয়ার্কটি জানিয়েছে।

বিবরণ অনুযায়ী, চিকিৎসকদের পাশাপাশি আরএসএফ ১,৪৭০ জন বেসামরিক নাগরিককে বন্দি করেছে। এই বন্দিদের মধ্যে ৪২৬ জন শিশু এবং ৩৭০ জন নারী রয়েছেন। এছাড়াও ৯০৭ জন সামরিক সদস্যকেও তারা আটক করে রেখেছে। বন্দিদের রাখা হয়েছে শহরের শালা কারাগার, শিশু হাসপাতাল, ল্যান্ড পোর্ট এবং এমনকি শিপিং কন্টেইনারের মতো ঘিঞ্জি জায়গায়।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করেছে যে, আটককৃতরা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ‘ফিল্ড এক্সিকিউশন’ বা বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। বিমান হামলা বা গোলাবর্ষণে আহত অনেক বন্দি কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা ছাড়াই ধুঁকছেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে আরএসএফ-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত ২৯ অক্টোবর বাহিনীটির প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালো ‘হেমেতি’ ফাশারে তাদের বাহিনীর মাধ্যমে কিছু ‘অনিয়ম’ হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছিলেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। এই যুদ্ধের ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ফাশার শহরের বর্তমান পরিস্থিতি দেশটিকে ভৌগোলিক বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত