মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজা, লেবানন ও ইরানে পরাজয়ের গ্লানি ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে ইসরায়েলিরা: নতুন জনমত জরিপ

৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন ২০২৩ সালের পর কোনো যুদ্ধেই জয় পায়নি তেল আবিব



৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন ২০২৩ সালের পর কোনো যুদ্ধেই জয় পায়নি তেল আবিব

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানসহ একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিকই এই সামরিক অভিযানে কোনো বিজয় দেখছেন না। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার সংস্থার (KAN) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে তেল আবিব কোনো একক যুদ্ধক্ষেত্রেই জয়লাভ করতে পারেনি। এই ফলাফল নেতানিয়াহু সরকারের সামরিক কৌশলের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার চরম সংকটকে প্রতিফলিত করছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর জরিপে উঠে এসেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ জনমতের এক হতাশাজনক চিত্র। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর থেকে শুরু হওয়া বহুমুখী সংঘাতে ইসরায়েল কোথাও জয়ী হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ইসরায়েল অন্তত একটি ফ্রন্টে জয়লাভ করেছে, আর ১৫ শতাংশ নাগরিক কোনো মন্তব্য করেননি।

জরিপ অনুযায়ী, পৃথক ফ্রন্টগুলোতে জয়ের হার নিয়ে নাগরিকদের ধারণা অত্যন্ত নিম্নমুখী। সিরিয়ায় অভিযানের ক্ষেত্রে জয়ের কথা ভাবছেন মাত্র ১৭ শতাংশ, আর গাজা ও ইরানের ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ১৬ শতাংশে। লেবানন সীমান্তে অভিযানের বিষয়ে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ আশাবাদী। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে ইয়েমেন (১২ শতাংশ) এবং পশ্চিম তীরের (১১ শতাংশ) ক্ষেত্রে।

নিরাপত্তা সংকটের বিষয়ে ৭৩ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি বজায় থাকা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি এবং ভবিষ্যতে ৭ অক্টোবরের মতো আরেকটি হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ নাগরিক এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও বিচারিক ফ্রন্টেও বিভক্তি স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ ইসরায়েলি চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার দুর্নীতির মামলাগুলো থেকে সাধারণ ক্ষমা (Pardon) দেওয়া হয়। তবে ২৬ শতাংশ এই চাপের বিরোধিতা করেছেন। উল্লেখ্য যে, নেতানিয়াহু ২০২০ সাল থেকে ঘুষ ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি এবং ২০২৪ সাল থেকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (ICC) অভিযুক্ত।

বিষয় : ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন ২০২৩ সালের পর কোনো যুদ্ধেই জয় পায়নি তেল আবিব

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানসহ একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিকই এই সামরিক অভিযানে কোনো বিজয় দেখছেন না। ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার সংস্থার (KAN) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে তেল আবিব কোনো একক যুদ্ধক্ষেত্রেই জয়লাভ করতে পারেনি। এই ফলাফল নেতানিয়াহু সরকারের সামরিক কৌশলের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার চরম সংকটকে প্রতিফলিত করছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর জরিপে উঠে এসেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ জনমতের এক হতাশাজনক চিত্র। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর থেকে শুরু হওয়া বহুমুখী সংঘাতে ইসরায়েল কোথাও জয়ী হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ইসরায়েল অন্তত একটি ফ্রন্টে জয়লাভ করেছে, আর ১৫ শতাংশ নাগরিক কোনো মন্তব্য করেননি।

জরিপ অনুযায়ী, পৃথক ফ্রন্টগুলোতে জয়ের হার নিয়ে নাগরিকদের ধারণা অত্যন্ত নিম্নমুখী। সিরিয়ায় অভিযানের ক্ষেত্রে জয়ের কথা ভাবছেন মাত্র ১৭ শতাংশ, আর গাজা ও ইরানের ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ১৬ শতাংশে। লেবানন সীমান্তে অভিযানের বিষয়ে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ আশাবাদী। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে ইয়েমেন (১২ শতাংশ) এবং পশ্চিম তীরের (১১ শতাংশ) ক্ষেত্রে।

নিরাপত্তা সংকটের বিষয়ে ৭৩ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, হামাস ও হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি বজায় থাকা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি এবং ভবিষ্যতে ৭ অক্টোবরের মতো আরেকটি হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ নাগরিক এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও বিচারিক ফ্রন্টেও বিভক্তি স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ ইসরায়েলি চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন যাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তার দুর্নীতির মামলাগুলো থেকে সাধারণ ক্ষমা (Pardon) দেওয়া হয়। তবে ২৬ শতাংশ এই চাপের বিরোধিতা করেছেন। উল্লেখ্য যে, নেতানিয়াহু ২০২০ সাল থেকে ঘুষ ও বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি এবং ২০২৪ সাল থেকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (ICC) অভিযুক্ত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত