শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

সরকারি ও গ্রাম সভার জমি উদ্ধারের নামে মুসলিম ধর্মীয় উপাসনালয় টার্গেট করার অভিযোগ; এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি

উত্তরপ্রদেশে আবারও বুলডোজার আতঙ্ক: মোরাদাবাদে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মসজিদ



 উত্তরপ্রদেশে আবারও বুলডোজার আতঙ্ক: মোরাদাবাদে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মসজিদ

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার বের খেরা গ্রামে তথাকথিত 'অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ' অভিযানের নামে একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। বুধবার (১৭ জুন) ভারী পুলিশ বাহিনী এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চরম নিরাপত্তার মধ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রশাসন এটিকে সরকারি জমি উদ্ধার দাবি করলেও, স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় উপাসনালয় ও স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রশাসনের 'বুলডোজার নীতি' অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার শিকার হয়েছে মোরাদাবাদ জেলার ভাগপতপুর থানার অন্তর্গত বের খেরা গ্রামের একটি মসজিদ।

মোরাদাবাদ গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার (এসপি) কুঁওয়ার আকাশ সিং জানান, বের খেরা গ্রামে গ্রাম সভার জমিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজস্ব নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রশাসন এটিকে 'অননুমোদিত' বা অবৈধ আখ্যা দিয়ে বুধবার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে। অভিযান চলাকালে যেকোনো ধরনের প্রতিরোধ বা বিক্ষোভ রুখতে পুরো এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রশাসনের দাবি, যে জমিতে মসজিদটি গড়ে উঠেছিল, তা মূলত সরকারি নথিতে "খাদ কে গাড্ডহে" (সার তৈরির গর্ত) হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এবং মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার উন্নয়ন ও অবৈধ উচ্ছেদের অজুহাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীকগুলোকে নিশানা করছে। কেবল এই মোরাদাবাদ জেলাতেই গত দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুন দিধৌরি গ্রামে একটি মসজিদ এবং ১৫ জুন কান্ত রোডের পাশে হযরত সুলতান শাহ বাবার মাজারটি একইভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুধু মোরাদাবাদ নয়, গত কয়েকদিনে বারানসীর কাশী রেলওয়ে স্টেশনের কাছের একটি মসজিদ, গাজিয়াবাদের একটি মাদ্রাসা, আগ্রার এমজি রোডের একটি মাজার এবং বাহরাইচে মহাসড়কের পাশের একটি মসজিদও একই রকম প্রশাসনিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। এই ক্রমাগত উচ্ছেদ অভিযানকে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


উত্তরপ্রদেশে আবারও বুলডোজার আতঙ্ক: মোরাদাবাদে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঐতিহাসিক মসজিদ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার বের খেরা গ্রামে তথাকথিত 'অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ' অভিযানের নামে একটি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। বুধবার (১৭ জুন) ভারী পুলিশ বাহিনী এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চরম নিরাপত্তার মধ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। প্রশাসন এটিকে সরকারি জমি উদ্ধার দাবি করলেও, স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় উপাসনালয় ও স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রশাসনের 'বুলডোজার নীতি' অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার শিকার হয়েছে মোরাদাবাদ জেলার ভাগপতপুর থানার অন্তর্গত বের খেরা গ্রামের একটি মসজিদ।

মোরাদাবাদ গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার (এসপি) কুঁওয়ার আকাশ সিং জানান, বের খেরা গ্রামে গ্রাম সভার জমিতে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। রাজস্ব নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রশাসন এটিকে 'অননুমোদিত' বা অবৈধ আখ্যা দিয়ে বুধবার বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে। অভিযান চলাকালে যেকোনো ধরনের প্রতিরোধ বা বিক্ষোভ রুখতে পুরো এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রশাসনের দাবি, যে জমিতে মসজিদটি গড়ে উঠেছিল, তা মূলত সরকারি নথিতে "খাদ কে গাড্ডহে" (সার তৈরির গর্ত) হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এবং মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার উন্নয়ন ও অবৈধ উচ্ছেদের অজুহাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীকগুলোকে নিশানা করছে। কেবল এই মোরাদাবাদ জেলাতেই গত দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুন দিধৌরি গ্রামে একটি মসজিদ এবং ১৫ জুন কান্ত রোডের পাশে হযরত সুলতান শাহ বাবার মাজারটি একইভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুধু মোরাদাবাদ নয়, গত কয়েকদিনে বারানসীর কাশী রেলওয়ে স্টেশনের কাছের একটি মসজিদ, গাজিয়াবাদের একটি মাদ্রাসা, আগ্রার এমজি রোডের একটি মাজার এবং বাহরাইচে মহাসড়কের পাশের একটি মসজিদও একই রকম প্রশাসনিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। এই ক্রমাগত উচ্ছেদ অভিযানকে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ