ভারতে বিগত মে মাসে অন্তত ৭৪টি সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৬৩টি ঘটনাই চরমপন্থীদের দ্বারা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা ও নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা, সামাজিক বয়কট এবং শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।
ভারতে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির নিপীড়ন ও পদ্ধতিগত সহিংসতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশটিতে অন্তত ৭৪টি ভয়াবহ ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ, অর্থাৎ ৬৩টি ঘটনার শিকার হয়েছেন অসহায় মুসলিমরা। এ ছাড়া দলিত ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে ৫টি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া তাণ্ডব ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যটিতে মুসলিমদের ওপর উগ্রবাদী হামলা তীব্রতর হয়েছে। নন্দীগ্রামের ভোটের পর উগ্র সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে উস্কানি দিয়েছেন বিজেপি নেতারা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দার্জিলিং, কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং কলকাতায়।
কোচবিহারের দিনহাটায় স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণের জন্য তৈরি একটি প্রতীকী স্থাপনা পুড়িয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা। দার্জিলিংয়ের জোরপোখরি এলাকায় একদল উগ্রপন্থী একটি মসজিদের ছাদে উঠে জোরপূর্বক জাফরান (গেরুয়া) পতাকা উত্তোলন করে এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। এমনকি বাঙালির চিরায়ত মৎস্য সংস্কৃতির বিপরীতে গিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক আমিষ ও মাছের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো।
ঈদের পবিত্রতায় উগ্রবাদের ছায়া
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের মেয়র সুনিতা দয়াল দুই মুসলিম শিশুর মাংসের ব্যাগ বহন করা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে চিৎকার ও কটূক্তি করেন, যা জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মোজাফফরনগরে একটি খাবারের রিভিউ ভিডিওতে ভুলবশত কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটি মন্দিরের দৃশ্য চলে আসায় আনাস নামের এক মুসলিম ফুড ভ্লগারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মুম্বাই ও গুজরাটসহ বিভিন্ন স্থানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা মুসলিমদের কোরবানির পশু ক্রয় ও ধর্মীয় আচার পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। মুম্বাইয়ের একটি আবাসনে মুসলিমদের কোরবানি রুখতে উগ্রপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে শুকর নিয়ে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীনদের ইসলামোফোবিয়া ও উস্কানি
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিরাই প্রকাশ্যে উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জনসমক্ষে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে মুসলিমদের "সবুজ সাপ" বলে অভিহিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মুসলিমদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এছাড়া হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিংকি চৌধুরী এক অসহায় মুসলিমের খাবার কেড়ে নিয়ে ঘোষণা করেন যে কোনো মুসলিমকে খাবার দেওয়া হবে না। গুজরাটে গরু জবাইয়ের মিথ্যা অভিযোগে এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশের গাড়ির বনেটের সাথে বেঁধে রাখা হয়। দিল্লিতে আরবাজ (২৬) নামের এক তরুণকে তুচ্ছ ঘটনায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
খ্রিস্টান ও দলিতদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন
মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও দলিতরাও এই উগ্রবাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় বেশ কিছু খ্রিস্টান পরিবারকে জোরপূর্বক হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা না করায় তাদের সুপেয় পানির উৎস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ছাতরপুরে একটি স্থানীয় মন্দিরে পর্যাপ্ত গম দিতে না পারায় এক দলিত পরিবারকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই বিষাক্ত বিস্তার ভারতের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন এবং ভারতের আইনি কাঠামোর নিরীখে এই ঘটনাগুলো সরাসরি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ভারতের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের উস্কানিমূলক বক্তব্য অপরাধীদের দায়মুক্তি দিচ্ছে। শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন, খাদ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া বহির্ভূতভাবে নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভারতের আইনশৃঙ্খলার নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসেও ভারতে ৬১টি একই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা, এবং ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিকল্পিত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। মে মাসের ঘটনাগুলো সেই চলমান কাঠামোগত নিপীড়নেরই ধারাবাহিকতা।
মে মাসের এই ৭৪টি ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভারতে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিদ্বেষ তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বিচার বিভাগ ও স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অনতিবিলম্বে কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
ভারতে বিগত মে মাসে অন্তত ৭৪টি সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৬৩টি ঘটনাই চরমপন্থীদের দ্বারা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা ও নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা, সামাজিক বয়কট এবং শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।
ভারতে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির নিপীড়ন ও পদ্ধতিগত সহিংসতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশটিতে অন্তত ৭৪টি ভয়াবহ ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ, অর্থাৎ ৬৩টি ঘটনার শিকার হয়েছেন অসহায় মুসলিমরা। এ ছাড়া দলিত ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে ৫টি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া তাণ্ডব ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যটিতে মুসলিমদের ওপর উগ্রবাদী হামলা তীব্রতর হয়েছে। নন্দীগ্রামের ভোটের পর উগ্র সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে উস্কানি দিয়েছেন বিজেপি নেতারা, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দার্জিলিং, কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং কলকাতায়।
কোচবিহারের দিনহাটায় স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণের জন্য তৈরি একটি প্রতীকী স্থাপনা পুড়িয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা। দার্জিলিংয়ের জোরপোখরি এলাকায় একদল উগ্রপন্থী একটি মসজিদের ছাদে উঠে জোরপূর্বক জাফরান (গেরুয়া) পতাকা উত্তোলন করে এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। এমনকি বাঙালির চিরায়ত মৎস্য সংস্কৃতির বিপরীতে গিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক আমিষ ও মাছের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো।
ঈদের পবিত্রতায় উগ্রবাদের ছায়া
পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের মেয়র সুনিতা দয়াল দুই মুসলিম শিশুর মাংসের ব্যাগ বহন করা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে চিৎকার ও কটূক্তি করেন, যা জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের স্পষ্ট লঙ্ঘন। মোজাফফরনগরে একটি খাবারের রিভিউ ভিডিওতে ভুলবশত কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটি মন্দিরের দৃশ্য চলে আসায় আনাস নামের এক মুসলিম ফুড ভ্লগারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মুম্বাই ও গুজরাটসহ বিভিন্ন স্থানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা মুসলিমদের কোরবানির পশু ক্রয় ও ধর্মীয় আচার পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। মুম্বাইয়ের একটি আবাসনে মুসলিমদের কোরবানি রুখতে উগ্রপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে শুকর নিয়ে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীনদের ইসলামোফোবিয়া ও উস্কানি
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিরাই প্রকাশ্যে উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জনসমক্ষে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে মুসলিমদের "সবুজ সাপ" বলে অভিহিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মুসলিমদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
এছাড়া হিন্দু রক্ষা দলের প্রধান পিংকি চৌধুরী এক অসহায় মুসলিমের খাবার কেড়ে নিয়ে ঘোষণা করেন যে কোনো মুসলিমকে খাবার দেওয়া হবে না। গুজরাটে গরু জবাইয়ের মিথ্যা অভিযোগে এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পুলিশের গাড়ির বনেটের সাথে বেঁধে রাখা হয়। দিল্লিতে আরবাজ (২৬) নামের এক তরুণকে তুচ্ছ ঘটনায় নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
খ্রিস্টান ও দলিতদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন
মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও দলিতরাও এই উগ্রবাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় বেশ কিছু খ্রিস্টান পরিবারকে জোরপূর্বক হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তা না করায় তাদের সুপেয় পানির উৎস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ছাতরপুরে একটি স্থানীয় মন্দিরে পর্যাপ্ত গম দিতে না পারায় এক দলিত পরিবারকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই বিষাক্ত বিস্তার ভারতের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী কাঠামোকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন এবং ভারতের আইনি কাঠামোর নিরীখে এই ঘটনাগুলো সরাসরি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ভারতের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের উস্কানিমূলক বক্তব্য অপরাধীদের দায়মুক্তি দিচ্ছে। শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন, খাদ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া বহির্ভূতভাবে নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের চরম পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভারতের আইনশৃঙ্খলার নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসেও ভারতে ৬১টি একই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা, এবং ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিকল্পিত ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। মে মাসের ঘটনাগুলো সেই চলমান কাঠামোগত নিপীড়নেরই ধারাবাহিকতা।
মে মাসের এই ৭৪টি ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভারতে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিদ্বেষ তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চ প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বিচার বিভাগ ও স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অনতিবিলম্বে কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন