তুরস্কের ইস্তাম্বুলের স্বনামধন্য ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনের আয়াত সংবলিত একটি ব্যানার কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক জোরপূর্বক ঢেকে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সমাবর্তন প্রোটোকল ও নিয়মাবলী পর্যালোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের গ্র্যাজুয়েশন বা সমাবর্তন অনুষ্ঠান চলাকালীন এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করলে, অন্য একটি ছাত্রদল এসে ইচ্ছাকৃতভাবে সেটির সামনে দাঁড়িয়ে তা আড়াল করে দেয় এবং উপস্থিত একাংশ করতালি দিয়ে এই বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানায়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এরই প্রেক্ষিতে আজ ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে
"আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় আমাদের সমস্ত স্নাতকদের এই বিশেষ দিনটি নির্বিঘ্নে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপন করার লক্ষ্য রাখে। সমাবর্তনে আমাদের কিছু শিক্ষার্থীর ব্যানার প্রদর্শন এবং অন্য কিছু শিক্ষার্থীর তাতে আপত্তি ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা যে দৃশ্য তৈরি করেছে, তা আমাদের সমাবর্তনের আনন্দকে ম্লান করেছে।"
ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সংবিধানের মৌলিক নীতি, জাতীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতার প্রতি সর্বদা সম্পূর্ণ অনুগত রয়েছে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসের স্বাধীনতার গ্যারান্টার। আমরা আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর বিশ্বাসের কারণে নিপীড়িত হওয়া বা অন্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা তাদের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়াকে সঠিক মনে করি না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ধর্ম বা বিশ্বাস-বিরোধিতার সাথে যুক্ত করার চেষ্টা আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস ও সর্বজনীন শিক্ষার ধারণার প্রতি চরম অবিচার।"
পবিত্র কুরআনের আয়াত সংবলিত ব্যানারটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই ব্যানার প্রদর্শনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফটো সেশনের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ব্যানারে থাকা পবিত্র কুরআনের আয়াতের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
"এই ব্যানারের প্রতি যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে এবং এর দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। কোনো পবিত্র মূল্যবোধ বা বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।"
বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের ইসলাম-বিদ্বেষী ভাবমূর্তি খণ্ডন করতে গিয়ে বিবৃতিতে আরও যোগ করেছে যে, ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই কুফি লিপিতে 'আল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদ' নাম খোদাই করা রয়েছে। সুতরাং, কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ইসলামের বিপক্ষে নয়।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ইতোমধ্যে তাত্ক্ষণিকভাবে একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, তারা অতীতে যেমন বিশ্বাসের স্বাধীনতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি এর অন্যতম শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে যাবে।
বিষয় : তুরস্ক

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের স্বনামধন্য ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনের আয়াত সংবলিত একটি ব্যানার কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক জোরপূর্বক ঢেকে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সমাবর্তন প্রোটোকল ও নিয়মাবলী পর্যালোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের গ্র্যাজুয়েশন বা সমাবর্তন অনুষ্ঠান চলাকালীন এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করলে, অন্য একটি ছাত্রদল এসে ইচ্ছাকৃতভাবে সেটির সামনে দাঁড়িয়ে তা আড়াল করে দেয় এবং উপস্থিত একাংশ করতালি দিয়ে এই বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানায়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এরই প্রেক্ষিতে আজ ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে
"আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় আমাদের সমস্ত স্নাতকদের এই বিশেষ দিনটি নির্বিঘ্নে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপন করার লক্ষ্য রাখে। সমাবর্তনে আমাদের কিছু শিক্ষার্থীর ব্যানার প্রদর্শন এবং অন্য কিছু শিক্ষার্থীর তাতে আপত্তি ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা যে দৃশ্য তৈরি করেছে, তা আমাদের সমাবর্তনের আনন্দকে ম্লান করেছে।"
ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সংবিধানের মৌলিক নীতি, জাতীয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং একাডেমিক স্বাধীনতার প্রতি সর্বদা সম্পূর্ণ অনুগত রয়েছে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসের স্বাধীনতার গ্যারান্টার। আমরা আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর বিশ্বাসের কারণে নিপীড়িত হওয়া বা অন্য শিক্ষার্থীদের দ্বারা তাদের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়াকে সঠিক মনে করি না। আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ধর্ম বা বিশ্বাস-বিরোধিতার সাথে যুক্ত করার চেষ্টা আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস ও সর্বজনীন শিক্ষার ধারণার প্রতি চরম অবিচার।"
পবিত্র কুরআনের আয়াত সংবলিত ব্যানারটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে যে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই ব্যানার প্রদর্শনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফটো সেশনের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ব্যানারে থাকা পবিত্র কুরআনের আয়াতের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে:
"এই ব্যানারের প্রতি যে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে এবং এর দৃশ্যমানতা বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। কোনো পবিত্র মূল্যবোধ বা বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।"
বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের ইসলাম-বিদ্বেষী ভাবমূর্তি খণ্ডন করতে গিয়ে বিবৃতিতে আরও যোগ করেছে যে, ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই কুফি লিপিতে 'আল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদ' নাম খোদাই করা রয়েছে। সুতরাং, কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ইসলামের বিপক্ষে নয়।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ইতোমধ্যে তাত্ক্ষণিকভাবে একটি প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইয়েদিতেপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, তারা অতীতে যেমন বিশ্বাসের স্বাধীনতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি এর অন্যতম শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন