ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলায় পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এক মুসলিম নারীকে উগ্র চরমপন্থী জনতার চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। মাধোপুর এলাকার চরকি পাহাড়ে পৌঁছানোর পর বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রায় ১৫ জনের একটি উগ্র মব তাদের ঘেরাও করে জোরপূর্বক নারীর নিকাব খুলে দেয় এবং তাঁর সঙ্গী আত্মীয়কে দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার সিঁদুর পরিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্রে তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।
ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলায় চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মনোভাবাপন্ন একদল উগ্র জনতার হাতে এক মুসলিম নারী ও তাঁর সঙ্গী চরম অপমান ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক নিকাব খুলতে বাধ্য করা এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সিঁদুর পরাতে বাধ্য করার মতো জঘন্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের (Hate Crime) ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
উগ্র মবের বর্বরতা
ঘটনাটি ঘটেছে নওয়াদা জেলার মাধোপুর, চরকি পাহাড় ও কমলপুর সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী মুসলিম নারী তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে বাইকে করে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। দীর্ঘ পথ চলার কারণে ক্লান্ত হয়ে তাঁরা চরকি পাহাড় এলাকার একটি গাছের নিচে একটু বিশ্রামের জন্য থামেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ধর্মেন্দ্র কুমার এবং বাহাদুর চৌধুরীর নেতৃত্বে অন্তত ১৫ জনের একটি চরমপন্থী উগ্র দল তাদের চারপাশ থেকে ঘেরাও করে। উগ্র জনতা প্রথমে তাদের পরিচয় নিয়ে জেরা শুরু করে এবং পরবর্তীতে নারীটিকে তাঁর মুখ ঢেকে রাখা নিকাব খুলতে বাধ্য করে। চরম মানসিক নির্যাতন ও হুমকির মুখে উগ্র জনতা নারীর সঙ্গে থাকা মুসলিম পুরুষ সঙ্গীকে দিয়ে জোরপূর্বক তাঁর কপালে একাধিকবার সিঁদুর পরিয়ে দেয়, যা হিন্দু বিবাহরীতির অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় মুসলিম নারীটি হাত জোড় আকুতি করে চরমপন্থী জনতার কাছে মিনতি করছেন যেন তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়। কিন্তু উগ্র মব তাঁর আকুল আবেদন বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে হাসাহাসি করে এবং বারবার হিন্দু ধর্মীয় প্রথা চাপিয়ে দিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করতে থাকে।
পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সঙ্গী কোনোক্রমে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উগ্র জনতা তাদের পিছু নেয়। তাদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিও রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মোটরসাইকেলটি প্রথমে পার্বতী দেবী নামের এক নারীর নামে নিবন্ধিত ছিল, যিনি পরবর্তীতে এটি ফিরোজা খাতুন নামের এক মুসলিম নারীর কাছে বিক্রি করেছিলেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আসল তথ্য প্রকাশ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই নওয়াদা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (SDPO) রাহুল সিং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে মোট ১৫ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত ধর্মেন্দ্র কুমার ও বাহাদুর চৌধুরীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
ভুল তথ্য ও উগ্র রটনা রোধে পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সঙ্গী উভয়েই একই পরিবারের আত্মীয় এবং তাঁরা মুসলিম সম্প্রদায়ের। ভিন্ন ধর্মের জোড়া বানিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার যে চেষ্টা করা হচ্ছিল, পুলিশের বক্তব্যে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও স্বাধীন চলাচলের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত আক্রমণ ও মব জাস্টিসের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আইনের শাসন অমান্য করে প্রকাশ্যে একজন মুসলিম নারীর শালীনতা ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত হানার এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলায় পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এক মুসলিম নারীকে উগ্র চরমপন্থী জনতার চরম হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। মাধোপুর এলাকার চরকি পাহাড়ে পৌঁছানোর পর বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রায় ১৫ জনের একটি উগ্র মব তাদের ঘেরাও করে জোরপূর্বক নারীর নিকাব খুলে দেয় এবং তাঁর সঙ্গী আত্মীয়কে দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার সিঁদুর পরিয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সূত্রে তদন্তে নেমে পুলিশ ইতোমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।
ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলায় চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী মনোভাবাপন্ন একদল উগ্র জনতার হাতে এক মুসলিম নারী ও তাঁর সঙ্গী চরম অপমান ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক নিকাব খুলতে বাধ্য করা এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সিঁদুর পরাতে বাধ্য করার মতো জঘন্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের (Hate Crime) ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
উগ্র মবের বর্বরতা
ঘটনাটি ঘটেছে নওয়াদা জেলার মাধোপুর, চরকি পাহাড় ও কমলপুর সংলগ্ন এলাকায়। ভুক্তভোগী মুসলিম নারী তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে বাইকে করে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। দীর্ঘ পথ চলার কারণে ক্লান্ত হয়ে তাঁরা চরকি পাহাড় এলাকার একটি গাছের নিচে একটু বিশ্রামের জন্য থামেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ধর্মেন্দ্র কুমার এবং বাহাদুর চৌধুরীর নেতৃত্বে অন্তত ১৫ জনের একটি চরমপন্থী উগ্র দল তাদের চারপাশ থেকে ঘেরাও করে। উগ্র জনতা প্রথমে তাদের পরিচয় নিয়ে জেরা শুরু করে এবং পরবর্তীতে নারীটিকে তাঁর মুখ ঢেকে রাখা নিকাব খুলতে বাধ্য করে। চরম মানসিক নির্যাতন ও হুমকির মুখে উগ্র জনতা নারীর সঙ্গে থাকা মুসলিম পুরুষ সঙ্গীকে দিয়ে জোরপূর্বক তাঁর কপালে একাধিকবার সিঁদুর পরিয়ে দেয়, যা হিন্দু বিবাহরীতির অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় মুসলিম নারীটি হাত জোড় আকুতি করে চরমপন্থী জনতার কাছে মিনতি করছেন যেন তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়। কিন্তু উগ্র মব তাঁর আকুল আবেদন বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে হাসাহাসি করে এবং বারবার হিন্দু ধর্মীয় প্রথা চাপিয়ে দিয়ে মানসিকভাবে হেনস্তা করতে থাকে।
পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সঙ্গী কোনোক্রমে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উগ্র জনতা তাদের পিছু নেয়। তাদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিও রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মোটরসাইকেলটি প্রথমে পার্বতী দেবী নামের এক নারীর নামে নিবন্ধিত ছিল, যিনি পরবর্তীতে এটি ফিরোজা খাতুন নামের এক মুসলিম নারীর কাছে বিক্রি করেছিলেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও আসল তথ্য প্রকাশ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই নওয়াদা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা (SDPO) রাহুল সিং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে মোট ১৫ জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল অভিযুক্ত ধর্মেন্দ্র কুমার ও বাহাদুর চৌধুরীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।
ভুল তথ্য ও উগ্র রটনা রোধে পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর সঙ্গী উভয়েই একই পরিবারের আত্মীয় এবং তাঁরা মুসলিম সম্প্রদায়ের। ভিন্ন ধর্মের জোড়া বানিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার যে চেষ্টা করা হচ্ছিল, পুলিশের বক্তব্যে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও স্বাধীন চলাচলের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত আক্রমণ ও মব জাস্টিসের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আইনের শাসন অমান্য করে প্রকাশ্যে একজন মুসলিম নারীর শালীনতা ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত হানার এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

আপনার মতামত লিখুন