ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। সোমবার (২০ জুলাই) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রশাসনিক এই পদক্ষেপ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে ঠেলে দেবে। বিচারবিভাগীয় একাধিক নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উত্তর প্রদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিক ভবন ধ্বংসের পথ পরিহার করে আইনসম্মত বিকল্প বা নিয়মিতকরণের আহ্বান জানান।
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশ জুড়েই চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এবার প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে ভারতের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থী উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি।
এক বিশেষ বিবৃতিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলে কেবল যে ইট-পাথরের স্থাপনা ধ্বংস হবে তা নয়, বরং এতে হাজার হাজার নির্দোষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে সংবিধানে স্বীকৃত তাদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার খর্ব হবে। একটি স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কার্যত জাতীয় শিক্ষাসম্পদেরই বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করার শামিল।
মাওলানা মাদানি আইনগত দৃষ্টিকোণ বিশ্লেষণ করে বলেন, যদি কোনো ভবন নির্মাণে নকশাগত বা বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটেও থাকে, তবে কেবল স্থাপনা ভেঙে ফেলাই তার একমাত্র বা চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে না। যদি স্থাপনাটি মূল ভূমি ব্যবহার বা মাস্টারপ্ল্যানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী না হয়, তবে প্রচলিত আইন অনুসারেই সংশোধিত নকশা অনুমোদন, জরিমানা বা কম্পাউন্ডিং ফি আদায় কিংবা উন্নয়ন ফি গ্রহণের মাধ্যমে তা নিয়মিতকরণের (রেগুলারাইজেশন) সুস্পষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে ভারতীয় বিভিন্ন আদালতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানপুরের রুমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বারাণসী, ঝাঁসি ও এলাহাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত মামলায় দেশটির আদালতগুলো তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের পরিবর্তে নিয়মিতকরণ ও আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল।
এমতাবস্থায় হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও জাতীয় এই শিক্ষাসম্পদ রক্ষায় উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতি চরম কঠোরতা পরিহার করে মানবিক ও আইনগত নমনীয়তা প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
উল্লেখ্য, ভারতের সমাজবাদী পার্টির কারাবন্দি বিশিষ্ট মুসলিম নেতা আজম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৮টি ভবন অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য—যে সময়ে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছিল, সে সময় উক্ত এলাকাটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রে বা আওতাভুক্ত ছিল না। যদিও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয় : ভারত সংখ্যালঘু মাহমুদ মাদানি

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। সোমবার (২০ জুলাই) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রশাসনিক এই পদক্ষেপ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে ঠেলে দেবে। বিচারবিভাগীয় একাধিক নজির স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উত্তর প্রদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিক ভবন ধ্বংসের পথ পরিহার করে আইনসম্মত বিকল্প বা নিয়মিতকরণের আহ্বান জানান।
ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশ জুড়েই চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এবার প্রশাসনিক এই পদক্ষেপকে ভারতের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক দায়িত্বের পরিপন্থী উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি।
এক বিশেষ বিবৃতিতে মাওলানা মাহমুদ মাদানি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হলে কেবল যে ইট-পাথরের স্থাপনা ধ্বংস হবে তা নয়, বরং এতে হাজার হাজার নির্দোষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে সংবিধানে স্বীকৃত তাদের মৌলিক শিক্ষার অধিকার খর্ব হবে। একটি স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কার্যত জাতীয় শিক্ষাসম্পদেরই বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করার শামিল।
মাওলানা মাদানি আইনগত দৃষ্টিকোণ বিশ্লেষণ করে বলেন, যদি কোনো ভবন নির্মাণে নকশাগত বা বিধিবিধানের ব্যত্যয় ঘটেও থাকে, তবে কেবল স্থাপনা ভেঙে ফেলাই তার একমাত্র বা চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে না। যদি স্থাপনাটি মূল ভূমি ব্যবহার বা মাস্টারপ্ল্যানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী না হয়, তবে প্রচলিত আইন অনুসারেই সংশোধিত নকশা অনুমোদন, জরিমানা বা কম্পাউন্ডিং ফি আদায় কিংবা উন্নয়ন ফি গ্রহণের মাধ্যমে তা নিয়মিতকরণের (রেগুলারাইজেশন) সুস্পষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে ভারতীয় বিভিন্ন আদালতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানপুরের রুমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বারাণসী, ঝাঁসি ও এলাহাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত মামলায় দেশটির আদালতগুলো তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের পরিবর্তে নিয়মিতকরণ ও আইনসম্মত বিকল্প ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল।
এমতাবস্থায় হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও জাতীয় এই শিক্ষাসম্পদ রক্ষায় উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতি চরম কঠোরতা পরিহার করে মানবিক ও আইনগত নমনীয়তা প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
উল্লেখ্য, ভারতের সমাজবাদী পার্টির কারাবন্দি বিশিষ্ট মুসলিম নেতা আজম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৮টি ভবন অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য—যে সময়ে ভবনগুলো নির্মিত হয়েছিল, সে সময় উক্ত এলাকাটি রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্রে বা আওতাভুক্ত ছিল না। যদিও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন