ভারতে চলন্ত ট্রেনের ভেতরে তিন যুবককে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, চরম আতঙ্কিত ও ছেঁড়া পোশাকে মাটিতে বসে থাকা তিন যুবক নিজেদের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানান। তবে হামলাকারীরা দয়া দেখানোর পরিবর্তে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যায় এবং ভিড়ের মধ্য থেকে উসকানি দেওয়া হয়।
ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর উগ্র গোষ্ঠীর হামলা ও জাতিগত নিপীড়নের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতের একটি চলন্ত ট্রেনে চরম বিভৎস ও হৃদয়বিদারক এক হামলার চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের একটি বগিতে তিন যুবককে মেঝেতে বসিয়ে ঘিরে রেখেছে একদল যাত্রী। আক্রান্ত যুবকদের জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল এবং তারা চরম শারীরিক নিপীড়নে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে তারা হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বারবার আকুতি-মিনতি করছিলেন। কিন্তু উপস্থিত যাত্রীদের কেউই তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসেনি, বরং উসকানি দিয়ে সহিংসতা আরও উসকে দেওয়া হয়।
ভিডিওধারণকারী ব্যক্তিকে বিহারের আঞ্চলিক ভাষায় চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আরে, এই তিনজন একদম পাকা বাংলাদেশি! মারো এদের!” ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যের পর ঘিরে থাকা জনতা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, ভারতে কেবল বাংলাভাষী কিংবা নির্দিষ্ট পরিচয় বা পোশাকের কারণে সাধারণ মানুষকে ‘বাংলাদেশি বা অনুপ্রবেশকারী’ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা ও গণপিটুনি দেওয়ার এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণেই সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষ এ ধরনের সঙ্ঘবদ্ধ হিংস্রতার বলি হচ্ছেন।
প্রচারিত ভিডিওটির সময়কাল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ট্রেনের ভেতর প্রকাশ্যে এই ধরনের নির্মম নির্যাতন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
ভারতে চলন্ত ট্রেনের ভেতরে তিন যুবককে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে মারধরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, চরম আতঙ্কিত ও ছেঁড়া পোশাকে মাটিতে বসে থাকা তিন যুবক নিজেদের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানান। তবে হামলাকারীরা দয়া দেখানোর পরিবর্তে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যায় এবং ভিড়ের মধ্য থেকে উসকানি দেওয়া হয়।
ভারতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর ওপর উগ্র গোষ্ঠীর হামলা ও জাতিগত নিপীড়নের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ভারতের একটি চলন্ত ট্রেনে চরম বিভৎস ও হৃদয়বিদারক এক হামলার চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনের একটি বগিতে তিন যুবককে মেঝেতে বসিয়ে ঘিরে রেখেছে একদল যাত্রী। আক্রান্ত যুবকদের জামাকাপড় ছেঁড়া ছিল এবং তারা চরম শারীরিক নিপীড়নে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। জীবন বাঁচাতে তারা হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বারবার আকুতি-মিনতি করছিলেন। কিন্তু উপস্থিত যাত্রীদের কেউই তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসেনি, বরং উসকানি দিয়ে সহিংসতা আরও উসকে দেওয়া হয়।
ভিডিওধারণকারী ব্যক্তিকে বিহারের আঞ্চলিক ভাষায় চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আরে, এই তিনজন একদম পাকা বাংলাদেশি! মারো এদের!” ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্যের পর ঘিরে থাকা জনতা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ দীর্ঘ দিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, ভারতে কেবল বাংলাভাষী কিংবা নির্দিষ্ট পরিচয় বা পোশাকের কারণে সাধারণ মানুষকে ‘বাংলাদেশি বা অনুপ্রবেশকারী’ ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা ও গণপিটুনি দেওয়ার এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার কারণেই সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষ এ ধরনের সঙ্ঘবদ্ধ হিংস্রতার বলি হচ্ছেন।
প্রচারিত ভিডিওটির সময়কাল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ট্রেনের ভেতর প্রকাশ্যে এই ধরনের নির্মম নির্যাতন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন