রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) ব্যক্তির বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিয়েকে 'সমকামী ও বেআইনি বিবাহ' হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছে দেশের মূল্যবোধ আন্দোলন প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন আলেম ও সচেতন নাগরিক সমাজ। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্দিরে গিয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাবেক সংবাদ পাঠিকা ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিত্ব তাসনুভা আনান শিশির এবং এক সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরুষ। প্রথাগত পোশাক পরিধান করে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অন্য দশটি বিয়ের মতোই এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই মুহূর্তে পাত্র-পাত্রীর ভিন্ন পরিচয় বা পেছনের ইতিহাস জানার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না।
তবে বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজ, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় মর্যাদা, সামাজিক রীতি এবং দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
গত মঙ্গলবার 'মূল্যবোধ আন্দোলন' প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, আইনজীবীসহ ১২৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান। বিবৃতিতে এই বিবাহকে 'অবৈধ সমকামী রূপান্তর' বলে অভিহিত করা হয় এবং বিষয়টি দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন মন্দির কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—আইন ও ধর্মীয় রীতি পরিপন্থী একটি প্রক্রিয়া কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্পন্ন হতে পারলো? অন্যদিকে মানবাধিকার ও সমাজ সচেতন বহু নাগরিক বলছেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশ, যেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
বিতর্কের জেরে চকবাজার থানা পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) এবং ডিজিএফআই (DGFI)-এর কর্মকর্তারা ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করে বিয়ের নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজল দেবনাথ জানান, তাদের কাছে সমস্ত নথিপত্র স্বাভাবিক মনে হয়েছিল এবং প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত ইতিহাস যাচাইয়ের মতো কোনো ব্যবস্থা তাদের ছিল না। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
বিষয় : ঢাকা ট্রান্সজেন্ডার

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এক রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) ব্যক্তির বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিয়েকে 'সমকামী ও বেআইনি বিবাহ' হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছে দেশের মূল্যবোধ আন্দোলন প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন আলেম ও সচেতন নাগরিক সমাজ। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মন্দিরে গিয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সাবেক সংবাদ পাঠিকা ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিত্ব তাসনুভা আনান শিশির এবং এক সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরুষ। প্রথাগত পোশাক পরিধান করে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে অন্য দশটি বিয়ের মতোই এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই মুহূর্তে পাত্র-পাত্রীর ভিন্ন পরিচয় বা পেছনের ইতিহাস জানার কোনো সুযোগ তাদের ছিল না।
তবে বিয়ের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সনাতন ধর্মাবলম্বী সমাজ, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা আন্দোলনকারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় মর্যাদা, সামাজিক রীতি এবং দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
গত মঙ্গলবার 'মূল্যবোধ আন্দোলন' প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আলেম-ওলামা, শিক্ষক, আইনজীবীসহ ১২৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানান। বিবৃতিতে এই বিবাহকে 'অবৈধ সমকামী রূপান্তর' বলে অভিহিত করা হয় এবং বিষয়টি দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। অ্যাক্টিভিস্ট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন মন্দির কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—আইন ও ধর্মীয় রীতি পরিপন্থী একটি প্রক্রিয়া কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে সম্পন্ন হতে পারলো? অন্যদিকে মানবাধিকার ও সমাজ সচেতন বহু নাগরিক বলছেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশ, যেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
বিতর্কের জেরে চকবাজার থানা পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) এবং ডিজিএফআই (DGFI)-এর কর্মকর্তারা ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করে বিয়ের নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজল দেবনাথ জানান, তাদের কাছে সমস্ত নথিপত্র স্বাভাবিক মনে হয়েছিল এবং প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত ইতিহাস যাচাইয়ের মতো কোনো ব্যবস্থা তাদের ছিল না। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন