উপমহাদেশের শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা, নিজের মতো অন্যের কল্যাণ চাওয়া এবং অতিরিক্ত অহেতুক হাসি-তামাশা পরিহার করাই একজন মানুষকে আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ মুমিন হিসেবে গড়ে তোলে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার পূর্বের বয়ান, খুতবা প্রদান ও ইমামতিকালে তিনি সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসের আলোকে উম্মাহর প্রতি এই আহ্বান জানান।
উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও হারাম থেকে নিজেকে সংযত রাখাই প্রকৃত ইবাদতের মূল ভিত্তি।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পূর্বে সমবেত লাখো মুসল্লির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ হেদায়েতি বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মহানবীর (সা.) সেই পাঁচ মূল্যবান নসিহত
বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি ঐতিহাসিক হাদিস তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কে আমার কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা গ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে কিংবা অন্যদের তা শিক্ষা দেবে?’ তখন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আগ্রহভরে সাড়া দিলে নবী করিম (সা.) তাঁর হাত ধরে পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।
দেওবন্দের মুহতামিম এই পাঁচ নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন:
১. হারাম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংযত থাকা: প্রথম ও প্রধান নসিহত হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হারাম বর্জন করা। শুধু ইবাদতের সংখ্যা বাড়ানোই বড় বিষয় নয়; বরং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করাই মূল বিষয়। কোনো ভালো কাজ করা সহজ হলেও নফসের খাহেশ দমন করে হারাম থেকে দূরে থাকা কঠিন। যে ব্যক্তি হারাম বর্জন করে, সে-ই আল্লাহর বিচারে সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার।
২. আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্টি (কানাআত): আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকাই পরম স্বস্তি। বাহ্যিক অর্থ-সম্পদের চেয়ে অন্তরের তুষ্টি ও প্রাচ্ছুর্যই আসল ধন। অল্পে তুষ্ট থাকার এই বিরল গুণ অর্জন করতে পারলে মানুষ প্রকৃত অর্থেই ধনী হয়ে ওঠে।
৩. প্রতিবেশীর অধিকার ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ: প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যার অনিষ্ট ও মানসিক কষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে কখনো পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারে না।
৪. নিজের মতো অন্যের কল্যাণকামিতা: একজন প্রকৃত মুসলমানের অন্যতম পরিচয় হলো—তিনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, অন্য দ্বীনি ভাইয়ের জন্যও তা-ই পছন্দ করবেন। মুমিনের হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ সর্বদা নিরাপদ থাকবে।
৫. অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় হাসি পরিহার: অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং আল্লাহর জিকির থেকে দূরে সরায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো অট্টহাসি দিতেন না; বরং সংযত ও মৃদু হাসিতেই অভ্যস্ত ছিলেন। তাই সময় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও আত্মশুদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে।
জাতীয় মসজিদে এক অনন্য পরিবেশ
বয়ান শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ফকিহ মাওলানা আবদুল মালিক দেওবন্দের মুহতামিমের উর্দু বয়ানের মূল বার্তা সংক্ষেপে বাংলায় অনুবাদ করে মুসল্লিদের শোনান।
পরবর্তী সময়ে আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানীর ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মুক্তি, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও শান্তি কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
বিষয় : জাতীয় মসজিদ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
উপমহাদেশের শীর্ষ ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা, নিজের মতো অন্যের কল্যাণ চাওয়া এবং অতিরিক্ত অহেতুক হাসি-তামাশা পরিহার করাই একজন মানুষকে আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গ মুমিন হিসেবে গড়ে তোলে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার পূর্বের বয়ান, খুতবা প্রদান ও ইমামতিকালে তিনি সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসের আলোকে উম্মাহর প্রতি এই আহ্বান জানান।
উপমহাদেশের ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও হারাম থেকে নিজেকে সংযত রাখাই প্রকৃত ইবাদতের মূল ভিত্তি।
শুক্রবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পূর্বে সমবেত লাখো মুসল্লির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ হেদায়েতি বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।
মহানবীর (সা.) সেই পাঁচ মূল্যবান নসিহত
বয়ানের শুরুতে আল্লামা নোমানী হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি ঐতিহাসিক হাদিস তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কে আমার কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা গ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে কিংবা অন্যদের তা শিক্ষা দেবে?’ তখন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আগ্রহভরে সাড়া দিলে নবী করিম (সা.) তাঁর হাত ধরে পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।
দেওবন্দের মুহতামিম এই পাঁচ নীতি ব্যাখ্যা করে বলেন:
১. হারাম থেকে পূর্ণাঙ্গ সংযত থাকা: প্রথম ও প্রধান নসিহত হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হারাম বর্জন করা। শুধু ইবাদতের সংখ্যা বাড়ানোই বড় বিষয় নয়; বরং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করাই মূল বিষয়। কোনো ভালো কাজ করা সহজ হলেও নফসের খাহেশ দমন করে হারাম থেকে দূরে থাকা কঠিন। যে ব্যক্তি হারাম বর্জন করে, সে-ই আল্লাহর বিচারে সবচেয়ে বড় ইবাদতগুজার।
২. আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্টি (কানাআত): আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকাই পরম স্বস্তি। বাহ্যিক অর্থ-সম্পদের চেয়ে অন্তরের তুষ্টি ও প্রাচ্ছুর্যই আসল ধন। অল্পে তুষ্ট থাকার এই বিরল গুণ অর্জন করতে পারলে মানুষ প্রকৃত অর্থেই ধনী হয়ে ওঠে।
৩. প্রতিবেশীর অধিকার ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ: প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যার অনিষ্ট ও মানসিক কষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে কখনো পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারে না।
৪. নিজের মতো অন্যের কল্যাণকামিতা: একজন প্রকৃত মুসলমানের অন্যতম পরিচয় হলো—তিনি নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, অন্য দ্বীনি ভাইয়ের জন্যও তা-ই পছন্দ করবেন। মুমিনের হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ সর্বদা নিরাপদ থাকবে।
৫. অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় হাসি পরিহার: অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং আল্লাহর জিকির থেকে দূরে সরায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো অট্টহাসি দিতেন না; বরং সংযত ও মৃদু হাসিতেই অভ্যস্ত ছিলেন। তাই সময় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির ও আত্মশুদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে।
জাতীয় মসজিদে এক অনন্য পরিবেশ
বয়ান শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ফকিহ মাওলানা আবদুল মালিক দেওবন্দের মুহতামিমের উর্দু বয়ানের মূল বার্তা সংক্ষেপে বাংলায় অনুবাদ করে মুসল্লিদের শোনান।
পরবর্তী সময়ে আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানীর ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মুক্তি, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও শান্তি কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন